
রাতে ঘুমন্ত যাত্রীদের টার্গেট করে ধারাবাহিক চুরির ঘটনায় বড় সাফল্য পেল গুজরাটের সুরাট রেল পুলিশ। স্থানীয় অপরাধ শাখা (এলসিবি) এক প্রাক্তন রেলওয়ে অ্যাটেনডেন্টকে গ্রেফতার করেছে, যিনি প্যান্ট্রি কার ও যাত্রী পরিচারক হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ট্রেনে চুরি চালাত। এই গ্রেফতারের মাধ্যমে সুরাট, ভদোদরা ও ভাসাই রেলওয়ে থানায় নথিভুক্ত মোট ন’টি চুরির মামলা সমাধান হয়েছে।
পশ্চিম রেলওয়ের ভাদোদরা ডিভিশনের তত্ত্বাবধানে টহল দেওয়ার সময় গোপন সূত্রে খবর পেয়ে এলসিবির হেড কনস্টেবল প্রবীণভাই ও কনস্টেবল মেহুলভাই পশ্চিম এক্সপ্রেস থেকে অভিযুক্ত মেহুল নানজিভাই রাঠোড়কে আটক করেন। তার কাছ থেকে একটি ডেল ল্যাপটপ, দুটি মোবাইল ফোন, একটি স্মার্টওয়াচ, চার্জার ও নগদ টাকা মিলিয়ে প্রায় ৮০ হাজার টাকার সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত আগে রেলওয়েতে কাজ করত। ফলে ট্রেনের অভ্যন্তরীণ কাজকর্ম, যাত্রীদের চলাফেরা ও গভীর রাতে কখন অসতর্কতা বাড়ে, এসব সে ভালভাবেই জানত। সেই সুযোগ নিয়ে সে ও তার এক পলাতক সহযোগী নাদিয়াদ থেকে মুম্বই রুটে চলাচলকারী ট্রেনগুলিতে গভীর রাতে ঘুমন্ত যাত্রীদের কাছ থেকে ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও মূল্যবান সামগ্রী চুরি করত। জিজ্ঞাসাবাদে সে গত দুই বছরে একাধিক চুরির কথা স্বীকার করেছে।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হিসেবে পুলিশ জানিয়েছে, দেড় মাস আগে ত্রিবান্দ্রম-ভেরাভাল এক্সপ্রেস থেকে চুরি করা একটি পার্সে থাকা এটিএম কার্ড ও মোবাইল ফোন ব্যবহার করে অভিযুক্ত এটিএম পিন পরিবর্তন করে। এবং সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট থেকে ২ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকা তুলে নেন।
এই গ্রেফতারের ফলে ভারুচ-সুরাট লোকশক্তি এক্সপ্রেস, লালকুয়ান-বান্দ্রা এক্সপ্রেস, আজমির-পুরী এক্সপ্রেস, হাডপসার-যোধপুর এক্সপ্রেস, খান্দেশ এক্সপ্রেস-সহ একাধিক ট্রেনে ঘটে যাওয়া চুরির ঘটনা সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট স্টেশনগুলিতে দায়ের হওয়া মামলাগুলির তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে।
পশ্চিম রেলওয়ের ভাদোদরা ডিভিশনের ডিএসপি ডি. এইচ. গৌর জানিয়েছেন, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রেলওয়ে থানায় আরও মামলা রয়েছে। পলাতক সহযোগীকে ধরতে অভিযান চলছে এবং বাকি চুরি হওয়া সামগ্রী উদ্ধারের প্রক্রিয়াও অব্যাহত রয়েছে।