
দুইয়ের বেশি সন্তান থাকলে ভোটে দাঁড়ানো যাবে না, এই আইনি বাধা কাটাতে নিজের ছ’বছরের মেয়েকে খুন করার অভিযোগ উঠল এক সেলুনকর্মীর বিরুদ্ধে। মহারাষ্ট্র-তেলঙ্গানা সীমান্ত এলাকায় ঘটে যাওয়া এই নৃশংস ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে প্রশাসন ও স্থানীয়দের মধ্যে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তের বয়স ২৮ বছর। তিনি মহারাষ্ট্রের কেরুর গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় একজন সেলুনকর্মী। দীর্ঘদিন ধরেই আসন্ন গ্রাম পঞ্চায়েত নির্বাচনে সরপঞ্চ বা পঞ্চায়েত প্রধান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছে ছিল তাঁর। কিন্তু মহারাষ্ট্রের স্থানীয় স্বশাসন নির্বাচনে একটি স্পষ্ট আইন রয়েছে, যাঁদের দুইয়ের বেশি সন্তান রয়েছে, তাঁরা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন না। তিন সন্তানের বাবা হওয়ায় এই আইনই তাঁর রাজনৈতিক স্বপ্নের প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথমে তিনি ছেলের জন্ম সার্টিফিকেটে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেন। এ জন্য পুণে কর্পোরেশন অফিসেও যান। কিন্তু সেই চেষ্টাও ব্যর্থ হয়। এরপরই তিনি এক ভয়াবহ ও অমানবিক সিদ্ধান্ত নেন।
বাইকে করে নিয়ে গিয়ে ক্যানালে ফেলে খুন
পুলিশ জানায়, গত ২৯ জানুয়ারি অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁর ছ’বছরের মেয়েকে বাইকে তুলে মহারাষ্ট্র থেকে তেলঙ্গানার দিকে রওনা দেন। প্রায় ৯০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে তেলঙ্গানার নিজামাবাদ এলাকায় পৌঁছে একটি ক্যানালে শিশুটিকে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হয়। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্যানালে ভাসতে থাকা শিশুর দেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।
শিশুটির ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার পর তার পরিচয় নিশ্চিত হয়। তদন্তে উঠে আসে, মৃত শিশুটি অভিযুক্ত ব্যক্তিরই মেয়ে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি ছাড়াও গ্রামের বর্তমান সরপঞ্চকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
খুনের মামলায় তদন্ত, সামনে আসছে নতুন তথ্য
নিজামাবাদ পুলিশের কমিশনার পি সাই চৈতন্য জানান, শুরুতে ঘটনাটিকে অপমৃত্যু হিসেবে নথিভুক্ত করা হলেও তদন্তে খুনের প্রমাণ মেলায় মামলা রূপান্তরিত করা হয়। বর্তমানে অপহরণ ও খুনসহ ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য, শুধু ভোটে দাঁড়ানোর যোগ্যতা অর্জনের জন্য নিজের সন্তানের প্রাণ নেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত আইনের লঙ্ঘন তো বটেই, সমাজের নৈতিক মূল্যবোধেরও ভয়াবহ অবক্ষয়ের উদাহরণ। তদন্ত এখনও চলছে, এই ঘটনার সঙ্গে আর কেউ যুক্ত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।