
শিরোনামে টলিউড ইন্ডাস্ট্রি। একদিকে বাংলা ছবির কম ব্যবসা, সিনেমা হল বন্ধ, ইন্ডাস্ট্রির অন্দরের অশান্তি ইত্যাদি নিয়ে চর্চা চলছে। অন্যদিকে গুরুবারে দারুণ সুখবর আসে টেকনিশিয়ানদের জন্য। এবার তাঁরা পাচ্ছেন স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের বিশেষ সুবিধা। শনিবার, টেকনিশিয়ানস স্টুডিয়োতে আয়োজন হয়েছিল বিশেষ ক্যাম্পের। দেবের উদ্যোগে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুমতিতে এই ব্যবস্থা হয়েছে। স্বাস্থ্যসাথী কার্ড ইতিমধ্যেই পেয়েছেন টেকনিশিয়ানদের একাংশ।
তিনি টলিউডের অন্যতম সুপারস্টার। সেই সঙ্গে এই মুহূর্তের প্রথম সারির প্রযোজকদের মধ্যে একজন। আবার পশ্চিমবঙ্গের ঘটালের সাংসদ। তবুও তাঁকে 'মাটির মানুষ' বলেই আখ্যা দেন অনুগামী থেকে টলিপাড়ার অন্যান্য তারকারা। কাজের ব্যাপারে কোনও আপস করতে নারাজ তিনি। এদিকে ইন্ডাস্ট্রির সকলকে নিয়ে চিন্তা-ভাবনা তাঁর সব সময়। কথা হচ্ছে দেবকে নিয়ে। প্রায় ৭০০০-রও বেশি টেকনিশিয়ানের কল্যাণে কথা ভেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একটি চিঠির মাধ্যমে আবেদন করেন টলিউডের মেগাস্টার। এরপর মুখ্যমন্ত্রী তাঁর সেই অনুরোধ রাখেন।
এতদিন পূর্ব ভারতের সিনেমা টেকনিশিয়ান ও কর্মীদের সংগঠন, ফেডারেশন অফ সিনে টেকনিশিয়ান অ্যান্ড ওয়ার্কার অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া (FCTWEI)-র অধীনে কাজ করা সাত হাজারেরও বেশি টেকনিশিয়ান আগে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে ৫ লক্ষ টাকার একটি মেডিক্লেম সুবিধার আওতায় ছিলেন। সেই ক্ষেত্রে পরিবর্তন এসেছে। এই অর্থবর্ষ থেকে তাঁরা এই সুবিধা পাবেন না এবং অনেকেরই স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নেই বলে, চিন্তায় পড়েছিলেন। দেবের কাছেও পৌঁছে গিয়েছিলেন অনেকেই। এরপরই বিষয়টি নিয়ে উদ্যোগ নেন অভিনেতা-প্রযোজক তথা সাংসদ।
এদিকে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে দেব বনাম স্বরূপ বিশ্বাসের তর্জা তুঙ্গে। ফেডারেশন সভাপতি, স্বরূপ বিশ্বাসের নামে অভিযোগ, তিনি নাকি শুক্রবার সমস্ত গিল্ড-এর সদস্যদের নিজে স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে নাম নথিভুক্তকরণ প্রকল্পে যোগ না-দেওয়ার কথা বলেছিলেন। এমনকি, টেকনিশিয়ানদের নাকি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যাঁরা যাবেন তাঁদের কাজ কেড়ে নেওয়া হতে পারে। স্বরূপ বলেছিলেন, "আগের স্বাস্থ্যবিমায় বেশি সুযোগ-সুবিধা ছিল।" একথা শুনে, স্বরূপকে উপযুক্ত জবাব দিলেন দেব।
দেব বলেন, "স্বরূপ বিশ্বাস বলছেন স্বাস্থ্যসাথী কার্ডটা অতটা ভাল নয়, অন্য প্রকল্প বেশি ভাল। এর উত্তর আমার মনে হয় সবচেয়ে ভাল দিতে পারবেন অরূপ বিশ্বাস। তিনি গত ১৩-১৪ বছর ধরে আমাদের রাজ্যের মন্ত্রী। তিনি সমানে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিয়ে, স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প নিয়ে রাজ্য সরকারের হয়ে প্রচার করেছেন। ওঁর ছোট ভাই যদি প্রশ্ন তোলে যে, স্বাস্থ্যসাথী কার্ডটা অতটা ভাল না, তাহলে এর উত্তর তাঁরি বড় দাদার দেওয়া উচিত।"
তিনি আরও বলেন, "স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের মাধ্যমে গ্রাম বাংলার কত মানুষ যে স্বাস্থ্যের পরিষেবা পেয়েছে সেটা কারও অজানা নয়। আমরা এটাও দেখেছি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প দেখে, অন্য রাজ্যের সরকার নাম বদল করে ব্যবহার করেছে। সেই প্রকল্পের নিয়ে, স্বাস্থ্যসাথী নিয়ে যদি স্বরূপ বিশ্বাসের মনে প্রশ্ন থাকে, তাহলে আমারও প্রশ্ন অরূপদাকে যে, স্বরূপদা বলছে যে স্বাস্থ্যসাথী ভাল নয়, মুখ্যমন্ত্রী যে উদ্যোগ নিয়েছে, তাহলে মুখ্যমন্ত্রীকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে যে স্বাস্থ্যসাথী কার্ডটা টেকনিশিয়ানদের জন্য অতটা ভাল না।"
প্রসঙ্গত, শনিবার টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড করাতে আসেন পরিচালক অভিনেতা সুদেষ্ণা রায়, অভিজিৎ গুহ সহ স্টুডিওপাড়ার অনেকেই। টলিপাড়ায় যেমন পর্দার সামনে এত শিল্পী রয়েছেন, সেরকম, পর্দার পিছনেও কাজ করেন হাজার- হাজার টেকনিশিয়ান। স্বাস্থ্যসাথী নিয়ে এরকম একটা সুবিধা পেলে তাঁরা নিঃসন্দেহে অনেকটাই চিন্তামুক্ত থাকবেন।