
আমেরিকা-ইজরায়েল যৌথভাবে হামলা চালিয়েছে ইরানের উপর। সেই আক্রমণে প্রাণ হারিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই। ইতিমধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই দাবি করেছেন। এমনকী ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমও স্বীকার করেছে যে মৃত্যু হয়েছে খামেনেইয়ের। আর এমন যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে বিশ্বে তেলের দামে অস্থিরতা বৃদ্ধি পেতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তার প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে ভারতেও।
আসলে এহেন যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালীতে আটকে গিয়েছে সব জাহাজ। এই কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল আমদানিতে বিঘ্ন ঘটতে পারে। যার ফলে তেলের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সমস্যার কেন্দ্রে হরমুজ প্রণালী
আসলে আমেরিকা-ইজরায়েল মিলে হামলা চালিয়েছে ইরানে। এর ফলে হরমুজ প্রণালীতে আটকে গিয়েছে অনেক তেল ভর্তি জাহাজ। তাতেই চিন্তার ভাঁজ পড়েছে বিশেষজ্ঞদের মনে।
কারণ, সারা পৃথিবীর প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এই রুট দিয়েই যায়। আর সেখানেই এত বড় জটিলতা তৈরি হলে তেলের দাম যে বাড়বে, এই কথা তো বলাই বাহুল্য! সুতরাং এটা এক কথায় ধরেই নেওয়া যায় যে আগামী কয়েক সপ্তাহে তেলের দাম অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে।
যুদ্ধের আগে থেকেই বাড়ছে দাম
মাথায় রাখতে হবে যে আমেরিকা-ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের আগে থেকেই দাম বাড়ছে অপরিশোধিত তেলের। শুক্রবারই ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে ৭২.৮৭ ডলার প্রতি ব্যারেলে পৌঁছে গিয়েছে। আর এটাই ছিল গত ৭ মাসে তেলের সর্বোচ্চ দাম। এই দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আসলে তেলের দুনিয়ার বিরাট নাম হল ইরান। এই দেশ থেকে প্রতিদিন ১.৬ মিলিয়ন ব্যারেল তেল রফতানি হয়। বেশিরভাগটাই যায় চিনে। আর যদি সাপ্লাই বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে চিন অন্য কোনও জায়গা থেকে তেল কিনবে। যার ফলে বেড়ে যেতে পারে জ্বালানির দাম।
কত হতে পারে দাম?
সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের ক্লেটন সিগেল যুদ্ধের আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন যে তেলের দাম বাড়তে পারে। তাঁর মতানুযায়ী, তেলের দাম পৌঁছে যেতে পারে ৯০ ডলার প্রতি ব্যারেলে। আর এখন তো যুদ্ধ পরিস্থিতি। তাই দাম আরও বৃদ্ধি পাতে পারে। এই যেমন আমেরিকাতেই গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পেতে পারে ৩ ডলার প্রতি গ্যালন।
আর এই বিপদের শিকার হতে পারে ভারতও। যদিও ভারতের তেল সংস্থাগুলি এখনও দাম বৃদ্ধি নিয়ে কিছুই ঘোষণা করেনি। তাই এখনই চিন্তা করবেন না।