Advertisement

Sandy Saha On Sayak Chakraborty: 'টানা আধ ঘণ্টা ধরে আমার ওপর যৌন অত্যাচার...!' সায়কের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক স্যান্ডি

Sayak Chakraborty Accused Of Harrassment: সায়কের ঘটনার পরে, নিজের সোশ্যাল পেজে তাঁকে উপহাস করে ভিডিও শেয়ার করেছিলেন স্যান্ডি। সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমের কাছে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন তিনি।

স্যান্ডি - সায়ক (ছবি: ফেসবুক)স্যান্ডি - সায়ক (ছবি: ফেসবুক)
Aajtak Bangla
  • কলকাতা ,
  • 05 Feb 2026,
  • अपडेटेड 12:02 PM IST

শিরোনামে সায়ক চক্রবর্তী (Sayak Chakraborty)। পার্কস্ট্রিটের রেস্তরাঁয় মাটনের পরিবর্তে 'বিফ' পরিবেশন কাণ্ড নিয়ে তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়া। গ্রেফতার হন রেস্তরাঁর কর্মী। সায়কের বিরুদ্ধেও পার্কস্ট্রিট থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। জল অনেক দূর গড়ানোর পরে, নেটমাধ্যমে সায়ক ঘোষণা করেন, রেস্তরাঁর কর্মীর উপর অভিযোগ তুলে নিচ্ছেন তিনি এবং কনটেন্ট বানানোর ক্ষেত্রে সচেতন হবেন। এক শিশু শিল্পীকে হেনস্থা করার অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে উঠেছিল আগেই। এবার সায়কের উপর যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুললেন জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটার স্যান্ডি সাহা (Sandy Saha)। 

সায়কের ঘটনার পরে, নিজের সোশ্যাল পেজে তাঁকে উপহাস করে ভিডিও শেয়ার করেছিলেন স্যান্ডি। সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমের কাছে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন তিনি। জানালেন নেশাগ্রস্থ অবস্থায় সায়ক তাঁকে হেনস্থা করেন। এই নিয়ে এই প্রথম প্রকাশ্যে মুখ মুখ খুললেন তিনি। জানালেন, এবার আইনের দ্বারস্থ হবেন। 

সায়কের বিরুদ্ধে স্যান্ডির অভিযোগ

সংবাদমাধ্যমকে স্যান্ডি বলেন, "সায়ক আমার ভাল বন্ধু ছিল এক সময়। আমাদের অনেক ঝগড়াও হয়েছে, মাঝে অনেক কিছু ঘটে গেছে। ও যেটা করেছে, আমি ওকে সমর্থন করিনি, তাই ওকে নিয়ে রোস্টিং ভিডিও করেছিলাম। ও আমায় সেজন্যে ব্লক করেছে। এর আগে আমি ওকে একবার ব্লক করেছিলাম। আমি ওকে প্রথমবার যে ব্লক করেছিলাম, সেটা খুবই  ব্যক্তিগত কারণে। আমি এখন অবধি এবিষয়ে কখনও কোথাও কিছু বলিনি। তবে আজ আমি সত্যিটা বলেই দিতে চাইছি। ৩-৪ বছর আগে আমি ওর বাড়ি গিয়েছিলাম আমার একটা শ্যুটিংয়ে। সেসময় ও আমার যৌন হেনস্থা করেছিল। এই ঘটনা আমি কখনও বলিনি। আমি ব্লক করে দিয়েছিলাম এরপরে।" 

স্যান্ডি আর কী বলেন? 

স্যান্ডি আরও বলেন, "আমি চাইলে তখন লাইভেও আসতে পারতাম। কিন্তু আসিনি। ভেবেছিলাম নেশাগ্রস্থ অবস্থায় ভুল করে ফেলেছে। তারপর যখন সব সত্যি বাইরে এসেছে, আমার মনে হল বলে দেওয়াটা দরকার। তাই এখন মুখ খুলছি। সেই অভিজ্ঞতা আমায় আজও তাড়া করে বেড়ায়। যদিও ও পরে অনেকবার ক্ষমা চেয়েছিল আমার কাছে।" স্যান্ডি যোগ করেন, "সেসময় আমি কোনও পদক্ষেপ নিইনি, কারণ আমিও নেশাতে ছিলাম। সেখানে আমার ফায়দা উঠিয়েছে ও রীতিমতো। আমি সেসময় ভয়ও পেয়ে গিয়েছিলাম, আমার কী হবে, কীভাবে কী বলব। ওর যেহেতু অনেক চেনা জানা আছে। ওর একটা 'সো কলড গুড ইমেজ ছিল টেলিভিশন আর্টিস্ট হিসাবে'। তখন লোকে হয়তো আমার কথা বিশ্বাস করত না। আমি যেহেতু মজ্রার ভিডিও করি, আমায় কেউ সিরিয়াসভাবে নেয় না। তখন বললে, হয়তো মিথ্যাবাদী বলত আমায়। এখন একে একে যখন সত্যি সামনে আসছে, আমি বলব না কেন। ওকে নিয়ে একটা জল্পনাও শুনছি, ও নাকি একজন শিশু শিল্পীকেও হেনস্থা করেছে। সেটা নিয়ে আমি মন্তব্য করব না। তবে এটুকু জানি, ও আমায়ও হেনস্থা করেছে। পুরো আধ ঘণ্টা ধরে রীতিমতো অত্যাচার করেছে। আমি যৌন হেনস্থার শিকার হয়েছি। আগে ভাবতাম আমার সঙ্গেই শুধু করেছে। এখন দেখছি অন্য লোকেদের সঙ্গেও করেছে। এটা কখনই কাম্য না। আমি অবশ্যই প্রতিবাদ করব এবং এই ঘটনায় আমি আইনী পদক্ষেপও নিতে বাধ্য হবো।"    

Advertisement

'আমিও ভুল করে বিফ খেয়েছি, হিন্দু-মুসলমান নিয়ে ভিডিও বানাইনি' 

স্যান্ডি আরও বলেন, ভুল করে গোমাংস খাওয়ার অভিজ্ঞতা হয়েছিল তাঁরও। ইন্দোনেশিয়ায় বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে, না জেনে ম্যাশড বিফের পদ খেয়ে ফেলেছিলেন তিনি। স্যান্ডি বলেন, "আমিও ভুল করে না জেনে বিফ খেয়ে ফেলেছিলাম। আমাদেরও সেসময় মাথা গরম হয়েছিল। রেস্তরাঁর কর্মী এসে ক্ষমা চেয়েছিলেন। তার জন্য এটা নিয়ে কনটেন্ট বানাইনি। আমিও চাইলে সেসময় ক্যামেরা বের করে, ১০ মিলিয়ন ভিউ কুড়িয়ে নিতে পারতাম, ভাইরাল হতাম। কিন্তু আমার মনে হয়েছিল, যেখানে ভারত- পশ্চিমবঙ্গে হিন্দু- মুসলমান ইস্যু নিয়ে এত কিছু হচ্ছে, বাংলাদেশেও এত কিছু হচ্ছে। তাই এটা নিয়ে আমি কোনও কনটেন্ট বানাতে চাইনি, ভিউ আর ফেমের জন্য। সায়কের হাতে কোনও কাজ নেই এখন, তাই হয়তো এটা ও করেছে। আমার মনে হয় এটা করা উচিত হয়নি। আমি যদি এতই ভাল হই, তাহলে যেখানে গোমাংস পাওয়া যায় এরকম রেস্তরাঁতে যাবো না।"   

ঠিক কী ঘটেছিল পার্কস্ট্রিটের রেস্তোরাঁতে? 

পার্কস্ট্রিটের এক রেস্তোরাঁ থেকে সম্প্রতি একটি ভিডিও শেয়ার করেন সায়ক। যেখানে দেখা যায়, অত্যন্ত উত্তেজিত হয়ে, রেগে লাল হয়ে রেস্তরাঁর কর্মীর সঙ্গে কথা বলছেন তিনি। ভ্লগার অভিযোগ তোলেন, মাটনের পরিবর্তে বিফ স্টেক (গোমাংসের পদ) পরিবেশন করা হয়েছে তাঁদের এবং না জেনে পদটি খেয়েছেন তাঁরা। বিষয়টি বুঝতে পারেন, যখন রেস্তরাঁর কর্মী আরও এক প্লেট নিয়ে এসে তাঁদের টেবিলে রাখেন এবং ওই কর্মীকে জিজ্ঞাসা করলে, তিনি বলেন এটা মাটন স্টেক আর টেবিলে দেওয়া পদ আসলে গোমাংস। এরপরই সায়করা জানতে পারেন তাঁরা অজান্তেই গোমাংস খেয়ে ফেলেছেন। যদিও ভিডিওতে দেখা যায়, অত্যন্ত বিনম্রভাবে তাঁদের কাছে ক্ষমা চাইছেন কর্মী। এই সময় নিজেকে 'ব্রাহ্মণ' বলে পরিচিতি দিয়ে, কর্মীর ধর্ম জানতে চান এবং আপত্তিজনক কথা বলেন তিনি।   

এই ঘটনা সামনে আসতেই সায়ককে কটাক্ষ শুরু করেন সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ। অভিযোগ ওঠে, সাম্প্রদায়িক হিংসা ছড়ানোর চেষ্টা করছেন তিনি। অনেকে মন্তব্য করেন, ভোটের আগে ইচ্ছেকৃতভাবে একটি রাজনৈতিক দলের প্রচারের স্বার্থে, একাজ করছেন তিনি। আবার কারও মন্তব্য, ভিউ কুড়াতেই এটা তাঁর 'পাবলিসিটি স্টান্ট'। যদিও শনিবার একটি ভিডিও পোস্ট করে নিজের সাফাই দেওয়ার চেষ্টা করেন জনপ্রিয় ইউটিউবার। তাঁর দাবি, কোনও ধর্মীয় হিংসা ছড়ানো তাঁর উদ্দেশ্য নেই। পরে এই ভিডিওটিও সায়কের পেজে থেকে উধাও হয়। 

Advertisement

প্রসঙ্গত, বাংলা টেলিভিশনের পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়াতেও দারুণ জনপ্রিয় সায়ক চক্রবর্তী। তিনি নেটমাধ্যমে যে কোনও ছবি, ভিডিও শেয়ার করা মাত্রই তা ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হয়। অভিনেতার জীবনের ছোট-বড় সব খবর রাখেন নেটিজেনরা। নিয়মিত ভ্লগে দেখা মিললেও একটা দীর্ঘ সময় ছোট পর্দায় দেখা যায়নি তাঁকে। বহুদিন সিরিয়াল থেকে দূরে ছিলেন সায়ক। যার ফলে, বারবার তাঁকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি নিন্দুকরা। ট্রোলিংয়ের শিকার হয়েছিলেন তিনি। দীর্ঘ বিরতির পরে লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের হাত ধরে 'চিরসখা' ধারাবাহিকের মাধ্যমে কামব্যাক করেন সায়ক। এছাড়াও  'তুই আমার হিরো' মেগাতেও দেখা যাচ্ছে তাঁকে। 
 

Read more!
Advertisement
Advertisement