
শুক্রবার পার্কস্ট্রিটের এক জনপ্রিয় পাব-রেস্তোরাঁয় মাটনের বদলে গোমাংস পরিবেশন করাকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছিল সোশ্যাল মিডিয়া। রেস্তোরাঁর কর্মীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছিলেন সায়ক চক্রবর্তী। যার জেরে গ্রেফতার হন শেখ নাসির উদ্দিন। যা নিয়ে শহরজুড়ে প্রতিবাদ ওঠে। গ্রেফতারের ৪দিন পর জামিন পেলেন সেই কর্মী।
জানা গিয়েছে, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২৯৯ ধারায় (কোনও শ্রেণির ধর্ম বা ধর্মীয় বিশ্বাসকে অপমান করে তাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে ইচ্ছাকৃত আঘাত করা) মামলা দায়ের হয়েছিল ওই বেয়ারার বিরুদ্ধে। এই ধারা অনুযায়ী দোষীর তিন বছরের জেল, জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডই হতে পারে। সায়কের করা অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবারই ওই বেয়ারাকে গ্রেফতার করা হয়। আদালতে তোলা হলেও জামিন পাননি তিনি। বদলে তিন দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজত দেওয়া হয় নাসির উদ্দিনকে। আর এরপরই গোটা শহর পাশে দাঁড়ায় ওই কর্মীর, যিনি অনিচ্ছাকৃত ভল করেছিলেন।
রবিবারই পার্কস্ট্রিটের ওই রেস্তোরাঁর পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিবৃতি জারি করে ‘অনিচ্ছাকৃত ভুলের’ জন্য ক্ষমা চাওয়া হয়। যার কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর অভিযোগ প্রত্যাহার করেন সায়ক চক্রবর্তী। তবে খবর, বেয়ারা জামিন পেলেও সাম্প্রদায়িক হিংসায় উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে অভিনেতা-ইনফ্লুয়েন্সারের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর এখনও বহাল। এই অভিযোগ শনিবার রাতে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে দায়ের করেছিলেন নাট্যব্যক্তিত্ব।
শুক্রবার রাতে ওই রেস্তোরাঁয় ডিনার সারতে গিয়েছিলেন সায়ক। আর সেখানেই তাঁকে মাটন স্টেকের বদলে গোমাংস পরিবেশন করা হয়। সায়ক লাইভ ভিডিওতে গোটা ঘটনাটি জানিয়ে ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে নাড়াঘাঁটা করতেই বিষয়টি আরও জটিল হয়ে পড়ে। আর যা নিয়ে জনপ্রিয় ইউটিউবারকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে চলে ক্ষোভ-বিক্ষোভ, নানান কটুক্তি। এইসবের মাঝে সায়কের ফেসবুক থেকেও সেই ভিডিও সরে যায়। সায়কও রেস্তোরাঁর বিবৃতি সামনে রেখে বলেন, অলি পাব ক্ষমা চেয়েছে। তাই দয়া করে আর অন্য গল্প বানাবেন না। স্ক্রিপ্ট বা ওই জাতীয় কিছুর থিওরি আমাকে অবাক করছে। রাগের মাথায় থানায় গেছিলাম, ঠিক। এই ভুলে অলি পাবের গাছাড়া ভাবে আমার মাথার ঠিক ছিলো না। আমি কোনোদিনও গোমাংস মুখে নিইনি। এবার থেকে দেখেশুনে বুঝে চলব না হয়। আমি জনগণের উপর নির্ভরশীল, তাই জনগণ যা বলবেন সেটাই ঠিক, হয়ত। ওই ভদ্রলোক আর অলি পাবের বিরুদ্ধে আমি কমপ্লেন প্রত্যাহার করছি। আমার অলি পাবের ভুল নিয়ে সমস্যা ছিল। হতে পারে আমার রিঅ্যাকশনও ভুল ছিল, আমি দুঃখিত। অভিনেতার সংযোজন, ভবিষ্যতে ভ্লগ বানানোর ক্ষেত্রে আমি এই ধরণের কন্ট্রোভার্সিতে জড়াতে চাই না। আমার হিন্দু-মুসলিমের সমস্যা নেই। আমি নিজের কিছু ‘আচার’ মেনটেইন করতে চাই শুধু। আমার ভ্লগ আর কিছু ইনস্টগ্রাম কনটেন্ট সবাইকে এক হয়ে থাকার কথা আগেও বলত, পরেও বলবে। অনিচ্ছাকৃত ঘটনার জন্য আবারও দুঃখিত।