
একসময় পরশপাথর ব্যান্ডের গানে উত্তাল ছিল কলেজ জীবনের প্রত্যেকটা সময়। আর সেই ব্যান্ডের লিড সিঙ্গার ছিলেন অনিন্দ্য বোস। পরবর্তীকালে অনিন্দ্য নিজের ব্যান্ড শহর-এর জন্ম দেন। বাংলা গানের জগতে অতি পরিচিত এক নাম অনিন্দ্য বোস। কিন্তু শুক্রবার রাতে ফেসবুকে শহর খ্যাত অনিন্দ্যর একটি পোস্ট ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণ করতে চান শিল্পী। পোস্ট দেখে অনিন্দ্যর বাড়িতে ছুটে যান ‘ক্যাকটাস’-এর সিদ্ধার্থ রায় ওরফে সিধু। ঠিক কী ঘটেছিল সেই রাতে? জানালেন সিধু নিজেই।
সেদিন ঠিক কী হয়েছিল
সিধু এ প্রসঙ্গে বলেন, কেন এই ধরনের পদক্ষেপ অনিন্দ্য নিল সেটা এখন বলাটা খুব কঠিন। হয়ত কোনও বিষয় রয়েছে তার মধ্যে হয়ত মন খারাপও হয়েছিল। যাইহোক আমি ওর ফেসবুক পোস্টটা দেখে সঙ্গে সঙ্গে ওকে ফোন করি। প্রথমবার ধরে না, তারপর ধরে। খুবই জড়ানো গলায় কথা বলছিল। যদিও অনিন্দ্য প্রথমে কিছু বলে না। আমি তখন ওকে বলি তুই চুপচাপ থাক আমি আসছি। আমার বাড়ি থেকে অনিন্দ্যর বাড়ি গাড়ি করে দশ মিনিটের মতো। আমি ও আমার সঙ্গে আরও দুজন বন্ধু ছিল সকলে মিলে ওর বাড়ি যাই। সেখানে অনিন্দ্যকে নেশাচ্ছন্ন দেখি। ওকে জিজ্ঞাসা করে জানতে পারি যে অবসাদ কমানোর ওষুধের সঙ্গে ঘুমের ওষুধও খেয়েছে। সবমিলিয়ে পাঁচটি ওষুধ খেয়েছিল।" সিধু এরপর বলেন, আমার এবার প্রথম কাজ হল ওকে নিয়ে আসা। আমার মনে হল যে অনিন্দ্যকে কোনও হাসপাতাল বা নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়ার দরকার নেই। পাঁচটা ওষুধে বেশি ওভারডোজ হয়নি আর কি। এরপর আমার বাড়িতে নিয়ে এলাম। টক খাইয়ে বমি করালাম। এরপর কিছুটা সুস্থ বোধ করার পর অনিন্দ্য ঘুমিয়ে পড়ে এবং পরের দিন সকাল সাড়ে নটা-দশটা পর্যন্ত ঘুমোনোর পর উঠে বাড়ি যেতে চায়। আমি জিজ্ঞাসা করি যে অনিন্দ্য সুস্থ বোধ করছে কিনা, বলল হ্যাঁ। তারপর বাড়ি চলে যায়। অনিন্দ্য বোস কি অবসাদে ভুগছিলেন? এ প্রসঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের বন্ধু সিধু বলেন, সেটা ওই মুহূর্তে জানা সম্ভব ছিল না। তবে অনিন্দ্য যে অবসাদ নিয়ন্ত্রণ করার ওষুধ নিয়মিত খায়, তাই সে যে অবসাদে রয়েছে সেটা তো ধরে নিতে পারি।
আরও পড়ুন: সম্পর্কে মামা-ভাগ্নি, দিদির মেয়েকে বিয়ে করেছেন সব্যসাচী চক্রবর্তী
এখন কেমন আছেন অনিন্দ্য
পুরনো পোস্টটি মুছে দিয়ে শনিবার ফেসবুকে ফের নতুন করে পোস্ট করেন গায়ক অনিন্দ্য বোস। তিনি লেখেন, আমি আবেগপ্রবণ। মনখারাপের কথা বলে ফেলি। কালকেও তেমনই একটা ঘটনা ঘটিয়েছি। আমার তার কেটে গেছিল। সকলের কাছে ক্ষমা চাইছি। যাঁরা আমাকে ভালবাসেন তাঁদের কাছে। এখন কেমন আছেন তাহলে অনিন্দ্য? সরাসরি শহর-এর গায়ককে ফোন করেই তাঁর শরীরের হাল জানা গেল। তিনি জানান যে এখন তিনি ভালোই আছেন। সেইসময় তাঁর শরীর খুব একটা ঠিক ছিল না, তাই এরকম একটা পদক্ষেপ তিনি নিয়ে ফেলেছিলেন। তবে এখন তিনি সুস্থ আছেন এবং সিনেমা দেখছেন বাড়িতে। অনিন্দ্য বোস বলেন, আমি বিশাল ভালো আছি। সেরকম বিরাট কিছু হয়নি। শুক্রবার একটু আবেগপ্রবণ হয়ে গিয়েছিলাম। মানসিক দিক থেকেও একটু ডাউন ছিলাম। সবমিলিয়ে এটার বহিঃপ্রকাশ হয়েছে। তবে এখন আমি সুস্থ আছি। গায়ক স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন যে তিনি একেবারেই অবসাদে নেই। বরং তিনি জানান যে তাঁর ব্যক্তিগত কিছু সমস্যা হয়েছিল এবং সেখান থেকে মানসিকভাবে একটু ভেঙে পড়েছিলেন। তারই বশে তিনি লিখে ফেলেছিলেন এবং কিছু করার চেষ্টা করেছিলেন।
কেন অবসাদে গায়ক?
প্রসঙ্গত, বেশ কিছু বছর ধরে গায়ক অনিন্দ্য বোস সেভাবে লাইমলাইটে নেই। অথচ তাঁর সময়ের বহু গায়কই আজ যথেষ্ট প্রতিষ্ঠিত। একসময় পরশপাথর, শহরের গানে মাতিয়ে রাখতেন অনিন্দ্য বোস। এখন বিভিন্ন অনুষ্ঠান করলেও সেভাবে পসার তাঁর নেই। এখন সেখান থেকে কোনও অবসাদ গায়ককে ঘিরে ধরেছে কিনা সেটা এখনও স্পষ্ট নয়। তিনি কেন অ্যান্টি-ডিপ্রেশনের ওষুধ খান সেটা ঘিরেও রহস্য। তবে এইসব কিছুর মধ্যে ভালো খবর এটাই গায়ক অনিন্দ্য বোস এখন সম্পূর্ণভাবে ফিট।