
গতকাল ফল ঘোষণা হয়েছে গুজরাত ও হিমাচলপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনের। মোদীরাজ্যে রেকর্ড আসনে জিতেছে বিজেপি। তবে হিমাচলে হেরেছে তারা। ঠিক তার পরের দিন অ্যাজেন্ডা আজতকে হাজির হলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, দুই রাজ্য ও দিল্লির পুর নির্বাচনের ফল দেখে নিজেকে কত নম্বর দেবেন? তিনি বলেন,'গুজরাতে রেকর্ড ফল হয়েছে। সবাই ধরাশায়ী হয়েছে। উন্নয়নের সুফল এটা। গুজরাত মডেল দেশের মডেল। বিজেপির পাশে দাঁড়িয়েছেন মানুষ। হিমাচলে প্রথা বদলাতে চেয়েছিলাম। তবে সেটাও পেরেছি। প্রতিবার সরকার বদল হলে ভোটের হারে ফারাক থাকে ৫ থেকে ৬ শতাংশ। তবে এবার ভোটের হার ১ শতাংশের থেকে কম। খুব কম ভোটে হেরেছি। বিশ্লেষণ করে শোধরাব।'
২০১৪ সালে কংগ্রেসমুক্ত ভারতের ঘোষণা করেছিল বিজেপি। এখন আপ ও আঞ্চলিক দলগুলিই দেখা যাচ্ছে বিজেপির পথের কাঁটা। দিল্লি, পশ্চিমবঙ্গ এমনকি পঞ্জাবেও প্রতিপক্ষ ছোট দলগুলিই। আঞ্চলিক দলগুলিকে বাধা মানতে চাইলেন না নাড্ডা। তাঁর কথায়,'আঞ্চলিক ও জাতীয় আকাঙ্ক্ষার মেলবন্ধন ঘটাতে পারেনি কংগ্রেস। প্রথম এটা হয়েছিল তামিলনাড়ুতে। কারণ আঞ্চলিক আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। উত্তরপ্রদেশেও সমাজবাদী পার্টি চলে এল। বিহারে আটের দশক পর্যন্ত কংগ্রেসের সামনে কেউ দাঁড়াত পারত না। তার পর জাতি ও আঞ্চলিক আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব না দেওয়ায় আঞ্চলিক দল চলে এল। ঝাড়খণ্ডেও একই অবস্থা। আমরা জাতীয় ও আঞ্চলিক আকাঙ্ক্ষাকে সমান গুরুত্ব দিই। এই বদল এনেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রাষ্ট্রসঙ্ঘে গিয়ে তামিল কবিতা পড়েছিলেন। রাষ্ট্রনেতাদের দেশের বিভিন্ন প্রান্তের উপহার দিয়েছেন। প্রথমবারের মতো ৫০ বারের বেশি উত্তর-পূর্বে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।'
নাড্ডার আরও সংযোজন,'আঞ্চলিক দলগুলি পারিবারিক দল হয়ে গিয়েছে। বাংলায় দেখুন। তৃণমূল কোথা থেকে এল? আপনার দল ভেঙেই হয়েছে। সেই দলও পারিবারিক দল হয়ে গিয়েছে। ওয়ান ম্যান পার্টি হয়েছে। এভাবে বেশিদিন টেকা যাবে না।'
দেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণি সব কিছুই বিনামূল্যে চান। দানধ্যানের রাজনীতিকে আক্রমণ করেছিলেন নরেন্দ্র মোদী। এটাই নতুন চ্যালেঞ্জ? নাড্ডার কথায়,'প্রতিদিন রাজনীতির বদল হচ্ছে। প্রতিদিন মানুষের ভাবনায় বদলায়। সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ করতে হয়। যে সরকারি প্রকল্প তৈরি করেছেন প্রধানমন্ত্রী সেগুলি সব মধ্যবিত্তদের ও নিম্ন মধ্যবিত্তদের কথা মাথায় রেখে। ক্ষমতায়ন ও মনমোহিনী রাজনীতির ফারাক আছে। শৌচালয় দিয়ে আমরা মানুষকে ক্ষমতায়ন করছি। স্কুলে শৌচালয় না থাকায় মহিলারা পড়তে যাচ্ছে না। স্কুলছুটের মোকাবিলায় শৌচালয় নির্মাণ করা দরকার। অতিমারির সময় চাল, গম দেওয়া হয়েছে সবাই। ৮০ কোটি মানুষকে খাবার দেওয়া হয়েছে। আইএমএফ-র রিপোর্ট বলেছে অতি দারিদ্র্য থেকে ১ শতাংশের কমে নেমে এসেছে'।
রাহুল গান্ধীর ভারত জোড়ো যাত্রা নিয়ে নাড্ডার প্রতিক্রিয়া,'আগে ভিডিও কনফারেন্স করতেন। এখন ঘরের বাইরে বেরিয়েছেন। ফলপ্রকাশের পরের দিন আপনি আমায় ডেকে নিলেন। উনি ছুটি নিয়ে গেলেন। এটা ভারত জোড়ো নয় ভারত তোড়ো যাত্রা। আমি সেই সব লোককেই পান যারা বিভাজনের রাজনীতি করে। ওঁর দুর্বলতা দেখিয়ে আমার কোনও লাভ নেই।'