Advertisement

Tollywood Shooting Strike: মঙ্গলবার থেকে কর্মবিরতি টলিপাড়ায়! ইন্ডাস্ট্রির কতজন সদস্যের জীবনে প্রভাব পড়বে?

Tollywood Shooting Strike: শিরোনামে স্টুডিওপাড়া। মঙ্গলবার থেকে একজোট হয়ে কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে আর্টিস্ট ফোরাম ও ফেডারেশন।

প্রতীকী ছবি প্রতীকী ছবি
Aajtak Bangla
  • কলকাতা ,
  • 06 Apr 2026,
  • अपडेटेड 7:06 PM IST

গত ২৯ মার্চ, রবিবারের পর থেকে তোলপাড় টলিউড। রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের আকস্মিক মৃত্যুতে এখনও শোকস্তব্ধ সকলে। শোকের ছায়া বাংলা বিনোদন জগতে। এই মৃত্যু ঘিরে রয়েছে নানা ধোঁয়াশা। উঠে আসছে নানা রকম তত্ত্ব। ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই তুলছেন নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন। এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করছেন অনেকেই। প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে আর্টিস্ট ফোরাম ও প্রিয়াঙ্কা সরকার অভিযোগ দায়ের করেছেন। আগামী মঙ্গলবার থেকে নিজেদের সুরক্ষার দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে টলিপাড়া। 

শিরোনামে থাকে স্টুডিওপাড়া। তবে কারও সঙ্গে কারও বিরোধে নয়, এবার একজোট হয়ে কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে ওয়েস্ট বেঙ্গল মোশন পিকচার্স আর্টিস্ট ফোরাম (West Bengal Motion Picture Artist Forum) ও ফেডারেশন অব সিনে টেকনিশিয়ান্স অ্যান্ড ওয়ার্কার্স অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়ার (Federation of Cine Technicians & Workers of Eastern India/ FCTWEI)। কিছু প্রযোজক সমর্থন করছেন তাঁদের। রবিবার, টেকনিশিয়ানস স্টুডিওয় দুই সংগঠনের বৈঠকের পরে এমনই জানানো হয়।

কতজন মানুষের জীবনে প্রভাব পড়বে? 

ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস (Swarup Biswas) জানান, এই মুহূর্তে ফেডারেশনে ৭০০০ সদস্য রয়েছে এবং আর্টিস্ট ফোরামের সদস্য সংখ্যা ৪০০০। এই সংঠনের আছেন এমন কোনও এখনও পর্যন্ত জানাননি কর্মবিরতি সমর্থন করছেন না বলে। যার অর্থ প্রায় ১১,০০০ জন শিল্পী সরাসরি এই কর্মবিরতির পথে হাঁটতে চলেছেন। 

রবিবার, স্বরূপ জানিয়েছিলেন, "আমরা এই ইন্ডাস্ট্রিকে বাঁচাতে চাই। তবে শুনতে শুধুমাত্র ১১,০০০ মনে হলেও সংখ্যাটা আরও বেশি। ১১,০০০ জনের পরিবারে ৪ জন করে থাকলে ৪৪, ০০০ জন হয়। সেই সঙ্গে যারা নিয়মিত চা, জল দেন, বিভিন্ন উপকরণ সরবরাহ করেন, এরকম মানুষদের ধরলে, ইন্ডাস্ট্রিার সঙ্গে ৩০-৪০ হাজার কর্মী যুক্ত। যেখানে এত মানুষ কাজ করে, সেই ইন্ডাস্ট্রির ন্যূনতম নিরাপত্তা ও সুরক্ষা যদি না থাকে, তাহলে রাহুলের মতো গুণী শিল্পীদের হারাব। বহু কলাকুশলী কাজ করতে করতে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন, তাঁদের কে দেখবে, তাঁদের জন্য কে লড়াই করবে? রাহুলের দুর্ঘটনার দায়ভার কেউ নিচ্ছে না, কেউ এগিয়ে আসছে না, কেউ একটা কথাও বলছে না। সেজন্য আমাদের নিজেদের তাগিদে, নিজেদের সুরক্ষার জন্য মঙ্গলবার থেকে কর্মবিরতিতে যেতে হচ্ছে। আমরা কেউই চাইনি এটা করতে। আর্টিস্ট, টেকনিশিয়ান কেউই চায়নি। আমরা জানি একদিন কাজ বন্ধ মানে, রুটি- রুজি বন্ধ হওয়া। কিন্তু এই রুটি- রুজি বন্ধ করতে হচ্ছে, আমরা বাড়ি থেকে বের হই, ফিরে আসব কিনা জানি না। আমরা বাধ্য হয়েই করছি।"       

Advertisement

চ্যানেল ও প্রযোজকদের কাছেই মূলত তাঁদের এই দাবি যে নির্দিষ্ট কিছু কার্যপ্রণালী তৈরি হবে, তা মানতে হবে। তাঁদের উদ্দেশ্য, এমন কিছু নিয়মাবলি থাকতে হবে যাতে শিল্পীর মর্যাদা এবং তাঁর পরিবারের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকে। এবার থেকে প্রত্যেক আউটডোর শ্যুটিংয়ে একটি করে অ্যাম্বুল্যান্স রাখতে হবে, এমন দাবি রাখা হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় টেকনিশিয়ানস স্টুডিওতে উপস্থিত হবেন আর্টিস্ট ফোরাম ও ফেডারেশনের সদস্যরা। তবে, কলকাতা বা রাজ্যের বাইরে ইতিমধ্যেই শ্যুটিংয়ের জন্য যারা রয়েছেন, তাঁদের জন্য এই কর্মবিরতি প্রযোজ্য না। যে সব ধারাবাহিকের শ্যুটিংয়ের ব্যাঙ্কিং করা নেই তাদের ভবিষ্যৎ কী কিংবা, সেসময় চ্যানেলে কী সম্প্রচার হবে, তা এখনও জানা যায়নি।

প্রসঙ্গত, টলিপাড়ার পরিচিত মুখ রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। এক সপ্তাহ আগে, তালসারিতে 'ভোলে বাবা পার করেগা' ধারাবাহিকের শ্যুটিং করতে গিয়ে জলে ডুবে মৃত্যু হয় অভিনেতার। স্বাভাবিকভাবেই তাঁর মৃত্যু নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠে আসে। রবিবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে রাহুলের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। ছোটপর্দা, বড়পর্দা, মঞ্চ থেকে ওটিটি, সব মাধ্যমেই নিজের অভিনয় দক্ষতায় সকলের মন বারবার জয় করেছেন। সম্প্রতি নিজের পডকাস্ট চ্যানেলের মাধ্যমের সকলের মনের আরও কাছে পৌঁছান অভিনেতা।  

তাম্রলিপ্ত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রয়াত অভিনেতার ময়নাতদন্ত হওয়ার পরই দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। মৃত্যুর পরের দিন, সোমবার তাম্রলিপ্ত হাসপাতাল সূত্রের খবর, যে পরিমাণ বালি ফুসফুসে পাওয়া গিয়েছে তা অস্বাভাবিক। কম সময় জলে ডুবে থাকলে এত বালি পাওয়া যেত না। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ, অন্তত এক ঘণ্টা জলের তলায় ডুবে ছিলেন রাহুল। জলের তলায় হয়তো সেই অবস্থাতেই পড়েছিলেন। সেই কারণে হয়তো তাঁর দেহ থেকে এতটা বালি ও নোনা জল মিলেছে। 
 

Read more!
Advertisement
Advertisement