
দেশে আজ থেকে করোনা ভ্যাকসিনের বুস্টার ডোজ অ্যাপ্লিকেশন শুরু হতে চলেছে। শুরুতে তৃতীয় ডোজ দেওয়া হবে ফ্রন্টলাইন ওয়ার্কার এবং হেলথকেয়ার ওয়ার্কারদের ছাড়া ৬০ বছরের উপর যারা রয়েছেন, তাঁদের। যাদের কোনও রকম গভীর রোগ এর সঙ্গে লড়াই করছেন। তাদেরও এই বুস্টার দোষ দেওয়া হবে।
দেশে প্রায় ১ কোটি হেলথ ওয়ার্কার জন্য ২ কোটি ফ্রন্টলাইন ওয়ার্কার্স রয়েছে। এ ছাড়া ৬০ বছরের বেশি প্রায় ১৩ কোটি বাসিন্দা রয়েছে। দেশের ১৬ কোটি বুস্টার ডোজ এই মুহূর্তে প্রয়োজন রয়েছে।
দেশ, স্বাস্থ্য, মন্ত্রণালয় এর হিসেবে এবং গাইডলাইন অনুযায়ী তৃতীয় ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। যার আগে দুটি ডোজ দেওয়া রয়েছে। অর্থাৎ যদি কেউ আগের ডোজে প্রথমটিকে কোভিশিল্ড নেন এবং তৃতীয় ডোজ তাকে নিতে হবে। এইভাবে যদি কেউ প্রথম ডোজ কোভ্যাকসিনে নিয়ে থাকেন, তাহলে তাকে তৃতীয় ডোজও তাই নিতে হবে।
ককটেল কেন করা হচ্ছেনা তৃতীয় ডোজ!
পৃথিবী জুড়ে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তৃতীয় ডোজ যদি আলাদা ভ্যাকসিন দেওয়া হয়, তাহলে প্রথম দুটি ডোজের ভ্যাকসিনের ডোজের গুণ কাজ নাও করতে পারে।
আসলে ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজকে প্রাইমারি ডোজ বলা হয়। প্রথম ডোজ ভাইরাসের পরিচয় শরীরের সঙ্গে করায় এবং এন্টিবডি তৈরি করে। দ্বিতীয় ডোজ সেটিকে অ্যান্টিবায়োটিকে শরীরে স্থায়ী রূপ দেওয়ার চেষ্টা করে। তাই নতুন করে অন্য কোন ডোজ দিলে তৃতীয় তাদের ক্ষেত্রে সেটি আবার শরীরের ক্ষেত্রে কার্যকর নাও হতে পারে। যদিও করোনার প্রথম এবং দ্বিতীয় যুদ্ধের পর ইমিউনিটি ছয় থেকে আট মাস পরে ধীরে ধীরে কমে গিয়েছে বলে দেখা গিয়েছে এই কারণেই ইমিউনিটি বস্তিতে হচ্ছে।
মহামারী রোগ বিশেষজ্ঞ ডক্টর সঞ্জয় রায় জানিয়েছেন যে বুস্টার মানে হলো ওই ব্যক্তির ইমিউনিটি বুস্ট করা। এই কারণে ওই ভ্যাকসিন দিতে হবে। কারণ আমাদের সমস্ত ভ্যাকসিন লং টাইম বুস্ট দেখে। সে কারণে ভালো এবং খারাপ দু'রকম ইফেক্ট দেখা যায়। যদি আমরা দুটি টিকা মিশিয়ে দিই তাহলে কেউ তার কোন জবাবদিহি করতে পারবে না।
ডক্টর রায় বলেন যে যাদের প্রথম থেকে যে ভ্যাকসিন লাগানো হয়েছে তৃতীয় ডোজও সেই একই ভ্যাকসিন দিতে হবে। কারণ এখনও পর্যন্ত ভ্যাকসিনের সেফটি এবং এফিকেসি প্রমাণিত হয়েছে। কিন্তু long-term এ এই ভ্যাকসিন এর প্রভাব থেকে আট মাস পরে ধীরে ধীরে কমে গিয়েছে বলে দেখা যাচ্ছে। সেই কারণেই বুষ্টার প্রয়োজন।