
ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬-এ আয়োজিত ‘টাটা এআই সখি’ কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি নেত্রী স্মৃতি ইরানি বলেন, 'যেমন কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে ভগবান কৃষ্ণ অর্জুনের সারথি ছিলেন, তেমনই নারীদের ক্ষমতায়নের যুদ্ধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চেয়ে ভালো সারথি আর নেই।'
তিনি ব্যাখ্যা করেন, 'আজকের দিনে এআই নারীদের জন্য দিশারী ও পরামর্শদাতার ভূমিকা নিতে পারে। সেই সারথি রথে চড়েন না, তিনি মোবাইল ফোনে চড়েন, এটাই একমাত্র পার্থক্য।' উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও আত্মনির্ভরতার ক্ষেত্রে এআই কীভাবে কার্যকর হাতিয়ার হতে পারে, তা এই কর্মশালায় হাতে-কলমে তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানের মিডিয়া পার্টনার ছিল বিজনেস টুডে ও ইন্ডিয়া টুডে গ্রুপ।
ভারতের নারীদের আর্থিক সাফল্যের প্রসঙ্গ টেনে ইরানি জানান, দেশে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর ১০ কোটি মহিলা গত দশ বছরে ১২ লক্ষ কোটি টাকার ঋণ নিয়েছেন এবং তার ৯৬ শতাংশই পরিশোধ করেছেন। তাঁর কথায়, 'এটি সাধারণ ভারতীয় মহিলাদের অসাধারণ সাফল্য।'
তিনি আরও বলেন, দেশে ৩০ লক্ষের বেশি মহিলা হস্তশিল্প ও তাঁত শিল্পে যুক্ত, যাঁদের রফতানির পরিমাণ প্রায় ৩৩ হাজার কোটি টাকা। শুধু দেশীয় বাজারেই তাঁদের বার্ষিক ব্যবসা প্রায় ৩৮ হাজার কোটি টাকা। পাশাপাশি ৪.৯০ কোটি মহিলা ‘দিশা’ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত এবং ২.৭২ কোটি মহিলা ডিজিটাল সাক্ষরতার শংসাপত্র অর্জন করেছেন।
গ্রামীণ এলাকায় নারীদের এআই শিক্ষার ক্ষেত্রে কিছু সামাজিক বাধার কথাও তুলে ধরেন ইরানি। তাঁর বার্তা, 'শাশুড়িকে শেখান, বৌমাকে শেখান, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যান, কারণ শাশুড়িও একসময় পুত্রবধূ ছিলেন।'
প্রায় ১,৬০০ অংশগ্রহণকারীর উদ্দেশে তিনি বলেন, নিজেদের কেবল যাত্রী হিসেবে ভাবলে চলবে না। উন্নয়নের গাড়ির স্টিয়ারিং হুইল নিজেদের হাতেই নিতে হবে। একই সঙ্গে এআই ব্যবহারে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, 'এআই-এর দেওয়া তথ্য সব সময় নির্ভুল নাও হতে পারে। আধার নম্বর, ব্যাঙ্কের তথ্য বা পাসওয়ার্ডের মতো ব্যক্তিগত তথ্য কখনও শেয়ার করা উচিত নয়।'