
হানিট্র্যাপ। শব্দটির সঙ্গে এখন কমবেশি সবাই পরিচিত। এমনই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। প্রেমের ফাঁদে ফেলে দিনের পর দিন ধনী পুরুষদের জিনিসপত্র লুটপাট করে নিত যুবতী। নিজের স্বার্থসিদ্ধি করার জন্য সে বিছানার সঙ্গীও করত পুরুষদের। সম্প্রতি সেই যুবতী পুলিশের জালে আসার পরই গোটা ঘটনা সামনে এসেছে। আর ঘটনার তদন্তে নেমে একের পর এক শিহরিত করার মতো তথ্য পাচ্ছেন গোয়েন্দারা।
অভিযুক্তের নাম দীপা আভাত্যাগী। ঘটনা কর্ণাটকের বেলগাভির। পুলিশ জানিয়েছে, অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই প্রতারণার চক্র চালানো হচ্ছিল সে। তদন্তে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে।
কীভাবে শুরু হত প্রতারণার খেলা
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বেলগাভির তিলকওয়াড়ি থানার পুলিশ ৩৩ বছরের দীপা অবত্যাগীকে গ্রেফতার করে। নিজেকে সে ফ্যাশন ডিজাইনার বলে পরিচয় দিত। আর সেই পরিচয় দিলেই লুটপাট চালাচ্ছিল বহু দিন ধরে। তার টার্গেট থাকত পয়সাওয়ালা বাড়ির পুরুষরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের সঙ্গে পরিচয় করত প্রথমে। তারপর তাদের সঙ্গে কথা বলত। বিশ্বাস অর্জন করত। সবশেষে প্রেমের অভিনয়।
ধনী পুরুষদেরই করত নিশানা
তদন্তে জানা গেছে, দীপা বিশেষভাবে এমন পুরুষদেরই টার্গেট করত যাদের আর্থিক অবস্থা ভালো। সোশ্যাল মিডিয়ায় দীর্ঘ সময় কথা বলে সে নিজেকে বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে তুলে ধরত। ধীরে ধীরে সম্পর্ক এমন জায়গায় পৌঁছাত যে ওই ব্যক্তিরা তার সঙ্গে দেখা করতে রাজি হয়ে যেত। এরপরই দীপা তাদের হোটেলে বা লজে আসার প্রস্তাব দিত।
লজে ডেকে লুটপাট
পুলিশের দাবি, দীপার টার্গেট ছিল সেই ধনী ব্যক্তিকে লজে বা হোটেলে নিয়ে এসে লুট করা। সেই মোতাবেক আগে থেকে প্লট সাজাত সে। লক্ষ্য থাকত, জিনিসপত্র নিয়ে চম্পট দেওয়া। সেজন্য সে ওই ধনী ব্যক্তিকে কোনও অজুহাতে ব্যক্তিকে বাথরুমে যেতে বলত। ভুক্তভোগী বাথরুমে ঢুকতেই দীপা ঘরে থাকা নগদ টাকা, সোনা, ব্যাগসহ মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে পালিয়ে যেত। কারও কারও তো গাড়ি নিয়ে পালানোর অভিযোগও রয়েছে।
পরে শুরু হত ব্ল্যাকমেল
প্রতারণা এখানেই শেষ হত না। তদন্তে জানা গেছে, পালিয়ে যাওয়ার পরে দীপা ভুক্তভোগীদের ফোন করত। বলত, যদি তারা টাকা দেয় তবে গাড়ি ও জিনিসপত্র ফিরিয়ে দেবে। এইভাবে দ্বিতীয়বারও টাকা আদায়ের চেষ্টা করত। অনেকেই বদনামের ভয়ে তার দাবি মেনে নিতেন।
টাকা না দিলে হুমকি
যদি কেউ টাকা দিতে অস্বীকার করতেন, তবে দীপা তাদের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ করার হুমকি দিত। এতে সামাজিক সম্মান নষ্ট হওয়ার ভয়ে অনেকেই পুলিশের কাছে অভিযোগ করতে সাহস পায়নি।
পুলিশের তদন্তে ফাঁস পুরো চক্র
অবশেষে এক ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। গোপন তদন্ত ও প্রযুক্তিগত তথ্যের সাহায্যে পুলিশ দীপা অবতাগিকে গ্রেফতার করে। পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে সে এ পর্যন্ত কতজনকে এইভাবে প্রতারণার ফাঁদে ফেলেছেন।
পলাতক সহযোগীর খোঁজে পুলিশ
পুলিশের মতে, এই চক্রে দীপা একা নন। তদন্তে তার এক সহযোগীর নামও সামনে এসেছে। তার নাম শিবানন্দ। বর্তমানে সে পলাতক এবং পুলিশ তার খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে। তদন্তকারীদের দাবি, খুব শিগগিরই তাকে গ্রেফতার করা হবে এবং পুরো প্রতারণা চক্রের পর্দাফাঁস করা হবে।