Advertisement

Himanta Biswa Sharma: অসমে হিন্দু ভোট সংহতির ডাক হিমন্তর, সেই লক্ষ্যেই ঘুঁটি সাজাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী

Himanta Biswa Sharma: হিমন্তর যুক্তি হলো, অসমের জনবিন্যাস এবং সংস্কৃতির রক্ষাকবচ হিসেবে হিন্দু সমাজের ঐক্যবদ্ধ হওয়া একান্ত প্রয়োজন। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “আমি চাই অসমের প্রতিটি হিন্দু ঘর থেকে বিজেপির সমর্থন আসুক। এটা কেবল ভোটব্যাঙ্কের লড়াই নয়, এটা পরিচিতি রক্ষার লড়াই।”

Himanta Biswa Sarma: হিমন্ত বিশ্বশর্মাHimanta Biswa Sarma: হিমন্ত বিশ্বশর্মা
Aajtak Bangla
  • নয়াদিল্লি,
  • 12 Mar 2026,
  • अपडेटेड 11:53 PM IST

Himanta Biswa Sharma: উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজনীতির আঙিনায় তিনি এখন অন্যতম প্রধান কুশীলব। আসন্ন নির্বাচনের দামামা বাজার আগেই অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা তাঁর রাজনৈতিক কৌশলের তূণ থেকে বের করলেন মেরুকরণের শাণিত অস্ত্র। গুয়াহাটিতে আয়োজিত এক সংবাদমাধ্যমের সম্মেলনে হিমন্ত স্পষ্ট করে দিলেন, রাজ্যের সমস্ত হিন্দু ভোটকে ভারতীয় জনতা পার্টির ছাতার তলায় আনাই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে উত্তর-পূর্বাঞ্চল তো বটেই, জাতীয় রাজনীতিতেও চর্চা শুরু হয়েছে জোর কদমে।

হিমন্তর যুক্তি হলো, অসমের জনবিন্যাস এবং সংস্কৃতির রক্ষাকবচ হিসেবে হিন্দু সমাজের ঐক্যবদ্ধ হওয়া একান্ত প্রয়োজন। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “আমি চাই অসমের প্রতিটি হিন্দু ঘর থেকে বিজেপির সমর্থন আসুক। এটা কেবল ভোটব্যাঙ্কের লড়াই নয়, এটা পরিচিতি রক্ষার লড়াই।” রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের আগে হিন্দু ভোটারদের আবেগ উস্কে দিয়ে একতরফা সমর্থন আদায় করতেই হিমন্ত এই রণকৌশল নিয়েছেন। এমনকী কংগ্রেসের লোকেদেরও তিনি বিজেপি আনবেন বলে দাবি করেন। এমনকী তাঁর অনেক গোপন বন্ধু কংগ্রেসে রয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

এদিনের সম্মেলনে হিমন্তকে তাঁর চিরাচরিত আক্রমণাত্মক মেজাজেই দেখা গিয়েছে। বিরোধীদের তোপ দেগে তিনি জানান, ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির খাতিরে যারা বিশেষ কোনো সম্প্রদায়কে তোষণ করে, তাদের বিরুদ্ধে হিন্দু ঐক্যের প্রাচীর গড়া হবে। তাঁর দাবি, উন্নয়নের সুফল হিন্দু সমাজ পেলেও ভোটের ক্ষেত্রে যদি অনৈক্য থাকে, তবে তা রাজ্যের সুদূরপ্রসারী ক্ষতি করবে। এই কারণেই তিনি প্রতিটি হিন্দুকে বিজেপির পতাকাতলে আনার শপথ নিয়েছেন।

অসমে অনুপ্রবেশ এবং জনবিন্যাসের পরিবর্তন নিয়ে হিমন্ত বরাবরই সরব। এদিনের আলোচনাতেও সেই প্রসঙ্গ উঠে আসে। তিনি মনে করেন, হিন্দু ভোটাররা যদি বিচ্ছিন্ন হয়ে বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে যায়, তবে নির্ণায়ক শক্তি হিসেবে তাদের গুরুত্ব কমবে। ফলে অসমের ভূমিপুত্রদের স্বার্থ রক্ষায় বিজেপির বিকল্প নেই বলেই তিনি সওয়াল করেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যে বিভাজনের রাজনীতির গন্ধ পাচ্ছে বিরোধী শিবির।

Advertisement

হিমন্ত এদিন দাবি করেন, বিজেপি শাসিত অসমে পরিকাঠামো এবং অর্থনীতির ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। কিন্তু এই উন্নয়নের ফসল ঘরে তুলতে হলে আদর্শগত সংহতিও প্রয়োজন। তিনি মনে করেন, হিন্দু সমাজের সর্বাত্মক সমর্থন থাকলে অসমকে এক উন্নত রাজ্যে পরিণত করার কাজ আরও গতি পাবে। কেবল উন্নয়ন নয়, আদর্শগত লড়াইয়েও বিজেপিকে জয়ের শিখরে নিয়ে যেতে চান তিনি।

আগামী বিধানসভা নির্বাচনের বৈতরণী পার হতে হিমন্ত যে মেরুকরণকেই প্রধান তুরুপের তাস করছেন, তা এখন দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। উত্তর-পূর্বের এই রাজ্যে হিন্দু ভোটারদের বড় অংশ এমনিতেই বিজেপির সমর্থক, কিন্তু হিমন্ত চাইছেন সেই সমর্থনকে একশো শতাংশের কাছাকাছি নিয়ে যেতে। এই লক্ষ্য পূরণে তিনি কেবল দলীয় নেতৃত্ব নয়, আরএসএস এবং অন্যান্য সহযোগী সংগঠনকেও ঝাঁপিয়ে পড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

সবশেষে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন, তিনি জনগণের নাড়ি বোঝেন। তাঁর বিশ্বাস, অসমের হিন্দু সমাজ সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তই নেবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হিমন্তর এই ‘অল হিন্দু অ্যাজেন্ডা’ বিরোধীদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। এখন দেখার, এই রণকৌশল আগামী নির্বাচনে পদ্ম শিবিরকে কতটা স্বস্তি দেয় আর বিরোধীদের জন্য কতটা কাঁটা হয়ে দাঁড়ায়।

 

Read more!
Advertisement
Advertisement