
বিনোদন জগতে এমন অনেক গায়ক-গায়িকা রয়েছেন, যাঁদের অকালে চলে যাওয়ার ঘটনা সবাইকে অবাক করেছে। সম্প্রতি জুবিন গর্গ ও প্রশান্ত তামাংয়ের মৃত্যুর ঘটনা আরও একবার নাড়া দিয়েছে সঙ্গীত জগতে। কেউ ছিলেন ৪০-এর কোঠায়, আবার কেউ সবে ৩০ পেরিয়েছিলেন। কেউ ভাবতেই পারেননি যে এইসব জনপ্রিয় গায়কেরা এভাবে অকালে চলে যাবেন। সম্প্রতি ইন্ডিয়ান আইডল ৩ বিজয়ী প্রশান্ত তামাংয়ের মৃত্যুর ঘটনায় শোকস্তব্ধ সঙ্গীতমহল। আসুন জেনে নিই সেরকমই কিছু গায়কের কথা, যাঁদের মৃত্যু হয়েছে খুব কম বয়সে।
প্রশান্ত তামাং
ইন্ডিয়ান আইডল ৩-এর বিজয়ী প্রশান্ত তামাং হঠাৎই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। কলকাতা পুলিশের কনস্টেবল থেকে ইন্ডিয়ান আইডলে তাঁর সফর ছিল দেখার মতো। তাঁর সুরেলা কন্ঠের শ্রোতা সংখ্যা নেহাত কম নয়। অরুণাচল প্রদেশে শো করে ফিরেছিলেন সম্প্রতি। শনিবার রাতে হৃদরোগ আক্রান্ত হলে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, ১১ জানুয়ারি তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। বয়স ছিল মাত্র ৪৩।
ঋষভ ট্যান্ডন
ঋষভ ট্যান্ডন তথা ফকির তাঁর আধ্যাত্মিক গানের কারণে দারুণ জনপ্রিয় ছিলেন। তাঁর ইশক ফকিরানা খুবই হিট হয়েছিল নতুন প্রজন্মের মধ্যে। গত বছর ২২ অক্টোবর মাত্র ৩৫ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর। সেই সময় তাঁর কেরিয়ার ছিল তুঙ্গে।
কেকে
জনপ্রিয় গায়ক কেকে, কৃষ্ণ কুমার কুন্নাথের মৃত্যু আজও ভুলতে পারেননি কেউ। ২০২২ সালের ৩১ মে কলকাতার নজরুল মঞ্চে একটি অনুষ্ঠান শেষে হোটেলে ফেরার পথে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। ময়নাতদন্তে উঠে এসেছিল তাঁর দীর্ঘদিনের হৃদরোগের জটিলতার কথা, যার কারণে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন। কনসার্টের সময় কেকে দরদরিয়ে ঘামছিলেন, অসুস্থ বোধও করছিলেন, কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি গান থামাননি।
জুবিন গর্গ
গত বছর সেপ্টেম্বরে জনপ্রিয় গায়ক জুবিন গর্গের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় সকলেই অবাক হয়ে যান। সিঙ্গাপুরে স্কুবা ড্রাইভিং-এর সময় জলে ডুবে মৃত্যু হয় বলে জানা গিয়েছে। যদিও জুবিনের মৃত্যু ঘিরে রহস্য ঘনীভূত এবং তা নিয়ে তদন্ত চলছে। কিছু কিছু সংবাদমাধ্যমের দাবি যে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে মারা গিয়েছেন জুবিন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৫২ বছর। বাংলা, হিন্দি, অসমিয়া সহ একাধিক ভাষায় গান গেয়ে জনপ্রিয়তার শীর্ষে ছিলেন জুবিন।
সিধু মুসেওয়ালা
২০২২ সালের ২৯ মে নিজের গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার পথে পঞ্জাবের মানসা জেলায় সিধু মুসে ওয়ালার গাড়িতে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি চালায় কয়েকজন দুষ্কৃতী। গুলিতে না কি ঝাঁঝরা করে দেন গায়ককে। হাসপাতালে নিয়ে গেলে ২৮ বছরের পঞ্জাবি র্যাপ গায়ক সিধু মুসেওয়ালাকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। এই ঘটনার পর গায়ককে হত্যার দায় স্বীকার করেন গ্যাংস্টার গোল্ডি ব্রার। এই ঘটনা আলোড়ন ফেলেছিল বিনোদন জগতে।
আদেশ শ্রীবাস্তব
জনপ্রিয় সুরকার ও গায়ক আদেশ শ্রীবাস্তব খুব কম বয়সেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছিলেন। রহেনা হ্য়ায় তেরে দিল মে', 'কভি খুশি কভি গম', 'বাগবান', 'চলতে চলতে' ইত্যাদি অসংখ্য সিনেমায় তাঁর করা সুর বলিউড ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবে। ক্যান্সারে ভুগছিলেন আদেশ শ্রীবাস্তব, সেই মারণযুদ্ধে হেরে মৃত্যু হয় তাঁর। সেই সময় সুরকারের বয়স ছিল মাত্র ৫১ বছর।