
বাংলা ইন্ডাস্ট্রির ব্যস্ততম নায়িকা শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। যিনি সব সময়ই নিজের অভিনয় পেশাকে নিয়েই থাকতে ভালোবাসেন। পরিচালক-স্বামী রাজ চক্রবর্তী সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হলেও শুভশ্রীকে কোনওদিনই রাজনৈতিক ময়দানে দেখা যায়নি। ব্যারাকপুরের বিধায়ক রাজ চক্রবর্তীকে তৃণমূলের মিটিং-মিছিলে যোগ দিতে প্রায়ই দেখা যায়। কিন্তু রাজ-ঘরণী এইসব থেকে অনেকটাই দূরত্ব বজায় রেখেছেন। নিজের কাজ, সংসার এই নিয়েই শুভশ্রীর জীবন। তবে সম্প্রতি রাজের পরিচালনায় শুভশ্রীকে দেখা গিয়েছে টলক্ষ্মী এল ঘরেট-তে। যেটা বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য সরকারের একটি ডকুমেন্টারি ছবি বলা যেতে পারে। আর এরপরই গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে যে রাজের মতো শুভশ্রীও কি রাজনীতিতে নাম লেখাতে চলেছেন? এই নিয়ে সম্প্রতি মুখ খুলেছেন বিধায়ক-পরিচালক রাজ।
এক সাক্ষাৎকারে রাজকে প্রশ্ন করা হয় যে যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুভশ্রীকে বলেন যে তুমি ভোটে দাঁড়াও একটা জায়গা থেকে, রাজের প্রতিক্রিয়া কী হবে? রাজ এই নিয়ে বলেন যে এই বিষয়ে সবচেয়ে ভাল বলতে পারবে শুভশ্রী। এরপর রাজ বলেন, 'শুভশ্রী যদি দাঁড়াতে চাইত তাহলে অনেক আগেই দাঁড়াতে পারত। আমাদের পরিবারে এই মুহূর্তে আমি রাজনীতিতে রয়েছি, আমাদের পেশা বিনোদন নিয়ে। তাই এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে দুটো মানুষ রাজনীতিতে আসলে সমস্যা হয়ে যাবে।'
এরপর রাজ আরও বলেন, 'শুভশ্রী হয়তো দিদিকে খুব ভালোবাসেন। কিন্তু আমার কোনও ভাবেই মনে হয় না ও রাজনীতিতে যোগ দেবে। কারণ আগামী এক বছরের জন্য শুভশ্রী বিনোদন জগতে কী কী কাজ করতে চলেছে, তা ঠিক করা রয়েছে। দিদি বলেছেন বলে ও ‘লক্ষ্মী এল ঘরে’ করেছে। কিন্তু আমার মনে হয় না ও রাজনীতিতে আসবে।' এরপরই রাজ জানান যে তাঁদের বাড়িতো দুটো সন্তান রয়েছে। রাজনীতিতে এখন অনেক ঝুঁকি রয়েছে। বিধায়কের কথায়, 'রাজনীতি জীবনটাকে ঘেঁটে দেয় অনেক বেশি। এখনকার রাজনীতি আর আগেকার রাজনীতির মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে।' আর এই কথার মাধ্যমেই এটা একেবারে স্পষ্ট যে শুভশ্রী নিজেও যেমন চান না রাজনীতিতে আসতে তেমনি রাজও চান না তাঁর স্ত্রী রাজনীতি করুক।
শাসক দলের রাজনৈতিক মিটিং-মিছিলে কখনই শুভশ্রীকে দেখা যায় না। তিনি নিজেকে এইসব থেকে দূরে রাখতেই পছন্দ করেন। এখন আপাতত শুভশ্রী নিজের অভিনয় কেরিয়ার নিয়েই ভীষণ ব্যস্ত। একের পর এক সিনেমা-সিরিজে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। উপরন্তু শুভশ্রী সময় পেলেই নিজের দুই সন্তানের সঙ্গে থাকতেই ভালোবাসেন, তাই এখন আপাতত রাজনীতি না করার সিদ্ধান্তই নিয়েছেন এই নায়িকা।