
ইদানিং পুলিশ পরিচয় দিয়ে প্রতারণার ঘটনা বাড়ছে। একই ঘটনা ঘটল বীরভূমের বোলপুরে। প্রকাশ্য দিবালোকে বোলপুর বড় মসজিদের কাছে এক মহিলার গলার ও হাতের সোনার গয়না লুট করে পালাল দুষ্কৃতীরা। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। বোলপুরের বাসিন্দা মঞ্জু আগরওয়াল শান্তিনিকেতনের দিকে যাচ্ছিলেন। সেই সময় এক ব্যক্তি হঠাৎ তাঁর পথ রোধ করে দাঁড়ায়। নিজেকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে সে মঞ্জুদেবীর গলায় থাকা হার ও হাতে থাকা বালা দেখে সতর্ক করে, 'এভাবে সোনার গহনা পরে গেলে ছিনতাই হতে পারে।'
আস্থায় ভরসা রেখেছিলেন মঞ্জুদেবী। তাঁকে আরও নিরাপদে সাহায্য করতে চেয়ে দুষ্কৃতী বলে, গয়না খুলে কাগজে মুড়ে ‘সেফ’ করে দেওয়া হবে। সরল বিশ্বাসে গহনা খুলে দেন তিনি। এরপর কৌশলে নকল ধাতু মুড়িয়ে দিয়ে ফেরত দেয় দুষ্কৃতী। কিছুক্ষণ বাদে টোটোয় ওঠার সময়ই সন্দেহ জাগে তাঁর। কাগজ খুলে দেখেই চমকে ওঠেন,ভিতরে নেই একটাও সোনার গয়না, সবই নকল!
অবাক ও আতঙ্কিত মঞ্জুদেবী ছুটে যান ঘটনাস্থলে। কিন্তু ততক্ষণে উধাও প্রতারক। আশপাশের লোকজনও ঘটনায় হতবাক। খবর পৌঁছতেই বোলপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। এলাকায় জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। কাছাকাছি থাকা সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, একই কায়দায় প্রতারণা করার অভিযোগ আগেই এসেছে। ফলে এই ঘটনার সঙ্গে কোনও সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বোলপুর ও শান্তিনিকেতন এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। স্থানীয়দেরও সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।
এই ঘটনায় ফের উঠে আসছে একটাই প্রশ্ন,পুলিশ পরিচয় দেখলেই কি বিশ্বাস করা উচিত? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনও সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে প্রথমেই পরিচয়পত্র যাচাই করা উচিত। নয়তো এমন প্রতারণার ফাঁদে পড়ার ঝুঁকি থেকেই যায়।
সংবাদদাতা: শান্তনু হাজরা