Advertisement

Nashik Astrologer Ashok Kharat Case: ধর্ষণ, ভিডিও ক্লিপ আর ১৫০ কোটির সম্পত্তি...যেভাবে ফাঁস হল 'ক্যাপ্টেন' জ্যোতিষীর অপকর্ম

নাসিকের এক স্বঘোষিত জ্যোতিষী, যিনি রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী এবং সেলিব্রিটিদের ভবিষ্যৎবাণী করার দাবি করতেন, এখন গুরুতর অভিযোগের সম্মুখীন। নিজেকে 'ক্যাপ্টেন' বলে পরিচয় দেওয়া অশোক খারাতের গ্রেফতারির পর, একের পর এক প্রমাণ সামনে আসছে। ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া খারাতের কাছ থেকে ৫৮টি ভিডিও ক্লিপ এবং ১৫০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের সম্পদ উদ্ধার করা হয়েছে।

ধর্ষণ মামলায় জ্যোতিষী গ্রেফতারধর্ষণ মামলায় জ্যোতিষী গ্রেফতার
Aajtak Bangla
  • নাসিক,
  • 20 Mar 2026,
  • अपडेटेड 1:06 PM IST

নাসিকের এক স্বঘোষিত জ্যোতিষী, যিনি রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী এবং সেলিব্রিটিদের ভবিষ্যৎবাণী করার দাবি করতেন, এখন  গুরুতর অভিযোগের সম্মুখীন। নিজেকে 'ক্যাপ্টেন' বলে পরিচয় দেওয়া অশোক খারাতের গ্রেফতারির পর, একের পর এক প্রমাণ সামনে আসছে। ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া খারাতের কাছ থেকে ৫৮টি ভিডিও ক্লিপ এবং ১৫০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের সম্পদ উদ্ধার করা হয়েছে।

নাসিক ক্রাইম ব্রাঞ্চ ইউনিট-১ গত ১৮ তারিখ ভোর ৪টার দিকে অশোক খারাতকে গ্রেফতার করে। তাঁর বিরুদ্ধে সরকারওয়াড়া থানায় ৩৫ বছর বয়সী এক মহিলাকে ধর্ষণের মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে মহারাষ্ট্র সরকার তদন্তভার  বিশেষ তদন্তকারী দলের (SIT) হাতে তুলে দিয়েছে। এই দলের নেতৃত্বে রয়েছেন মহিলা আইপিএস অফিসার তেজস্বিনী সাতপুতে। সূত্রমতে, তারা অভিযুক্তকে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন, কিন্তু এই মুহূর্তে আনুষ্ঠানিকভাবে আর কোনও বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। তাঁরা বলছেন, তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং তথ্যপ্রমাণ সামনে এলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

৫৮টি ভিডিও এবং অনেক প্রশ্ন
এই মামলার সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর প্রমাণ হিসেবে ৫৮টি ভিডিও ক্লিপকে উল্লেখ করা হচ্ছে। অভিযান চলাকালে বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস থেকে এই ভিডিওগুলো উদ্ধার করা হয়। জানা যাচ্ছে, এই ভিডিওগুলোর কয়েকটিতে মহিলারা ও বিখ্যাত ব্যক্তিরা জড়িত থাকতে পারেন। তবে পুলিশ এখনও বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। এই ভিডিওগুলোর ফরেনসিক তদন্ত চলছে। বলা হচ্ছে, এই অভিযোগগুলো সত্যি প্রমাণিত হলে মামলাটি শুধু যৌন শোষণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এটি একটি বড় ব্ল্যাকমেইলিং ব়্যাকেটের  রূপও নিতে পারে।

শিরডি সংযোগ: ব্ল্যাকমেইলিংয়ের এক নতুন দিক
এরই মধ্যে আরও একটি ঘটনা সামনে এসেছে। শিরডির এক মহিলা অভিযোগ করেছেন, একটি ফোন নম্বর থেকে তাঁর একটি আপত্তিকর ছবি পাঠিয়ে তা ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং টাকা দাবি করা হয়েছে। এই ঘটনায় অভিযুক্তের অফিসের কর্মচারী নীরজ যাদবের নাম উঠে এসেছে। মহিলাটি দাবি করেছেন, কয়েক বছর আগে তিনি খারাতের অফিসে গিয়েছিলেন, যেখানে ছবিগুলো তোলা হয়েছিল। এখন প্রশ্ন উঠেছে, নীরজ যাদব কি এই কাজ নিজে থেকেই করছিলেন, নাকি এর পেছনে কোনও বড় চক্র জড়িত ছিল। যদিও তাঁকে এখনও গ্রেফতার করা হয়নি, পুলিশ এই দিকটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছে।

Advertisement

অস্ত্র ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে
পুলিশি অভিযানের সময় খারাতের বাড়ি থেকে একটি পিস্তল, কার্তুজ এবং প্রায় ৬.৫ লক্ষ টাকা নগদ উদ্ধার করা হয়। তদন্তে জানা গেছে যে, অশোক খারাত গত ১৫ বছরে বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছেন। পুলিশের মতে, তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ১৫০ থেকে ২০০ কোটি টাকার মধ্যে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

কোথায় এবং কী পরিমাণ জমি:
- নাসিকের পাথারদি এলাকার বেশ কিছু জমি, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১৫০ কোটি টাকা বলে জানা গেছে।
- সিন্নার তালুকের মিরগাঁও এবং কাহান্দালওয়াড়িতে প্রায় ৪৫ একর জমি।
- পাথারদি ও গৌলানে এলাকায় পরিবারের সদস্যদের নামে নিবন্ধিত ৩০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের সম্পত্তি।
- মিরগাঁওয়ের ঈশন্যেশ্বর মন্দিরের পিছনে প্রায় ১০ কোটি টাকা মূল্যের খামারবাড়ি।
- ওঝার বিমানবন্দরের কাছে জানোরি গ্রামে প্রায় ৫ কোটি টাকা মূল্যের জমি ।
- নাসিকের কর্মযোগী নগরে বাংলো এবং কানাডা কর্নারে অফিস।
- শিরডিতেও কোটি টাকার চাষযোগ্য জমি।

টেম্পল ট্রাস্ট এবং ক্রমবর্ধমান প্রভাব
অশোক খারাত নাসিকের সিন্নার তালুকের মিরগাঁওয়ের ঈশান্যেশ্বর মন্দির ট্রাস্টের চেয়ারম্যানও। এই পদের মাধ্যমে তিনি সামাজিক ও ধর্মীয় প্রভাব অর্জন করেন। ২০২২ সালের নভেম্বরে মহারাষ্ট্রের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে মিরগাঁও সফর করলে খারাত আলোচনায় আসেন। এরপরে তাঁর জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়তে থাকে এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা তাঁর সঙ্গে দেখা করতে শুরু করেন। মহারাষ্ট্র অন্ধশ্রদ্ধা নির্মূল সমিতির কর্মীরা আগে থেকেই খারাতের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলছিলেন, অভিযোগ ছিল, তিনি মানুষের বিশ্বাসকে কাজে লাগাচ্ছেন। মুখ্যমন্ত্রী যখন তাঁর সঙ্গে দেখা করেন, তখন বিতর্ক সৃষ্টি হয় এবং প্রশ্ন ওঠে, কেন এমন ব্যক্তিদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। এখন তাঁর গ্রেফতারের পর সেই একই বিষয়টি আবার আলোচনায় এসেছে। বর্তমানে SIT  পুরো মামলাটি নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চালাচ্ছে। পুলিশ অভিযুক্তের আর্থিক লেনদেন, ডিজিটাল প্রমাণ এবং তাঁর নেটওয়ার্কের ওপর নজর রাখছে। জানা যাচ্ছে, আগামী দিনে স্পষ্ট হয়ে যাবে, এই মামলাটি শুধু একজন ব্যক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ, নাকি এর সঙ্গে একটি বৃহত্তর সংগঠিত নেটওয়ার্ক জড়িত।

Read more!
Advertisement
Advertisement