
ক্লাস শুরু হত আর কিছুক্ষণের মধ্যেই। দুজনেই ক্লাসরুমের বেঞ্চে আর পাঁচজনের মতোই বসেছিলেন। হঠাৎ ছাত্রটি উঠে দাঁড়িয়ে মেয়েটির কপাল লক্ষ্য করে গুলি চালায়। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে নিজেরও মাথায় গুলি করে। দুজনেই লুটিয়ে পড়ে। তড়িঘড়ি তাদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনাটি পঞ্জাবের তরন তারন জেলার একটি আইন কলেজের। গুলি চালানোর ভিডিও সামনে এসেছে। তা এখন ভাইরাল।
মাই ভাগো নামে সেই আইন কলেজটি উসমাতে অবস্থিত। পুলিশ জানিয়েছে, সহপাঠীকে খুন করে আত্মঘাতী হওয়া যুবকের নাম প্রিন্স রাজ। মলিয়ান গ্রামের বাসিন্দা সে। তরুণীর বাড়ি নৌসেরা পান্নুনে। নাম সন্দীপ কৌর।
পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, মাথায় গুলি লাগার সঙ্গে সঙ্গেই মারা যান সন্দীপ। তবে বেঁচে ছিলেন প্রিন্স। তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। চিকিৎসাও শুরু হয়েছিল। তবে বাঁচানো যায়নি।
সামনে আসা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, পিঠে একটি ব্যাগ নিয়ে ক্লাসরুমে এসেছে প্রিন্স। সন্দীপ ও আর এক সহপাঠীর সঙ্গে কথা বলছে। তারা তিনজনই পিছনের এক বেঞ্চে গিয়ে বসে।
বেশ কয়েক মুহূর্ত পর দেখা যায়, প্রিন্স হঠাৎ উঠে দাঁড়িয়েছে। ব্যাগের ভিতর হাত ঢুকিয়ে সে কিছু একটা বের করছে। তারপর সন্দীপের মাথা লক্ষ্য করে গুলি। বেঞ্চের উপরই লুটিয়ে পড়ে ওই ছাত্রী। তারপর নিজের মাথায় গুলি করে সন্দীপ। ততক্ষণে সঙ্গে থাকা আর এক ছাত্রী ভয় পেয়ে যান। কী করবেন তিনি বুঝতে পারছেন না। ক্লাসে থাকা বাকি ছেলেমেয়েরাও আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করে দেন। এক সময় সবাই পালিয়ে যান সেখান থেকে।
এক পুলিশ কর্তা জানিয়েছেন, দুজনের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হচ্ছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছাত্র-ছাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
তবে কী কারণে এই ঘটনা তা এখনও পরিষ্কার নয়। সন্দীপের মা থানায় অভিযোগ করেছেন। প্রিন্স কীভাবে ক্লাসরুমে বন্দুক-সহ প্রবেশ করল তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।