
টলিপাড়ার ব্যস্ততম পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়। ইন্ডাস্ট্রির যে কোনও ফিল্মি পার্টি হোক কিংবা তারকাদের ঘরোয়া আড্ডা, পরিচালককে একাই দেখা যায়। টিনসেল টাউনে বহুদিন ধরেই সৃজিতের দাম্পত্যে চিড় ধরার খবর শোনা যাচ্ছিল। যদিও রাফিয়াত রশিদ মিথিলা কিংবা সৃজিতের পক্ষ থেকে তাঁদের আলাদা থাকা নিয়ে কোনও কিছুই বলা হয়নি। তবে ২০২৩ সালের পর থেকে সৃজিত ও মিথিলাকে একসঙ্গে আর দেখা যায়নি। এখন কোথায় রয়েছেন মিথিলা?
২০২৩-এ শেষ বারের মতো দেখা গিয়েছিল সৃজিত মুখোপাধ্যায় ও রাফিয়াত রশিদ মিথিলাকে। এরপর তাঁদের নিয়ে একাধিকবার বিবাহবিচ্ছেদের গুঞ্জন শোনা গিয়েছে। মিথিলা অনেক আগেই মেয়ে আইরাকে নিয়ে বাংলাদেশে পাড়ি দিয়েছেন। সেখানেই মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করেছেন। তবে কেন তিনি সৃজিতের থেকে আলাদা হয়ে অন্যত্র থাকছেন, আদৌও মিথিলা পরিচালকের কাছে ফিরবেন কিনা তা নিয়েও কোনও মন্তব্য করেননি মিথিলা।
গত বছরই পিএইচডি শেষ করেছেন বাংলাদেশী অভিনেত্রী। সুইজারল্যান্ডের জেনেভা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আর্লি চাইল্ডহুড এডুকেশন বিষয়ে পিএইচডি করেছেন মিথিলা। ২০১৯ সালেই এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি-এর জন্য ভর্তি হয়েছিলেন মিথিলা। এখন কলকাতা ছেড়ে পাকাপাকিভাবে বাংলাদেশেই থাকেন অভিনেত্রী। সেখানেই একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। সম্প্রতি মিথিলাকে দেখা গিয়েছে নিই ইয়র্কের টাইমস স্কোয়ারে। সম্ভবত ঘুরতেই গিয়েছেন সৃজিতের স্ত্রী।
কলকাতায় আদৌও ফিরবেন কিনা মিথিলা তা জানা নেই। জেনিভা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেছেন মিথিলা। বাংলাদেশের বেসরকারি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি চাকরি করেন প্রায় ১১ বছর ধরে। সেখানে চাকরির সুবাদে প্রায়ই তাঁকে আফ্রিকা যেতে হয়। সেখানকার ছেলেমেয়েদের শিক্ষা সম্পর্কিত নানা প্রকল্পে যুক্ত এই বিশ্ববিদ্যালয়। অভিনয় এখন আর করেন না তিনি। টলিউডে কাজ করেছেন বেশ কয়েকটা। তবে এই শিক্ষকতা থেকে তাঁর যে আয় হয়, তা যথেষ্ট। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মিথিলা জানিয়েছেন যে তিনি সৃজিত প্রসঙ্গে কোনও কথা বলবেন না। এরই সঙ্গে মিথিলা এও জানিয়েছেন যে তাঁর পাসপোর্টে এখনও সৃজিতের নাম স্বামী হিসাবেই রয়েছে।
কিন্তু ৩ বছর হয়ে গেলেও এখনও সৃজিত-মিথিলা দূরেই রয়েছেন। গত বছর সৃজিত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন, তখনও মিথিলা কলকাতায় ফেরেননি। মিথিলার কথায়, ভিসা নেই, তাই তিনি ভারতে যেতে পারছেন না। ২০১৯ সালে মিথিলা ও সৃজিতের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাঁদের সুখের সংসার ছিল। মিথিলার মেয়েকেও সৃজিত নিজের মেয়ের মতনই ভালোবাসতেন। কিন্তু হঠাৎ করেই তাঁদের সম্পর্কে দুরত্ব আসার খবর শোনা যেতে থাকলেও তা নিয়ে পরিচালক বা মিথিলা কেউই কিছু বলেননি।