
দেশজুড়ে লোকসভা আসনের পুনর্বিন্যাস হলে তামিলনাড়ুর আসন সংখ্যা কমে যাবে! তামিলভূমের মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্টালিনের এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি আশ্বস্ত করলেন, তামিলনাড়ুর একটাও আসন কমবে না।
আগামী বছরেই লোকসভা আসনগুলির পুনর্বিন্যাস হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। জনসংখ্যার ভিত্তিতে হওয়ার কথা যোগ-বিয়োগ প্রক্রিয়া। অনেকের আশঙ্কা, দক্ষিণের রাজ্যগুলির লোকসভা আসন কমতে পারে। আর এই বিষয়টি নিয়েই কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপি ও তামিলনাড়ুর শাসক দল ডিএমকে-র মধ্যে শুরু হয়েছে সংঘাত। স্টালিনের দাবি,'সংসদে আমাদের প্রতিনিধিত্ব কমবে। তামিলনাড়ুর কণ্ঠরোধের চেষ্টা হচ্ছে। এটা তামিলনাড়ুর অধিকারের বিষয়। দলমত নির্বিশেষে সব রাজনৈতিক দলের এটা নিয়ে সরব হওয়া দরকার'।
তবে স্টালিনের আশঙ্কার নেপথ্যে কোনও কারণ নেই বলে মনে করেন অমিত শাহ। তাঁর কথায়,'লোকসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন, পুনর্বিন্যাসের পর দক্ষিণের কোনও রাজ্যেরই আসন সংখ্যা কমবে না'।
দক্ষিণের রাজ্যগুলির উপরে তরোয়াল ঝুলছে বলে মন্তব্য করেছেন স্টালিন। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করেও লোকসভায় তামিলনাড়ুর প্রতিনিধিত্ব দুর্বল হবে বলে তাঁর মত। পুনর্বিন্যাসের প্রভাব নিয়ে আলোচনার জন্য ৪০টি রাজনৈতিক দলকে নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছেন তামিল মুখ্যমন্ত্রী। আগামী ৫ অগাস্ট ওই বৈঠক হওয়ার কথা।
আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে তামিলনাড়ুতে এখন ডিএমকে ও বিজেপির সংঘাত তুঙ্গে। স্টালিন দাবি করেছেন,'২০২৬ সালের জনগণনার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস দক্ষিণের রাজ্যগুলির জন্য বিপজ্জনক হতে চলেছে। জনসংখ্যার নিয়ন্ত্রণে দারুণ কাজ করেছে তামিলনাড়ু। কিন্তু সেটাই এখন সংসদে আসন সংখ্যা কমার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করে দেওয়া হতে চলেছে। এটা কীভাবে যুক্তিগ্রাহ্য হতে পারে?'
মুখ্যমন্ত্রী অকারণে ভীতি ছড়াতে চাইছেন বলে পাল্টা দিয়েছেন তামিলনাড়ু বিজেপির রাজ্য সভাপতি আন্নামালাই। তাঁর বক্তব্য,'ভাষা নিয়ে ডিএমকে-র প্রচার রাজ্যের মানুষের কাছে প্রভাব ফেলতে পারেনি। তাই ওরা এবার নতুন ইস্যু নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। প্রধানমন্ত্রী তো স্পষ্টই বলেছেন, পুনর্বিন্যাসের সব রাজ্যকেই সুবিধা দেবে'।