
একসঙ্গে চারটে বিয়ে। মিথ্যে অভিযোগ করে টাকা হাতিয়ে চম্পট দেওয়ার অভিযোগ এক তরুণীর বিরুদ্ধে। স্থানীয় ভাষায় লুঠরি দুলহান বলা হচ্ছে তাকে। উত্তর প্রদেশের হাপুর জেলা থেকে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে, যেখানে বাবুগড় থানা এলাকার এক মহিলার বিরুদ্ধে অভিযোগও দায়ের হয়েছে।
ঠিক কী কী অভিযোগ রয়েছে?
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন যে মহিলাটি আইনত বিবাহবিচ্ছেদ না করেই পরপর চারবার বিয়ে করেছিলেন এবং প্রতিবারই তিনি অল্প সময়ের মধ্যেই পালিয়ে যাওয়ার ষড়যন্ত্র করেছিলেন, তাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করেছিলেন। ফলে বড় সমস্যায় পড়তে হচ্ছিল পরিবারের সদস্যদের। একে বিরাট পরিমান টাকা চলে যাওয়া অন্যদিকে সামাজিক গঞ্জনা। ফলে আর্থিক এবং মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ছিলেন তাঁরা। এই জোড়া সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে সরাসরি পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ জমা দিলেন চার পরিবারের সদস্যরা।
ভুক্তভোগী পরিবারের মতে, নেহা নামে পরিচিত ওই মহিলা নিজেকে অবিবাহিত দাবি করে বিভিন্ন ছেলেদের বিয়ে করেছিলেন। বিয়ের পর, তিনি তাদের শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ এনে ব্ল্যাকমেইল করতেন। শুধু তাই নয়, মিমাংসার নামে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করতেন।
তবে এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কিনা তা এখনই বলা যাচ্ছে না। কারণ গোটা ঘটনার তদন্ত করছে পুলিশ। তবে অভিযোগকারীরা মনে করছেন, এই ধরণের প্রতারণা অনেক যুবক-যুবতীর ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করেছে এবং বছরের পর বছর ধরে গড়া পারিবারিক সঞ্চয় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
তাদের আরও অভিযোগ, এই ঘটনা ঘটে যাওয়ায় সামাজিক কলঙ্কের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সমস্ত অভিযোগকারী পরিবার একত্রিত হয়ে অভিযুক্ত মহিলার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে যান। তাঁদের দাবি, মামলাটিকে একটি গুরুতর প্রতারণা বলে সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে। আশ্বাস দিয়েছেন হাপুরের এসপি।
চার অভিযোগকারীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর, হাপুরের এসপি কুনওয়ার জ্ঞানঞ্জয় সিং জানিয়েছেন যে অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।