
মৃত্যুর কয়েক মিনিট আগে করা এক শিউরে ওঠা ফোনকল দিল্লি পুলিশের সোয়াট কমান্ডো কাজলের হত্যাকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হয়ে উঠল। অভিযোগ, ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় পণের দাবিতে স্বামী অঙ্কুর তাঁকে নির্মম ভাবে মারধর করে হত্যা করে।
২২ জানুয়ারির সেই ভয়াল রাতের কথা স্মরণ করে কাজলের ভাই নিখিল জানান, তিনি প্রথমে একটি ফোনকল পান অঙ্কুরের থেকে। অঙ্কুর প্রতিরক্ষা মন্ত্রকে ক্লার্ক হিসেবে কর্মরত। নিখিলের দাবি ফোনে অঙ্কুর তাঁকে হুমকি দিয়ে বলে, 'এই কলটা রেকর্ড কর, থানায় প্রমাণ হিসেবে কাজে লাগবে। আমি তোর বোনকে মারছি। পুলিশ আমার কিছুই করতে পারবে না।'
প্রায় ৫ মিনিট পর আবার একটি ফোন আসে নিখিলের কাছে। সেই ফোনের অপর প্রান্ত থেকে কাজলের চিৎকার শোনা যাচ্ছিল। এরপর অঙ্কুর বলেন, 'ও মারা গিয়েছে। হাসপাতালে চলে আয়।'
পরিবার ও পুলিশ কাজলের মোহন গার্ডেনের বাড়িতে পৌঁছনোর আগেই তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। দিল্লি পুলিশের মতে, ২৭ বছর বয়সী এই কমান্ডো, যিনি স্পেশাল টিমে যুক্ত ছিলেন, ২২ জানুয়ারি রাত প্রায় ১০টা নাগাদ নির্মম ভাবে খুনে হন। পুলিশ জানায়, অঙ্কুর কাজলের মাথা দরজায় আছড়ে দেন এবং পরে একটি ডাম্বেল দিয়ে আঘাত করেন।
ফরেনসিক পরীক্ষায় বাড়ির দরজায় এবং ওই ডাম্বেলে রক্তের দাগ পাওয়া গিয়েছে। যা কাজলের বলেই সন্দেহ। হামলার পর প্রথমে কাজলকে মোহন গার্ডেনের তারক হাসপাতাল এবং পরে গাজিয়াবাদের একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২৭ জানুয়ারি মারা যান তিনি।
কাজলের বাবা-মায়ের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের পণ সংক্রান্ত নির্যাতন থেকেই এই হত্যাকাণ্ড। কাজলের মা জানান, কলেজ থেকে সম্পর্ক ছিল তাঁদের। এরপর বিয়ে হয়। বিয়েতে সাধ্যের চেয়েও বেশি খরচ করেছিল কাজলের পরিবার। তিনি বলেন, 'আমরা পুলিশ নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছনোর সময়ে আমার মেয়ের সব গয়না নিয়ে নেওয়া হয়। প্রায়ই অঙ্কুর হুমকি দিত পুলিশ ওর কিছুই করতে পারবে না।' কাজলের মা আরও অভিযোগ করেন, দামি উপহার দেওয়া সত্ত্বেও অঙ্কুরের দাবি থামেনি। তিনি বলেন, 'আমরা লাখ টাকা দামের বুলেট বাইক দিয়েছিলাম। সে গাড়ি চাইত। আমার মেয়ে নিজে টাকায় তাঁকে গাড়ি কিনে দেয়। বিয়েতে আমরা ২০ লাখ টাকা খরচ করেছি। আগেও সে আমার মেয়ের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা নিয়েছিল। তবুও সে কখনও সন্তুষ্ট ছিল না।'
এদিকে দিল্লি পুলিশ অঙ্কুরের বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করেছে। তাঁকে গ্রেফতার করে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।