
উত্তরপ্রদেশের বান্দা জেলায় ৩৩ জন শিশুকে নির্যাতনের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত এক দম্পতিকে মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে বিশেষ আদালত। শিশু সুরক্ষা আইনের অধীনে গঠিত আদালতের বিচারক রায়ে জানান, অপরাধের প্রকৃতি ও নিষ্ঠুরতার মাত্রা বিচার করলে এটি ‘বিরলতমের মধ্যে বিরল’ ঘটনা। দোষী রামভবন এবং তাঁর স্ত্রী দুর্গাবতীর বিরুদ্ধে একাধিক শিশুকে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। নির্যাতিতদের মধ্যে কয়েকজনের বয়স ছিল মাত্র তিন বছর।
আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, ২০১০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে বান্দা ও চিত্রকূট জেলায় ধারাবাহিকভাবে এই নৃশংসতা চলেছে। রামভবন সেচ দফতরে নিম্নপদস্থ প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। শিশুদের টার্গেট করতে তিনি নানা প্রলোভনের আশ্রয় নিতেন, অনলাইনে খেলাধুলার সুযোগ, টাকা কিংবা উপহারের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের ফাঁদে ফেলতেন বলে তদন্তে জানা গেছে।
তদন্ত চলাকালীন একাধিক শিশুর শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। কারও কারও ক্ষেত্রে আঘাত এতটাই মারাত্মক ছিল যে দীর্ঘদিন চিকিৎসার প্রয়োজন হয়েছে। কয়েকজনের চোখে আঘাতেরও প্রমাণ মিলেছে। অধিকাংশ নির্যাতিত এখনও গভীর মানসিক ট্রমার মধ্যে রয়েছে।
২০২০ সালের অক্টোবরে অভিযোগ দায়েরের পর তদন্ত শুরু হয়। শিশুদের চিকিৎসা পরীক্ষা, মানসিক সহায়তা এবং ফরেনসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা হয়। ডিজিটাল তথ্যও খতিয়ে দেখা হয়। সুসংহত তদন্তের ভিত্তিতে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে আদালতে চার্জশিট জমা পড়ে।
রায়ে আদালত স্পষ্ট জানায়, এত দীর্ঘ সময় ধরে একাধিক জেলায় সংঘটিত এই অপরাধ নৈতিক অবক্ষয়ের চরম উদাহরণ। দোষীদের ক্ষেত্রে সংশোধনের কোনও সুযোগ নেই বলেই আদালতের মত। ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাই সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডই প্রযোজ্য।
এছাড়া আদালত নির্দেশ দিয়েছে, প্রত্যেক নির্যাতিত শিশুকে ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। অভিযুক্তদের বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া অর্থও সমানভাবে ভুক্তভোগীদের মধ্যে বণ্টনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, শিশুদের সুরক্ষা ও মর্যাদা রক্ষায় এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।