
হিন্দুদের বারো মাসে তের পার্বণ। এর মধ্যে চৈত্র মাসের শুক্লাষ্টমী তিথিতে পুজো হয় দেবী অন্নপূর্ণার। বিশ্বাস অনুযায়ী, অন্নপূর্ণার পুজো করলে গৃহে অন্নাভাব থাকে না। কাশীতে (বারাণসী, উত্তর প্রদেশ) অন্নপূর্ণার একটি মন্দির আছে। যেখানের, অন্নকূট উৎসব প্রসিদ্ধ। পশ্চিমবঙ্গে অন্নপূর্ণা পুজোর বিশেষ প্রচলন রয়েছে। এবছর অন্নপূর্ণা পুজো পড়েছিল ২৬ মার্চ। একাধিক তারকার বাড়িতে জাঁকজমকপূর্ণভাবে অন্নপূর্ণা পুজোর আয়োজন হয়েছিল। কোয়েল মল্লিক ও শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়কে মন দিয়ে পুজোর কাজ করতে দেখা গেছে এদিন। টেলি অভিনেত্রী রণিতা দাশও দেখা গেল দেবী অন্নপূর্ণার পুজোয় সামিল হতে।
রণিতা দাশের ধুনো পোড়নো
সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্নপূর্ণার পুজোর বেশ কিছু ছবি শেয়ার করেছেন রণিতা। এদিন দেবীর সামনে ধুনো পোড়ানো রীতিতে সামিল হলেন অভিনেত্রী। আবেগে তাঁর চোখের জল স্পষ্ট। মন ভরে দেবীর কাছে প্রার্থনা করলেন। এই রীতি পালনের সময় তাঁর পরনে ছিল সালোয়ার কামিজ। এছাড়াও এদিন ধারাবাহিকের লুকে, নীল রঙা শাড়িতেও দেখা গেছে তাঁকে। ক্যাপশনে লিখেছেন, "মায়ের আশীর্বাদে কর্মযজ্ঞ ও পূজা একসাথেই সম্পন্ন হল আজ। শুভ অন্নপূর্ণা পুজো, মঙ্গল হোক সবার।"
ধুনো পোড়া রীতি কী?
ধুনো শব্দের বাংলা অর্থ গন্ধদ্রব্যবিশেষ যা শালগাছের নির্যাস। দেবী জগদ্ধাত্রী ছাড়াও কালী, শীতলা, সমীচন্ডী, অন্নপূর্ণা পুজোয় ধুনো পোড়ার রীতি আছে। কৃষ্ণনগরের মালোপাড়ার মা জলেশ্বরীর মন্দিরে জগদ্ধাত্রী পুজোর নবমীর দিন চলে ধুনো পোড়ানো উৎসব । মায়ের কাছে করা মনের ইচ্ছে পূরণ হলে, মহিলারা হাতে ও মাথায় মাটির পাত্র নিয়ে বসেন। তাদের মুড়ে দেওয়া হয় কাপড়ে। এর পর মাটির পাত্রে চলে ধুনো পোড়ানো। ছুড়ে ছুড়ে তাতে ধুনো দেওয়া হয় এবং আগুনের শিখা বাড়তে থাকে। বলা হয়, ধুনোর আগুন যত উঁচুতে উঠবে তা ততই শুভ। অপেক্ষেকিক ভাবে ঝুঁকিপূর্ণ মনে হলেও,মায়ের আশীর্বাদে কোনও রকম বিপদহীন ভাবেই প্রাচীন কাল থেকে এই পুজো হয়ে আসছে বছেরে পর বছর।
তবে মনে হতেই পারে কেন এমন অন্যরকম নিয়ম। আর জগদ্ধাত্রী পুজোতে এমন নিয়ম যদি থেকেই থাকে তবে সর্বত্র কেন তার পালন হয় না ? কথিত আছে তৎকালীন মালোপাড়া অঞ্চলে বাস করতেন সেখানকার জেলে সম্প্রদায়। তারা শুরু করল মা জলেশ্বরীর পুজো। মালোপাড়ায় স্বয়ং রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আগমন ঘটতো মা জলেশ্বরীর দর্শনের জন্য। আর রাজার নাকে জেলে পাড়ার আঁশটে গন্ধ যাতে না যায় তাই এই রীতির প্রচলন হয়েছিল।
প্রসঙ্গত, টেলিভিশনের জনপ্রিয় মুখ রণিতা দাশ। 'ইষ্টিকুটুম'-র বাহামণি এখনও মনের কাছের হয়ে রয়েছে বহু দর্শকদের। বাহা চরিত্রের মাধ্যমে রাতারাতি তারকা হয়েছিলেন রণিতা। কিন্তু হঠাৎই 'ইষ্টিকুটুম' থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন তিনি। ধারাবাহিক থেকে সরে যাওয়ার পরে রণিতাও যেন হারিয়ে গিয়েছেন। মাঝে কয়েকটা ওয়েব সিরিজ বা ছবিতে অভিনয় করলেও তা বিশেষ সফল হয়নি। প্রায় ১০ বছরের দীর্ঘ বিরতির পরে, ঘরে ফিরেছেন নায়িকা। স্টার জলসার 'ও মোর দরদিয়া' মেগাতে মুখ্য চরিত্রে দেখা যাচ্ছে তাঁকে। এই ধারাবাহিকও বেশ মনে ধরেছে ছোটপর্দার দর্শকদের। আর সে প্রমাণ মিলছে প্রতি সপ্তাহের রেটিং চার্ট দেখেই।