
রবিবার তালসারির সমুদ্রে নেমে প্রাণ হারিয়েছেন টলিউড অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। আর আজ তাঁর বিজয়গড়ের বাড়িতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়লেন বিজেপি নেত্রী পাপিয়া অধিকারী। তাঁর বিরুদ্ধে এলাকাবাসী ক্ষোভ উগড়ে দেন বলে খবর মিলছে।
কী ঘটেছে?
স্থানীয় বাসিন্দা সূত্রে খবর, আজ সকালে রাহুলের বিজয়গড়ের বাড়িতে যান আসন্ন বিধানসভা ভোটে টলিগঞ্জের প্রার্থী পাপিয়া অধিকারী। সঙ্গে ছিলেন তাঁর অনুগামীরা। আর সেই সময়ই কিছু অনুগামী 'ভারতমাতা কি জয়' বলে স্লোগান দেন বলে অভিযোগ। এরপরই জটিলতার সূত্রপাত। এই স্লোগানিংয়ে জন্য আপত্তি তোলেন এলাকার একাধিক বাসিন্দা। তাঁরা যে কোনও ধরনের রাজনৈতিক স্লোগান দিতে বারণ করেন।
এলাকাবাসীদের দাবি, রাহুল পাড়ার ছেলে। তাঁর মৃত্যুতে এলাকাবাসী শোকস্তব্ধ। সারারাত বহু মানুষ তাঁর বাড়িতে এসেছেন। অনেক রাজনৈতিক নেতারাও এসেছেন। কিন্তু স্লোগানিং হয়নি। পাপিয়া আসার পরই সেখানে স্লোগানিং শুরু হয়ে যায়। 'ভারত মাতা কি জয়' বলে স্লোগান দেওয়া হয়। সেই নিয়েই আপত্তি। এলাকাবাসীদের মতে, এখানে যে কোনও রাজনৈতিক দলের লোকজন আসতে পারেন। কিন্তু কোনওভাবেই স্লোগানিং করা যাবে না। এটা স্লোগান দেওয়ার জায়গা নয়।
কী বললেন পাপিয়া?
রাহুলের বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসার পর বিক্ষোভের মুখে পড়েন পাপিয়া। যদিও তিনি বিষয়টা নিয়ে তেমন কিছু বলেননি। বরং সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় অভিনেতা, অভিনেত্রী এবং টেকনিশিয়ানদের নিরাপত্তার কথাই উঠে আসে তাঁর কথায়।
তিনি অভিযোগ করেন, 'ফেডারেশন তো খুব গুরুত্বপূর্ণ। আর ফেডারেশন চালায় সিন্ডিকেট। আপনারা সবসময়ই নিজেদের স্বার্থে কাজ করেনয এবার সকলের স্বার্থটা একটু দেখবেন। আপনাদের একটা মাত্র স্বার্থ ভোটব্যাঙ্কটা যাতে ঠিক থাকে... শ্যুটিংয়ে যে এতগুলি আর্টিস্ট টেকনেশিয়ান যাচ্ছে, তাঁরা তাঁদের নিরাপত্তাটা কী আছে?'
ম্যানেজারের কী দাবি?
রাহুলের মৃত্যু নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করেন ধারাবাহিকের ম্যানেজার। তিনি বলেন, 'দুর্ঘটনার সময় আমি সেখানে ছিলাম না। প্যাক হয়ে গিয়েছিল। তখন শিল্পীদের হোটেল থেকে ছাড়ছিলাম। সেই সময় খবর আসে রাহুল জলে নেমেছেন। ভেসে যাচ্ছেন। তারপর আমরা সেখানে যাই। সেফটি বোট ছিল। তাঁকে তোলা হয়। হাসপাতালে আনতে আনতে মারা যান।'