
দিল্লি সংলগ্ন গাজিয়াবাদে গণধর্ষণের ঘটনায় ৫ জনকে অভিযুক্ত করেছেন ৪০ বছর বয়সি এক মহিলা। পুলিশ গণধর্ষণে মামলা দায়ের করেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্তদের সঙ্গে নির্যাতিতার সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ রয়েছে এবং উভয় পক্ষের মামলা আদালতে চলছে। বর্তমানে গণধর্ষণের ঘটনা তদন্ত করছে পুলিশ।
মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ এফআইআর-এ ৫ জনের নাম নথিভুক্ত করেছে। যার মধ্যে চারজনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ আপাতত সব দিক থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। এফআইআর-এ অভিযুক্তদের নাম হল দিনু, শাহরুখ, জাভেদ, ধোলা এবং আওরঙ্গজেব।
পুলিশ সূত্রে খবর, ১৮ অক্টোবর ভোর সাড়ে তিনটে নাগাদ নন্দগ্রাম থানার পুলিশ ইউপি-112-এর মাধ্যমে খবর পায় যে আশ্রম রোডে এক মহিলা পড়ে রয়েছেন। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মহিলাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। জিজ্ঞাসাবাদে ওই নারী জানান, তিনি দিল্লি নন্দ নগরীর বাসিন্দা।
গাজিয়াবাদ পুলিশ জানিয়েছে,মহিলা একদিন আগে তার ভাইয়ের জন্মদিন উদযাপন করতে গাজিয়াবাদে এসেছিলেন। যখন ভাই তাকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বাসস্ট্যান্ডে ছেড়ে যান, তখন কিছু লোক তাকে সেখান থেকে তুলে নিয়ে যায়, যারা মধ্যে ২ জনকে চিনতেন মহিলা। বয়ানে তিনি ৫ জনের থাকা কথা জানিয়েছেন। সবাই তাকে ধর্ষণ করেছে।
মহিলার ভাইয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ একটি এফআইআর নথিভুক্ত করেছে এবং 4 জনকে হেফাজতে নিয়েছে। পুলিশ জানায়, অভিযুক্তের সঙ্গে মহিলার সম্পত্তি নিয়ে ইতিমধ্যেই বিরোধ রয়েছে যার বিরুদ্ধে মহিলা এফআইআর দায়ের করেছেন, আদালতে দেওয়ানী মামলাও রয়েছে। মহিলা দিল্লির বাসিন্দা এবং জিটিবি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গাজিয়াবাদ পুলিশকে নোটিশ পাঠিয়েছেন স্বাতি মালিওয়াল
দিল্লি কমিশন ফর উইমেন চেয়ারপারসন স্বাতি মালিওয়াল টুইট করেছেন, 'দিল্লি মেয়েটি গাজিয়াবাদ থেকে রাতে ফিরছিল, যখন তাকে জোর করে একটি গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়েছিল, মহিলাকে ৫ জন ২ দিন ধরে গণধর্ষণ করে এবং তার যৌনাঙ্গে রড প্রবেশ করিয়েছে। রাস্তার পাশে একটি বস্তার মধ্যে তাকে ফেলে রেখে যায়, তখনও রডটি তার শরীরের ভিতরে ছিল। হাসপাতালে প্রাণপণ লড়াই করছেন তিনি। নোটিশ জারি করা হয়েছে গাজিয়াবাদের এসএসপিকে।'
গোপনাঙ্গে রড ঢোকানোর দাবি অস্বীকার করেছে পুলিশ
স্বাতী মালিওয়ালের এই অভিযোগের জবাব দিয়েছে গাজিয়াবাদ পুলিশ। পুলিশ অস্বীকার করেছে যে মহিলার গোপনাঙ্গ রডের মধ্যে ঢুকিয়ে একটি বস্তায় ভরে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়েছিল। পুলিশ বলছে, টাং ক্লিনার পাওয়া গেছে এবং নন্দগ্রাম থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, আসামিদের হেফাজতে নিয়ে পূর্ণ তদন্ত করা হচ্ছে।