
লাচেন থেকে চুংথাং-এর সংযোগকারী রাস্তার একটি অংশ ভেঙে যাওয়ায় ভয়াবহ পরিস্থিতি সিকিমে। দক্ষিণবঙ্গে গরমের দাপট বাড়তেই পাহাড়মুখী হচ্ছেন বহু মানুষ এরপর গরমের ছুটিতেও পর্যটকদের ঢল নামবে সিকিমে। এহেন সময়ে সিকিমে বিপর্যয়ে আটকে পড়লেন প্রায় ৮০০-র বেশি পর্যটক। জানা যাচ্ছে, সিকিমের মঙ্গন জেলায় চুংথাং যোগাযোগকারী রাস্তাটি বন্ধ। যার জেরে রবিবার থেকেই আটকে পড়েছেন ৮০০-র বেশি পর্যটক।
পর্যটকদের কী পরামর্শ দিল সিকিম প্রশাসন?
লাচেন–চুংথাং রোডের উপর তারুম চু ব্রিজের কাছে বিরাট ভাঙন হয়েছে। এর জেরে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা আপাতত বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ জারি করেছে জেলা প্রশাসন। ফলে লাচেনে থাকা পর্যটকেরা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। আটকে পর্যটকদের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত খবর, সিকিম প্রশাসন পর্যটকদের পরামর্শ দিয়েছে, যাঁরা লাচেনে আটকে পড়েছেন, তাঁরা সেখানেই যেন থাকেন। কোনও রকম মুভমেন্ট না করাই ভাল। কারণ আবহাওয়ার পরিস্থিতি ভাল নয়।
কোন পথে পর্যটকদের উদ্ধার?
আজ অর্থাত্ সোমবার থেকে ওই পর্যটকদের উদ্ধারের চেষ্টা করছে সিকিম প্রশাসন। তবে পুরোটাই নির্ভর করছে তুষারের পুরু আস্তরণ সরিয়ে রাস্তা কত দ্রুত সাফ করা যায়, তার উপরে। হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস, তুষারপাত আরও বাড়তে পারে। জানা যাচ্ছে, পর্যটকদের উদ্ধার করে লাচেন-ডঙ্খা লা ও লাচুং-গ্যাংটক দিয়ে পাস করানোর। তবে আবহাওয়া অনুকূল হলে তবেই এটা সম্ভব।
জেলা প্রশাসন নিরাপদ ও দ্রুত উদ্ধার নিশ্চিত করতে পুলিশ, আইটিবিপি, বর্ডার রোডস অর্গানাইজেশন (বিআরও) এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে কাজ করছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় রাস্তা মেরামত ও তুষার অপসারণের কাজ চলছে। তবে উদ্ধার অভিযান ঠিক কখন শুরু হবে, তা নির্ভর করবে সেই সময়ের আবহাওয়া ও রাস্তার পরিস্থিতির উপর।
উদ্বোধনের একসামের মধ্যেই ধসের কবলে
মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকেই সিকিমে নানা বিপর্যয় চলছে। গত ২৫ মার্চ উত্তর সিকিমের চুনথাঙেই একাধিক জায়গায় ধস নামে। সঙ্গে প্রবল বৃষ্টিও। আটকে যান প্রায় ২০০ পর্যটক। উত্তর সিকিমের লাচেনে তারুম চু এলাকায় সম্প্রতি সেতু তৈরি করা হয়েছিল। গত ফেব্রুয়ারি মাসে তার উদ্বোধন হয়। এই সেতুর মাধ্যমে সিকিমের পার্বত্য এলাকায় পর্যটক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াত কিছুটা সুগম হয়েছিল। কিন্তু এক মাসের মাথায় সেই সেতুর একাংশ ধসের কবলে।