
অন্ধ্রপ্রদেশের গুন্টুর জেলার দুগ্গিরালা মণ্ডলের চিলুভুরু গ্রামে এক চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনা সামনে এসেছে। অভিযোগ, অবৈধ প্রেমের সম্পর্কের জেরে এক মহিলা তাঁর প্রেমিকের সঙ্গে মিলে নিজের স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে খুন করেছেন। ঘটনার পর গোটা রাত অভিযুক্তরা বাড়িতেই ছিল বলে জানা গিয়েছে। পরদিন সকালে স্বামীর মৃত্যুকে হৃদ্রোগজনিত বলে চালানোর চেষ্টা করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ব্যক্তির নাম লোকম শিবনগরাজু। তিনি পেশায় একজন পেঁয়াজ ব্যবসায়ী। ২০০৭ সালে লক্ষ্মী মাধুরীর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের দুই সন্তান রয়েছে। লক্ষ্মী মাধুরী বিজয়ওয়াড়ার একটি সিনেমা হলের টিকিট কাউন্টারে কাজ করত। সেখানেই সত্তেনাপল্লির বাসিন্দা গোপীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়, যা ধীরে ধীরে অবৈধ সম্পর্কে পরিণত হয়।
পুলিশের দাবি, লক্ষ্মী মাধুরী স্বামীর ব্যবসা পছন্দ করত না। তাঁকে কাজ ছাড়তে চাপ দিত। পরে প্রেমিক গোপী হায়দরাবাদে ভ্রমণ সংক্রান্ত ব্যবসায় যুক্ত থাকায়, সে শিবনগরাজুকে সেখানেই কাজ করতে পাঠায়। কিন্তু কিছুদিন পর শিবনগরাজু গ্রামে ফিরে আসে। এতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিবাদ বাড়তে থাকে। এবং অবৈধ সম্পর্কের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ান শিবনগরাজু। এর পরেই তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয় বলে পুলিশের অনুমান।
অভিযোগ অনুযায়ী, ১৮ জানুয়ারি রাতে লক্ষ্মী মাধুরী বাড়িতে বিরিয়ানি রান্না করে। এবং তাতে প্রায় ২০টি ঘুমের ওষুধ গুঁড়ো করে মিশিয়ে দেয়। সেই খাবার খাওয়ার পর শিবনগরাজু গভীর ঘুমে অচেতন হয়ে পড়েন। রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ প্রেমিক গোপী বাড়িতে আসে। পুলিশ জানিয়েছে, এরপর দু’জনে মিলে শিবনগরাজুকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর রাতভর দুজনেই পর্নোগ্রাফি দেখে।
ভোর চারটে নাগাদ লক্ষ্মী মাধুরী প্রতিবেশীদের ফোন করে জানায়, তাঁর স্বামী হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন। তবে প্রতিবেশীরা আগেই দম্পতির পারিবারিক অশান্তি ও অবৈধ সম্পর্কের কথা জানতেন। মৃতদেহে আঘাতের চিহ্ন ও কান থেকে রক্ত বেরোতে দেখে তাঁদের সন্দেহ হয়। খবর দেওয়া হয় পুলিশে।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। রিপোর্টে নিশ্চিত হয়, শিবনগরাজুর মৃত্যু হয়েছে শ্বাসরোধের কারণে এবং তাঁর বুকের হাড় ভেঙে গিয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদের সময় লক্ষ্মী মাধুরী ভেঙে পড়ে এবং হত্যার কথা স্বীকার করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। পরে প্রেমিক গোপীকেও গ্রেফতার করা হয়।