
রাজস্থানের যোধপুরে সাধ্বী প্রেম বৈসার রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে একের পর এক প্রশ্ন উঠছে। এটি শুধু একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা নয়, বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে পুরনো বিতর্ক, ভাইরাল ভিডিও, একাধিক মামলা এবং মৃত্যুর দিনের নানা অস্পষ্টতা।
তদন্তে উঠে এসেছে, এই ঘটনার সূত্রপাত হয় ২০২৫ সালের জুলাই মাসে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি সিসিটিভি ফুটেজকে কেন্দ্র করে। তবে পরে জানা যায়, ভিডিওটি আসলে ২০২১ সালের। ওই ভিডিওর ভিত্তিতেই প্রথমবার ২৯ জুলাই ২০২২ সালে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৮৪ ধারায় একটি মামলা দায়ের হয়।
ভাইরাল ভিডিও ও আইনি জটিলতা
এই মামলায় যোগেন্দ্র কুমার ওরফে যোগরামের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা পড়ে এবং পরে আদালত তাকে জামিন দেয়। এরপর ভিডিওটি ফের ভাইরাল হওয়ায়, ১৬ জুলাই ২০২৫ সালে বোরানাদা থানায় আবারও ৩৮৪ ধারা এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৭ ধারায় মামলা রুজু হয়। সেই মামলায় চালান প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়।
সাধ্বী প্রেম বৈসা নিজেও প্রথমে ২৯ জুলাই ২০২২ সালে একটি এফআইআর দায়ের করেছিলেন। ভিডিও ফের ভাইরাল হওয়ার পর, ১৬ জুলাই ২০২৫ সালে তিনি আবার পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান। সেদিনই একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তিনি অগ্নিপরীক্ষার মুখোমুখি হতে প্রস্তুত এবং সত্য একদিন প্রকাশ পাবেই।
ইনজেকশনের পর হঠাৎ অবনতি
মৃত্যুর দিনের ঘটনাপ্রবাহ আরও বেশি প্রশ্ন তৈরি করছে। সাধ্বীর বাবা বীরমনাথ জানান, ২৮ জানুয়ারি বিকেল ৪টা ১৫ মিনিট নাগাদ তিনি একজন কম্পাউন্ডারকে ফোন করেন। প্রায় আধঘণ্টা পরে, বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে কম্পাউন্ডার আশ্রমে এসে সাধ্বীকে একটি ইনজেকশন দেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে।
বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে তাকে প্রেক্ষা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
মৃত্যুর পরের ইনস্টাগ্রাম পোস্ট ও নিখোঁজ সিসিটিভি
সাধ্বীর বাবা জানিয়েছেন, তিনি সর্দি, কাশি, ফ্লু ও জ্বরে ভুগছিলেন। তবে তার মৃত্যুর পর ইনস্টাগ্রামে দেওয়া একটি পোস্ট নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বীরমনাথের দাবি, গাড়িতে বসেই সাধ্বী তার ড্রাইভারকে ওই পোস্টটি করতে বলেছিলেন।
এছাড়াও আশ্রম থেকে সিসিটিভি ক্যামেরা উধাও হয়ে যাওয়া নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। ভক্তদের দাবি, আগে আশ্রমে সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল, কিন্তু এখন সেগুলি আর দেখা যাচ্ছে না।
তদন্ত কোন পথে?
বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। শেষকৃত্য সম্পন্ন হলেও পুলিশ এখনও ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে। সেই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই তদন্তের পরবর্তী দিকনির্দেশ ঠিক হবে।
ইনজেকশন দেওয়া কম্পাউন্ডার, পাশাপাশি মথুরাদাস মাথুর হাসপাতালের সার্জিক্যাল ওয়ার্ডের নার্সিং স্টাফ দেবী সিং রাজপুরোহিতের ভূমিকাও খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থা। সব মিলিয়ে, সাধ্বী প্রেম বৈসার মৃত্যু এখনো রহস্যের আবরণেই ঢাকা, আর সেই রহস্য উন্মোচনের চাবিকাঠি লুকিয়ে রয়েছে তদন্তের পরবর্তী ধাপে।