Advertisement

থামল সাহিত্যে 'শঙ্খ-ধ্বনি'! প্রয়াত কবি শঙ্খ ঘোষ

প্রয়াত কবি শঙ্খ ঘোষ। আজ সকালে মারা যান তিনি। কয়েকদিন আগে করোনায় আক্রান্ত হন। তারপর থেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ বাংলা।

Sankha Ghosh
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 21 Apr 2021,
  • अपडेटेड 1:58 PM IST
  • প্রয়াত শঙ্খ ঘোষ
  • বাংলা সাহিত্য জগতে ইন্দ্রপতন
  • শঙ্খ ঘোষের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ বাংলা

বাংলা সাহিত্য জগতে ইন্দ্রপতন। প্রয়াত কবি শঙ্খ ঘোষ। আজ সকালে সল্টলেকের বাড়িতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। 

কবির পারিবারিক সূত্রে খবর, ১২ তারিখ থেকে অসুস্থ ছিলেন শঙ্খবাবু। ১৪ তারিখ তাঁর করোনা পরীক্ষা হয়। রিপোর্ট পরিজিভ আসে। তখন থেকে বাড়িতেই চিকিৎসাধীন ছিলেন। হোম আইসোলেশনে রাখা হয় তাঁকে। আরও জানা গিয়েছে, হাসপাতালে ভর্তি হতে চাননি কবি। সেকারণে তাঁকে বাড়িতেই রাখা হয়েছিল। বাড়িতেই যাবতীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। ভেন্টিলেটরে ছিলেন। পারিবারিক ডাক্তার চিকিৎসা করছিলেন। তবে ক্রমাগত শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমে আসছিল শঙ্খবাবুর।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও জীবনানন্দ দাসের উত্তরসূরী বলে মনে করা হয় শঙ্খ ঘোষকে

কবির পারিবারিক চিকিৎসক জানিয়েছেন, বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। এরপর জ্বর-সর্দি-কাশি হয়।  তারপর কোভিড ধরা পড়ে। এইভাবেই ছিলেন। কিন্তু, গতকাল রাত থেকে তাঁর শারীরিক অস্থার অবনতি হতে শুরু করে। আজ সকালে ঘুমের মধ্যেই মারা যান। প্রিয় কবির মৃত্যুতে বাংলা সাহিত্য জগতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 

১৯৩২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি বর্তমান বাংলাদেশের চাঁদপুরে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মনীন্দ্রকুমার ঘোষ এবং মাতা অমলা ঘোষ।  ১৯৫১ সালে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলায় কলা বিভাগে স্নাতক এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। 

বাঙালির কাছে শঙ্খ ঘোষ একজন বিখ্যাত সাহিত্যিক। বাংলা সাহিত্যে তাঁকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও জীবনানন্দ দাসের উত্তরসূরী বলে থাকেন সমালোচকরা। লিখেছেন কবিতা, শিশু সাহিত্য, উপন্যাস, নাটক। বাংলা সাহিত্যের সবক্ষেত্রে তাঁর বিচরণ ছিল অবাধ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আলোচক হিসেবে সবথেকে প্রথম নাম আসে শঙ্খবাবুরই।

প্রিয় কবির প্রয়াণে শোকস্তব্ধ বাংলা

শতাধিক বইয়ের লেখক শঙ্খবাবু দেশে-বিদেশে বিভিন্ন সময় সম্মানিত হয়েছেন। ১৯৭৭ সালে 'বাবরের প্রার্থনা' র জন্য সাহিত্য অ্যাকাডেেমি পুরস্কার পান তিনি। পেয়েছেন রবীন্দ্র পুরস্কার। ১৯৯৯ সালে কন্নঢ় ভাষায় লেখা নাটক অনুবাদের জন্য দ্বিতীয়বার সাহিত্য অ্যাকাডেমি সম্মান পান। ওই বছরই দেশিকোত্তম সম্মানে ভূষিত করা হয় তাঁকে।  ভারত সরকারের তরফে কবিকে পদ্মভূষণ ও জ্ঞানপীঠ পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়। 

Advertisement

কর্মজীবনেও অত্যন্ত সফল ও পড়ুয়াদের প্রিয়পাত্র ছিলেন শঙ্খবাবু। তিনি যাদবপুর ও বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন। নবীন প্রজন্মকে সাহিত্যেের কাজে উৎসাহ জুগিয়েছেন নিরন্তর। তিনি চলে গেলেন ঠিকই,, কিন্তু বাঙালির জন্য রেখে গেলেন তাঁর অপার সৃষ্টি। 

Read more!
Advertisement

RECOMMENDED

Advertisement