
দিল্লিতে বাওয়ানা এলাকায় গ্যাংওয়ার। বাইকে চেপে এসে ৩ দুষ্কৃতী একটি বাড়িতে ঢুকে একাধিক রাউন্ড গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হন ৪ জন। তাঁদের মধ্যে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনা ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন শিশুটির বাবা। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক। আরও একজন ১০ বছরের শিশুর পায়েও গুলি লেগেছে। সেও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ এই ঘটনাকে গ্যাংওয়ারের ফল বলেই মনে করছে। ঘটনার সঙ্গে 'টিল্লু গ্যাং' জড়িত বলে অনুমান তদন্তকারীদের। যদিও এখনও পর্যন্ত পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সরকারিভাবে কিছু জানানো হয়নি।
এদিন ৩ দুষ্কৃতী বাইকে করে এলাকায় ঢোকে। প্রথমে তারা বাইকটি রাস্তায় পার্কিং করিয়ে ঘটনাস্থলের দিকে পায়ে হেঁটে যায়। তারপর বাড়ির ভিতরে ঢুকে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। গুলির শব্দে মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, 'হঠাৎ করেই গুলির শব্দ শুনতে পাই। পরপর অনেকগুলি গুলি চালানো হয়। তিনজন দুষ্কৃতী ছিল, তারা খুব দ্রুত এসে হামলা করে পালিয়ে যায়। আমরা তখনও বুঝতে পারছি না কোথায় কী হচ্ছে বা কেন হচ্ছে।'
জখমদের পরিবারের এক সদস্য জানান, তাঁরা এখনও স্পষ্টভাবে জানেন না ঠিক কতজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তিনি আরও দাবি করেন, তাঁদের পরিবারের সঙ্গে কারও কোনও শত্রুতা ছিল না। নিহত শিশুর কাকার কথায়, 'আমরা কিছুই বুঝতে পারছি না কেন এই হামলা হল। ও খুবই সোজাসাপ্টা ছেলে ছিল, নিজের দোকান চালাত, পশুপালন করত এবং দুধ বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করত। কখনও কোনও হুমকির কথাও আমরা শুনিনি।'
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দিল্লি পুলিশের একাধিক টিম। এলাকা ঘিরে ফেলে তল্লাশি শুরু করা হয়। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের জন্য বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে রাজধানীর পুলিশের তরফে।
এই ঘটনার পর থেকে বাওয়ানা এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং টহলদারি বাড়ানো হয়েছে। তবুও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক এখনও কাটেনি।