
টলিপাড়ায় একের পর এক ঘটনা ঘটেই চলেছে। কিছুদিন আগেই বাংলা ইন্ডাস্ট্রির দক্ষ অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ গোটা ইন্ডাস্ট্রি। আর এরই মাঝে ফের অঘটন ঘটল টলিপাড়ায়। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে নিঁখোজ পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার উৎসব মুখোপাধ্যায়। ব্যক্তিগত কাজে ব্যাঙ্কে যাওয়ার পর আর বাড়ি ফিরে আসেননি তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর নিরুদ্দেশ সংক্রান্ত একটি পোস্ট করেছেন স্ত্রী মৌপিয়া বন্দ্যোপাধ্যায়।
বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে বাড়ি ফিরে না আসায় স্ত্রী মৌপিয়া রাতেই নিখোঁজ অভিযোগ দায়ের করেন আনন্দপুর থানায়। একাধিক সংবাদমাধ্যমকে উৎসবের স্ত্রী তাঁর স্বামীর নিখোঁজ প্রসঙ্গে বলেন যে বৃহস্পতিবার সকালে ব্যাঙ্কের কাজে নিমতা গিয়েছিলেন উৎসব। তাঁর কাছে তাঁর প্রয়াত বাবার ফোনটি ছিল আর পরিচালকের ফোন ছিল স্ত্রীর কাছে। স্ত্রী মৌপিয়ার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট অনুযায়ী, তাঁর সঙ্গে উৎসবের কথা হয়েছে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টো ২২ মিনিটে। সেই সময় পরিচালক ব্যাঙ্কে ছিলেন। এরপর তাঁর ফোন বন্ধ হয়ে যায়। পরিচালককে পাওয়া যায়নি।
মৌপিয়া এও জানিয়েছেন যে তারপর থেকে কোনও যোগাযোগ করা যায়নি পরিচালকের সঙ্গে এবং তিনি বাড়িও ফিরে আসেননি। থানায় নিখোঁজ অভিযোগ করা হয়েছে। পরিচালকের স্ত্রী সকলের কাছে অনুরোধ করেছেন যে যদি তাঁর কোনও বন্ধু জেনে থাকেন যে পরিচালক কোথায় রয়েছেন, যেন তাঁকে জানিয়ে দেওয়া হয় যে তাঁর স্ত্রী চিন্তায় রয়েছেন। মৌপিয়া সংবাদমাধ্যমের কাছে জানিয়েছেন যে সাইবার ক্রাইম সংক্রান্ত একটা সমস্যা ছিল। এই নিয়ে আইনজীবীর সঙ্গেও তিনি কথা বলেন। পুলিশে জানান। এই বিষয়টা নিয়ে পরিচালক চিন্তায় ছিল। কিন্তু, তা নিয়ে খুব যে বেশি আলোচনা হয়েছে, তা নয়।
ইতিমধ্যেই আনন্দপুর থানায় নিখোঁজ ডায়েরি হয়েছে। পরিচালকের ফোন ট্র্যাক করে শেষ লোকেশন পাওয়া গিয়েছে বিধাননগর স্টেশন। পরিচালকের স্ত্রীকে পুলিশ জানিয়েছেন যে কোনও খোঁজ পেলেই তারা জানাবেন। এখনও পর্যন্ত পরিচালকের কোনও খোঁজ মেলেনি। চিন্তাতেই রয়েছেন মৌপিয়া। কিন্তু কী কারণে পরিচালক নিখোঁজ হলেন, তার কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি। পুলিশ আজ থেকে তদন্ত শুরু করবেন বলে জানা গিয়েছে।
টলিপাড়ার এলিট প্যানেলের পরিচালক না হলেও, চেনা মুখ উৎসব মুখোপাধ্যায়। 'বরুণবাবুর বন্ধু', 'ভবিষ্যতের ভূত'-এর মতো সিনেমার গল্প লিখেছেন তিনি। অনীক দত্তর টিমের অবিচ্ছেদ্য় অংশ উৎসব। 'ক্য়াবার'র মতো ওয়েব সিরিজ পরিচালনা করেছেন। এছাড়াও একাধিক ছোট ছবি ও ওয়েব সিরিজ তৈরির সাথে যুক্ত থেকেছেন উৎসব।