
বিধানসভা নির্বাচন একেবারে দোরগোড়ায়। ইতিমধ্যে রাজ্যে নির্বাচনী আবহ তৈরি হয়েছে। গত কয়েক বছরের ট্রেন্ড অনুযায়ী, পশ্চিমবাংলায় নির্বাচনের আগে একের পর তারকারা যোগ দেন সক্রিয় রাজনীতিতে। মূলত, গেরুয়া ও জোড়া ফুল শিবিরে যেন এক প্রকার দড়ি টানাটানি চলে টলিপাড়ার তারকাদের নিয়ে। কার দলে কত বেশি গ্ল্যামার, তা হয়ে ওঠে রাজ্য নির্বাচনের মূলমন্ত্র।
টলিপাড়ায় চর্চা, আসন্ন ভোটের আগে নাকি প্রার্থী হবেন বাংলা সিরিয়ালের একাধিক তারকা। আবার কেউ আলোচনা করছেন, ভোটে না দাঁড়ালেও, সক্রিয় রাজনীতিতে নাম লেখাবেন অনেকেই। কিংবা স্টার ক্যাম্পেইনার হিসাবেও দেখা যেতে পারে অনেককে। এমনিতে, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর 'গুড বুকে' যে টলিউডের বহু তারকা রয়েছেন, তা বারবার প্রকাশ্যে এসেছে। সম্প্রতি, মিছিল হোক কিংবা রাজনৈতিক মঞ্চ, বহুক্ষেত্রেই দলীয় নেতাদের থেকেও বেশি অগ্রাধিকার পেতে দেখা গেছে, সিনেপাড়ার সদস্যদের। একুশে জুলাইয়ের মঞ্চও আলো করে থাকেন একঝাঁক টলি সেলেব। ছোটপর্দার কারা রয়েছেন, সেই তালিকার একেবারে প্রথম দিকে, যারা ভোটে লড়বেন বলে জল্পনা?
সৌমিতৃষা কুণ্ডু
সৌমিতৃষা কুণ্ডু যে তৃণমূল- কংগ্রেসের সমর্থক একথা সকলেরই জানা। নির্বাচনী প্রচার থেকে জোড়া ফুল শিবিরের বিভিন্ন দলীয় সমাবেশে তাঁকে দেখা গেছে বারংবার। ২০২১ -র পুরভোট হোক কিংবা ২০২৪-র লোকসভা নির্বাচনের আগে, তৃণমূল- কংগ্রেসের হয়ে প্রচার করতে দেখা গেছে তাঁকে। শুধু তাই নয়, বারবার তাঁর মুখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসা শোনা গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীও তাঁকে অত্যন্ত স্নেহ করেন। অভিনেত্রীকে পুজোর আগে শাড়ি উপহার পাঠিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। আগে, ভোটের প্রচারে সৌমিতৃষাকে দেখে অনেকে মনে করেছিলেন তৃণমূল- কংগ্রেসের প্রার্থী হবেন তিনি। সেসময় আজতক বাংলার তরফে সৌমিতৃষাকে প্রশ্ন করা হয়, পরবর্তী কোনও নির্বাচনে তিনি কি সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেবেন? এই প্রশ্নে অভিনেত্রীর উত্তর ছিল, "কাল কেয়া হোগা কেয়া পাতা...পরের ভোটে কী হচ্ছে, তা দেখার জন্য সকলকে পরের ভোট অবধি অপেক্ষা করতে হবে।"
সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে একই মঞ্চে সৌমিতৃষাকে বারবার দেখা যাচ্ছে। এমনকী মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যুতে মিছিলে হেঁটেছেন তিনি একাধিক বার। আবারও প্রশ্ন উঠছে, ২০২৬-র ভোটে কি তিনি প্রার্থী? সরাসরি রাজনীতিতে পা রাখতে চলেছেন তিনি? এই প্রশ্নের উওরে সংবাদমাধ্যমকে সম্প্রতি সৌমিতৃষা বলেন, "আমি অবশ্যই রাজনীতিতে আগ্রহী। আপাতত তো বয়সটা কম। এই বিষয়টা এতদূর হতে পারে কিনা, সেটা আমি এখনও ভাবিনি। কোনও কিছু পাওয়ার আশাতেও আমি কখনও কোথাও যাইনি। আমি আমাদের দিদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে খুব ভালোবাসি। আমার খুব ভাল লাগে ওঁকে। আমি খুব অনুপ্রাণিত ওঁকে দেখে। আমায় যেখানেই ডাকে, আমি সেখানেই যাই। আমাদের মুখ্যমন্ত্রী এতদিন যাকে যা দায়িত্ব দিয়েছেন, তা জেনে- বুঝেই দিয়েছেন। এটা অনেক বড় একটা ব্যাপার। কী হবে আমি জানি না। তবে কোনও দিন দিদি যদি আমায় এই দায়িত্ব দেন, আমি নিশ্চয় গ্রহণ করব। মুখ্যমন্ত্রী যাকে দায়িত্ব দেবেন, তার মানে সে যোগ্য বুঝেই দেবেন।"
তিয়াসা লেপচা
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে একই মঞ্চে তিয়াসাকে বারবার দেখা যাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যুতে একাধিক বার তিনি মিছিলে হেঁটেছেন। গত বছর, মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির কালীপুজোয় তাঁকে দেখা গিয়েছে। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, ২০২৬-র ভোটে কি তিনি প্রার্থী? নাকি সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেবেন? যদিও সাংবাদমাধ্যমের এই প্রশ্নের উত্তর বারবার এড়িয়ে
সোহেল দত্ত
তিয়াসা লেপচার প্রেমিক, সোহেল দত্তের পেশা অভিনয় করা হলেও, বেশিরভাগ সময় রাজনীতির মঞ্চ এবং রাজনৈতিক মিছিলে দেখা যায় তাঁকে। বেশ ছোট বয়স থেকেই রাজনীতির প্রাঙ্গণে বিচরণ তাঁর। শোনা যায়, কোনও রাজনৈতিক মঞ্চ বা পার্টিতে দেখা হয়েছিল তিয়াসা ও সোহেলের। সেখান থেকেই আলাপ, বন্ধুত্ব ও পড়ে তা গড়ায় প্রেম অবধি। যদিও টেলিপাড়ায় তিয়াসার মতো সেরকম জনপ্রিয়তা নেই তাঁর প্রেমিকের। শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়, কৌশানী মুখোপাধ্যায়ের মতো টলি নায়িকাদের সঙ্গে প্রায়ই দেখা যায় সোহেলকে। শ্রাবন্তীর নির্বাচনী প্রচারেও নায়িকার সঙ্গেই ছিলেন। ২০১৭ সাল নাগাদ তৃণমূল ছেড়ে, মাস কয়েকের জন্য বিজেপির পতাকা হাতে তুলে নিয়েছিলেন সোহেল। এরপর জোড়া ফুলেই ঘর ওয়াপসি হয়। তৃণমূল - কংগ্রেসের সভা, মিছিলে তিনি সক্রিয় মুখ। অনেকেই আলোচনা করছেন, এবারের ভোটে বড় দায়িত্ব পেতে চলেছেন তিনি।
সুদীপ্তা বন্দ্যোপাধ্যায় বক্সী
ছোটপর্দার অত্যন্ত জনপ্রিয় মুখ সুদীপ্তা বক্সী। বিধানসভা ভোটের আগে তিনি কি যোগ দিচ্ছেন তৃণমূলে, এই নিয়ে চলছে জোর জল্পনা। তিনি তৃণমূল-কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক স্মিতা বক্সীর পুত্রবধূ। পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ তৃণমূল যুব কংগ্রেস কমিটির সাধারণ সম্পাদক, সৌম্য বক্সীর স্ত্রী। মুখ্য়মন্ত্রীর ডাকা প্রতিবাদ মিছিলে উপস্থিত থাকতে দেখা যায় সুদীপ্তাকে। সম্প্রতি একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন অভিনেত্রী। যেখানে সরাসরি সরকারের পাশে দাঁড়াতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। সংশ্লিষ্ট ভিডিওতে বাঙালি অস্মিতা নিয়ে সরব হয়েছেন সুদীপ্তা। যার ফলে, তাঁর আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূলে যোগদানের বিষয়টি নিয়ে আরও জল্পনা বেড়েছে।
অপরাজিতা আঢ্য
টলিপাড়ার অত্যন্ত চেনা মুখ অপরাজিতা আঢ্য। বাংলা সিরিয়ালের পাশাপাশি, তিনি বড়পর্দার অত্যন্ত পরিচিত ও পছন্দের মুখ। হঠাৎ করেই জল্পনা শোনা যাচ্ছে, অপরাজিতা নাকি এবার শাসকদলের হয়ে ভোটে লড়বেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অভিনেত্রী ভালবাসেন। অন্যদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়েরও শুভাকাঙ্ক্ষী তিনি। তাহলে কি জল্পনাই সত্যি? সম্প্রতি এপ্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমকে অপরাজিতা জানিয়েছেন, "রাজনীতিতে আসতে গেলে যে পড়াশোনার দরকার সেটা আমার নেই। আর রাজনীতি আমার প্যাশন নয়। যে জিনিসটা করব তাতে দখল থাকাটা দরকার। রাজনীতিতে কোনও দখল নেই আমার। হাতেকলমে কোনও অভিজ্ঞতাও নেই। আমার নাচ, গান, নাটকে পড়াশোনা রয়েছে, অভিজ্ঞতা রয়েছে। সেগুলোই ভাল পারিনি।"
প্রসঙ্গত, বাংলা ধারাবাহিকের তারকারা ছাড়াও আরও বহু তারকার নাম উঠে আসছে, শাসকদলের হয়ে ভোটে দাঁড়াবেন বা রাজনৈতিক দলে যোগ দেবেন বলে। সেই তালিকায় রয়েছে ইমন চক্রবর্তী, অঙ্কুশ হাজরা, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের নামও। যে তারকারা ইতিমধ্যেই রাজনীতির ময়দানে নাম লিখিয়েছেন, বা পাকাপোক্ত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে কারা কারা টিকিট পাবেন, তা নিয়েও শুরু হয়েছে বৈঠক- আলোচনা। এবার শুধু আর কিছু দিনের অপেক্ষা।