
তেলঙ্গানার কামারেড্ডি জেলায় এক মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। হাইওয়ের ধারে একটি ধাবার কাছে বিষক্রিয়ার অভিযোগে একসঙ্গে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১৫টি বাঁদরের। একই সঙ্গে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছে প্রায় ৮০টি বাঁদর। বহু বাঁদর এতটাই দুর্বল হয়ে পড়ে যে, হাঁটতেও পারছিল না।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার পর ধাবা ও সংলগ্ন এলাকাজুড়ে বাঁদরের মৃতদেহ ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। এমন দৃশ্য দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন গ্রামবাসীরা। দ্রুত গ্রামের পঞ্চায়েত প্রধান এবং এক পশুচিকিৎসককে খবর দেওয়া হয়। তাঁরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে জীবিত বাঁদরগুলিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন এবং পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, এই ঘটনা দুর্ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত। তাঁদের দাবি, অজ্ঞাত পরিচয়ের কয়েকজন ব্যক্তি একটি ভ্যানে করে বাঁদরগুলিকে ওই ধাবায় নিয়ে এসে ইচ্ছাকৃতভাবে বিষ প্রয়োগ করে ফেলে রেখে যায়। গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান মহেন্দ্র রেড্ডি ইন্ডিয়া টুডেকে জানান, এই অভিযোগের ভিত্তিতে খুব শিগগিরই পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হবে।
এই নির্মম ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পশুপ্রেমী ও পরিবেশকর্মীরা। তাঁদের মতে, এটি শুধু প্রাণীর উপর নিষ্ঠুরতা নয়, মানবিকতার ওপরও আঘাত। উল্লেখযোগ্যভাবে, এর আগেও তেলেঙ্গানার বিভিন্ন জেলায় পথ কুকুরদের বিষ প্রয়োগে হত্যার একাধিক অভিযোগ উঠেছে।
গত সপ্তাহেই পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি পূরণের অজুহাতে কামারেড্ডি ও হানামকোন্ডা জেলায় প্রায় ৫০০টি কুকুরকে বিষ দিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি ইয়াচারাম গ্রামের কাছে প্রায় ১০০টি কুকুরকে বিষ প্রয়োগে মারার ঘটনায় এক সরপঞ্চ ও আরও দু’জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে।
পরপর এমন ঘটনায় তেলঙ্গানায় পশু নিরাপত্তা ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। প্রাণীদের উপর এই নিষ্ঠুরতা অবিলম্বে বন্ধ না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলেই আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।