
কিছু দিন আগেই সংক্রামিত পানীয় জল খাওয়ার জন্য ইন্দোরে ২৩ জনের মৃত্যুর খবর এসেছিল। অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তিও ছিলেন অনেকে। আর তার রেশ মিটতে না মিটতেই আবার জলের জন্য খবরে উঠে এল এই শহর। যতদূর খবর, দূষিত জল খেয়ে আবার ২২ জন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এই শহরে।
এই নতুন কেসগুলি মূলত উঠে আসছে শহরের মোহ অঞ্চল থেকে। সেখানকার ২২ জন বাসিন্দা দূষিত জল খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠছে। অসুস্থদের মধ্যে ৯ জনকে ইতিমধ্যেই ভর্তি করতে হয়েছে হাসপাতালে। বাদবাকি রোগীদের বাড়িতেই চিকিৎসা করা হচ্ছে।
আর বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অসুস্থের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এই সংখ্যাটা ২৫ পেরিয়ে যেতেও পারে। কারণ, শুধু এই এলাকায় নয়, এর আশপাশের অঞ্চলেও সমস্যা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সরকারের তরফে কী ব্যবস্থা?
এই ঘটনায় প্রথমে সরকার কোনও ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ। বরং খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বৃহস্পতিবার রাতেই সরকারি আধিকারিকরা ওই এলাকায় যান।
ইতিমধ্যেই ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর শিভম ভার্মা হাসপাতালে গিয়ে অসুস্থদের দেখে এসেছেন। কথা বলেছেন স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে।
শুক্রবার সকাল থেকেই এলাকায় পৌঁছে গিয়েছে স্বাস্থ্য দফতরের একটি দল। তাঁরা গোটা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন। পাশাপাশি কারও যদি কোনও সমস্যা হয়, তাহলে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যও রয়েছেন তৈরি।
ইতিমধ্যেই সরকারের তরফ থেকে নতুন রোগীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। শুধু তাই নয়, রোগীদের শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী ভাগ করার কাজটিও করছেন তারা।
অনেক দিন ধরেই খবরে ইন্দোরে
মাথায় রাখতে হবে ইন্দোরে এই ঘটনা নতুন নয়। এই মাসের প্রথমেই সেখানে দূষিত জল খেয়ে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁদের বমি-ডায়ারিয়া হতে থাকে। যার ফলে সরকারি মতে ১৫ এবং সাধারণ মানুষের মতে ২৫ জনের মৃত্যু হয়।
এই ঘটনা সামনে আসার পরই উত্তপ্ত হয় রাজ্য রাজনীতি। অনেকেই অভিযোগ করেন, পায়খানা জল মিশছে পানীয় জলে। সেই জল খেতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। যার জন্য হচ্ছে ডায়ারিয়া-বমি।
ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রদেশের হাই কোর্টেও হয় মামলা। সেই মতো সরকারের তরফে পানীয় জলে সংক্রমণের তদন্তে একটি হাই লেভেল কমিটি গড়ে তোলা হয়েছে। যদিও এই কমিটিকে বিরোধীরা আইওয়াশই মনে করছেন।