
ঝাড়খণ্ডের চাইবাসায় কুসংস্কারের জেরে এক নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সামনে এসেছে। ডাইনি অপবাদ তুলে ৩২ বছর বয়সি এক মহিলা ও তাঁর কোলে থাকা দুই মাসের শিশু পুত্রকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন তাঁর স্বামী, যিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
মঙ্গলবার রাত প্রায় ৯টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে। জানা গিয়েছে, কোলহান সিঙ্কু নামে ৪০ বছর বয়সি ওই ব্যক্তি বাড়িতে ঘুমোচ্ছিলেন। তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী জ্যোতি সিঙ্কু, দুই বছরের সন্তান ও দুই মাসের শিশুসহ পরিবারের অন্য সদস্যরাও বাড়িতে ছিলেন। সেই সময় কোলহানের এক আত্মীয় বাইরে থেকে ডাক দিলে সকলে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন।
বাড়ির উঠোনে তখন একদল গ্রামবাসী জড়ো হয়েছিল। উপস্থিত পুরুষ-মহিলা সকলেই জ্যোতিকে ‘ডাইনি’ বলে অভিযোগ করতে শুরু করে। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। জ্যোতি পঞ্চায়েতের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার অনুরোধ করলেও ক্ষুব্ধ জনতা তা অগ্রাহ্য করে। অভিযোগ, এরপর কোলহান, জ্যোতি এবং তাঁদের শিশুর গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় কোলহান সেখান থেকে পালিয়ে থানায় যান। তবে রাতে থানা বন্ধ থাকায় তিনি সঙ্গে সঙ্গে অভিযোগ জানাতে পারেননি। পরে এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে সকালে আবার থানায় ফিরে যান। অভিযোগ দায়েরের পর তাঁকে কুমারডুঙ্গি সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জ্যোতি ও তাঁর দুই মাসের শিশুর দগ্ধ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। ইতিমধ্যে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, একই পরিবারের প্রায় দশজন এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারেন।
জগন্নাথপুরের এসডিপিও রাফায়েল মুর্মু সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, 'অভিযোগে নাম থাকা চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কুসংস্কারের বশে যারা এই অপরাধে অংশ নিয়েছে, তাদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।'
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কোলহানের এক আত্মীয় সম্প্রতি দীর্ঘ অসুস্থতার পর মারা যান। সেই মৃত্যুর জন্য জ্যোতিকে দায়ী করে তাঁকে ‘ডাইনি’ আখ্যা দেওয়া হয়। এই ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।