
ভারতের ইতিহাসের স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে 'অপারেশন সিঁদুর'। পাকিস্তানের জঙ্গিঘাঁটিগুলোকে ওড়াতে স্বদেশি অস্ত্র পিনাকা মাল্টি ব্যারল মিসাইল ব্যবহার করেছিল ভারতীয় সেনাবাহিনী। এই রকেট ধ্বংস করেছিল বাঙ্কার।
DRDO চেয়ারম্যান সমীর ভি কামতের মতে, এই আক্রমণ করার লক্ষ্যই ছিল ভারতের শক্তি দেখানো। যাতে এরপর সন্ত্রাসবাদীদের মদত দেওয়ার আগে পাকিস্তানকে ভাবতে হয় বারবার। ভারত 'অপারেশন সিঁদুরের' সময় ১২০ কিলোমিটার দূরে হামলা চালাতে সক্ষম হয়েছিল এই মিসাইল। তবে ২০৩০ সালের মধ্যে এর রেঞ্জ বেড়ে হবে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার।
পিনাকার ভূমিকা: Mk-3 ভ্যারিয়েন্ট (১২০ কিমি পাল্লার) ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র, রাফালে জেট (SPICE-2000 এবং HAMMER বোমা দিয়ে সজ্জিত) এবং স্মারচের সঙ্গে ২৪টি হামলা চালিয়েছে। একটি ব্যাটারি (ছয়টি লঞ্চার) ৪৪ সেকেন্ডে ৭২টি রকেট নিক্ষেপ করেছে, যা ১,০০০ x ৮০০ মিটার এলাকা ধ্বংস করতে সক্ষম। স্যাটেলাইট চিত্র নিশ্চিত করেছে, মুরিদকে, শিয়ালকোট এবং জ্যাকোবাবাদের ক্যাম্প ধ্বংস করেছে এই রকেট লঞ্চার। IC-814 হাইজ্যাকিং এবং পুলওয়ামা বিস্ফোরণে অভিযুক্ত-সহ ১০০ জনেরও বেশি সন্ত্রাসবাদী এই হামলায় নিহত হয়।
পিনাকা ১৯৮৬ সালে রাশিয়ান গ্র্যাড-স্মার্চকে প্রতিস্থাপনের জন্য DRDO তৈরি করে। এর প্রথম ব্যবহার হয় ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধে। এই মিসাইল জ্বালানিতে চলে, যা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মতো গতি দেয়। শত্রুর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও এড়াতে পারে পিনাকা। থ্রোটল প্রোপালশন ব্যবহার করে মাঝপথে গতি পরিবর্তন করতে পারে। এর নিশানা এত নির্ভুল হয় যে, আস্ত রাডার সাইটও ধ্বংস করতে পারে। মাত্র ২০ সেকেন্ডে ১২টি ফায়ার করতে পারে এই অস্ত্র। ২১৬টি রকেট নিক্ষেপ করে ৩০০ কিলোমিটার দূরে একটি সম্পূর্ণ বিমানঘাঁটি ধ্বংসের ক্ষমতা রাখে। একটি এমকে৪ রকেটের দাম ৪-৫ কোটি টাকা, যেখানে একটি ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের দাম ১৫-২০ কোটি টাকা।
বৈজ্ঞানিকভাবে, এটি আর্টিলারি এবং ট্যাকটিক্যাল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ব্যবধান পূরণ করতে সক্ষম। ৩০০ কিলোমিটারের মধ্যে তিব্বতি বিমানঘাঁটি বা ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা লক্ষ্য করতে সক্ষম এই মিসাইল। ইসলামাবাদ বা করাচিতে সরাসরি আঘাত হানতে পারবে, তাও ভারত থেকেই। আন্দামান থেকে ৩০০ কিলোমিটার দূরে শত্রুর নৌবাহিনীকে ডুবিয়ে দিতে পারবে অবলীলায়।