
অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন আন্তর্জাতিক সীমান্ত ও এলওসি বরাবর ভারতের গুলিবর্ষণে ১০০ পাকিস্তানি সেনার মৃত্যু হয়েছে। আজ ভারতীয় সেনা প্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী সাংবাদিক বৈঠকে এসে এমনটাই জানিয়ে দিলেন।
তিনি আরও দাবি করেন, IB এবং LC-এর কাছে ৮টি ক্যাম্প করে জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ চলছে। তবে ভারতীয় সেনা তাদের দিকে নজর রেখেছে। যদি কোনও ছোট্ট ভুলও হয়, তাহলে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে হুমকি দিয়ে রাখেন তিনি।
প্রসঙ্গত, আজ ১৫ জানুয়ারি সেনা দিবস হিসেবে পালন করে ইন্ডিয়ান আর্মি। এই দিন সেনার তরফ থেকে দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি থেকে শুরু করে বর্ডারের সমস্যা, সেনার আধুনিকীকরণ ও ভবিষ্যতের পরিকল্পনা সম্পর্কে বিশদে জানান হয়।
উত্তর দিকের বর্ডারের কী পরিস্থিতি?
এই প্রশ্নের উত্তরে আশার কথা শোনান জেনারেল দ্বিবেদী। তিনি জানান, ভারতের উত্তর ভাগের চিনের দিকের বর্ডারে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। এক্ষেত্রে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলছে। তাই পরিস্থিতি আপাতত স্থিতিশীল। যদিও নিরপত্তা নিয়ে কোনও রকম ঢিলেমি দেওয়া চলবে না। বরং কঠোর নজর থাকবে সব দিকে।
ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট এবং অপারেশন ভারমিলিয়ন
এ দিন আর্মি চিফ জানান, পেহেলগাঁও জঙ্গিহানার মাত্র ২২ মিনিটের মধ্যে অপারেশন রিসেট-এর বাস্তবায়ন হয়। পাশাপাশি অপারেশন সিঁদুরও যে এখনও চলছে, সেটাও ঘোষণা করে দেন তিনি।
পাকিস্তানকে কড়া বার্তা
এই প্রসঙ্গে তিনি জানান, জম্মু ও কাশ্মীর এখনও সংবেদনশীল। তবে মোটামুটি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এই অবস্থায় পাকিস্তান যদি কোনও ভুল পদক্ষেপ নেয়, তাহলে তার যোগ্য প্রত্যুত্তর মিলবে বলেও জানান জেনারেল দ্বিবেদী।
উত্তরপূর্বের কী পরিস্থিতি?
মণিপুর ধীরে ধীরে শান্ত হচ্ছে। নিরাপত্তারক্ষী এবং সরকারের চেষ্টায় শান্তি ফিরছে। এছাড়া মায়ানমারে ভোট হয়ে গেলে পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে বলে জানা গিয়েছে।
মর্ডানাইজেশনই আসল
জেনারেল দ্বিবেদী জানান, ভারতীয় সেনা আধুনিকীকরণে জোর দিচ্ছে। ব্রহ্মোস মিসাইল, উন্নত ড্রোন থেকে শুরু করে একাধিক আপগ্রেডেশন চলছে। পাশাপাশি তিনি এও জানান যে ভারত ৯০ শতাংশ অ্যামুইনেশন দেশেই তৈরি করছে।
মহিলাদের নিয়োগ
ভারতীয় সেনায় CMP-তে এখন মহিলাদের সৈনিক বা অগ্নিবীর হিসেবে নিয়োগ করা হবে। পাশাপাশি ACE এবং মেডিক্যালেও হবে নিয়োগ।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা
সেনার পক্ষ থেকে ২০২৬ সালকে 'ইয়ার অব নেটওয়ার্কিং অ্যান্ড ডেটা সেনট্রিসিটি' হিসেবে ঘোষণা করা হয়েথে। এর ফলে রিয়েল টাইম ডিসিশন নিতে সুবিধা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি এটাও জানান যে, বর্তমানে ভারত দেশিয় প্রযুক্তিতে যোগ দিয়েছে। নিত্যনতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের করছে চেষ্টা।