
শোকের ছায়া বাংলা বিনোদন জগতে। প্রয়াত রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্য়ায়। রবিবার টলিউড অভিনেতার আকস্মিক মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ সকলে। এই মৃত্যু ঘিরে উঠে আসছে নানা রকম তত্ত্ব। ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই তুলছেন নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন। এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করছেন অনেকেই। এই দুঃসংবাদ আসার পর থেকেই, টলিপাড়ার অনেকেই হাজির হন, রাহুলের বাড়িতে। মধ্যরাত অবধি অভিনেতার বিজয়গড়ের বাড়ির সামনেই ছিলেন পাড়া- প্রতিবেশী, কাছের মানুষেরা। এই ঘটনায় আজতক বাংলাকে (বাংলা ডট আজতক ডট ইন) প্রতিক্রিয়া দিলেন তাঁর দুই ধারাবাহিকের নায়িকা সন্দীপ্তা সেন ও রুকমা রায়।
'তুমি আসবে বলে', 'আয় খুকু আয়'-দুটি ধারাবাহিকে জুটিতে কাজ করেছেন রাহুল ও সন্দীপ্তা। সেই সময় তাঁদের জুটি অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়। ইন্ডাস্ট্রিতে তাঁদের বন্ধুত্ব-প্রেম নিয়ে বেশ চর্চা ছিল। ২০২১ সালে নায়িকার জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানাতে, তাঁর উদ্দেশ্যে 'আমার সব মন কেমনের ঠিকানা তুই', লিখেছিলেন রাহুল। যদিও দু'জনের কেউই তাঁদের প্রেমে সিলমোহর দেননি। উল্টে একে ওপরের কাছের বন্ধু বলেই দাবি করতেন। রাহুলের মৃত্যু খবরে, শোকে বিহ্বল নায়িকা। গলা ধরে এল তাঁর। সন্দীপ্তা বলেন, "কী বলব জানি না, খুবই খারাপ লাগছে। বিশ্বাসই হচ্ছে না, মানতে পারছি না এখনও। ও চমৎকার সহ- অভিনেতা, খুব ভাল একজন অভিনেতা, লেখক। খুব খারাপ লাগছে। আমাদের অনেকদিন দেখা হয়নি বা কথা হয়নি। একসঙ্গে কাজ না করলে যেটা হয় ইন্ডাস্ট্রিতে। এটুকুই বলতে পারি, কিছুই ভাল লাগছে না।"
রুকমা রায়ের সঙ্গেও জুটি বেঁধে দুটি মেগাতে কাজ করেছেন রাহুল। 'দেশের মাটি' ও 'লালকুঠি' ধারাবাহিকে তাঁদের জুটির নাম অনুগামীরা দিয়েছিলেন 'রাম্পি' ও 'আনভি'। 'দেশের মাটি'-র রাজা ও মাম্পিকে এখনও মনে রেখেছে দর্শক। মাঝে মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় আদুরে ছবি শেয়ার করতেন। তাঁদের দারুণ রসায়ন, গভীর বন্ধুত্ব দেখে সেসময় অনেকেই মনে করতেন বাস্তবেও সম্পর্কে রয়েছেন তাঁরা। যদিও এবিষয়ে রাগ না করে, উল্টে উপভোগ করতেন দুই অভিনেতা। নিজেদের বরাবর খুব ভাল বন্ধু হিসাবে পরিচিতি দিতেন।
রাহুলের আকস্মিক প্রয়াণে ভেঙে পড়েছেন রুকমা। সারা রাত দু'চোখের পাতা এক করতে পারেননি। একেবারে মৃদু স্বরে অভিনেত্রী জানান, রাহুলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল তাঁর। রুকমার কথায়, "কিছু দিন আগেও আমার সঙ্গে কথা হয়েছে। ওঁর পডকাস্ট চ্যানেল নিয়ে কথা হল, আমার ব্র্যান্ড নিয়ে কথা হল। আমায় বলল, তোর ব্র্যান্ডের জন্য একটা ভাল জিনিস ভেবেছি, বলব তোকে। তারপর ইয়ার্কি, ফাজলামো হল, রেখে দিলাম। কালকে থেকে আমি বুঝতেই পারছি না কী বলব, যখন থেকে শুনেছি বিশ্বাসই করতে পারছি না।"
রুকমা আরও বলেন, "ও এত ভাল মানুষ, এত ভাল বন্ধু- দাদা। তাঁকে কোনও দিনও আর কিছু বলতে পারব না? কোনও কাজ করা মানেই রাহুলদা সব সময় ফোন করত, কাজ নিয়ে প্রশংসা করত, কিছু নতুন শুরু করলে সব সময় বলত। আমি ভাবতেও পারছি না, কী বলব এটা নিয়ে। আমাদের অনেক স্মৃতি। এত ভাল অভিনেতা, এত ভাল লেখক, এত ভাল সহ- অভিনেতা। আমি খুব লাকি ওঁর সঙ্গে দুটো কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। কত কিছু যে শিখেছি মানুষটার থেকে। আমি ঠিক বোঝাতে পারব না, কীরকম অনুভূতি হচ্ছে এই মুহূর্তে।"
রাহুলের মৃত্যুর নানা তত্ত্ব প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, "আমি ওখানে ছিলাম না। কিছু কখনও জানি না। তবে অদ্ভুত চার- পাঁচ রকম কথা শুনছি। আমি ওখানে গেলে, সবার সঙ্গে নিশ্চয় কথা হবে। সত্যিটা নিশ্চয় জানা যাবে। কারণ এটা লুকানোর মতো কোনও বিষয় না। ওখানে এত জন ছিল, একা তো ছিল না। শ্যুটিংয়ে গিয়েছিল। শ্যুটিংয়ে তো একা কেউ থাকে না। বাকিরাও নিশ্চয় দেখেছে কী ঘটেছে ঘটনাটা, কী করে এটা হয়? আমিও কিছুই বুঝতে পারছি না, কী করে শ্যুটিংয়ে এটা হতে পারে! আমাদের শিল্পীদের শ্যুটিংয়ের সময় মাথায় কিছুই থাকে না। যা বলা হয় করে দিই। যা হচ্ছে হোক, পরে দেখা যাবে এরকম একটা ভাব থাকে। কাজের সময় বিপদ হতে পারে, একথাটা খুব কমই মাথায় আসে। আমাদের সব সময় মনে হয়, এতজন তাকিয়ে থাকে, তাই হয়তো সুরক্ষিত আছি। এটাই তো হওয়া চচিত। তবে আজ যেটা দেখছি, সেটা কোনওভাবেই আশা করা যায় না। মেনেও নেওয়া যায় না।
প্রসঙ্গত, টলিপাড়ার পরিচিত মুখ রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার দিঘার তালসারিতে 'ভোলে বাবা পার করেগা' ধারাবাহিকের শ্যুটিং করতে গিয়ে জলে ডুবে মৃত্যু হয় অভিনেতার। স্বাভাবিকভাবেই তাঁর মৃত্যু নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠে এসেছে। রবিবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে রাহুলের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। ছোটপর্দা, বড়পর্দা, মঞ্চ থেকে ওটিটি, সব মাধ্যমেই নিজের অভিনয় দক্ষতায় সকলের মন বারবার জয় করেছেন। সম্প্রতি নিজের পডকাস্ট চ্যানেলের মাধ্যমের সকলের মনের আরও কাছে পৌঁছান অভিনেতা।
তাম্রলিপ্ত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রয়াত অভিনেতার ময়নাতদন্ত হওয়ার পরই দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে। রাহুলের স্ত্রী তথা অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার অভিনেতার বিজয়গড়ের বাড়িতে যান রাতেই। এই সময় তাঁকে ও রাহুল-পুত্র সহজকে এখন একা ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন সকলকে।