
ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের ফলে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি টালমাটাল। এই অবস্থায় অযোধ্যাতেও LPG সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে বলে খবর। যার ফলে স্থানীয় মঠ ও মন্দিরগুলিতে কমিউনিটি কিচেন এবং প্রসাদ প্রস্তুতি মারাত্মক ভাবে প্রভাবিত হয়েছে। গ্যাসের অভাবে আমাভা মন্দির প্রশাসন 'শ্রী রাম রসোই' সাময়িক ভাবে বন্ধ রেখেছে। যেখানে প্রতিদিন ১০ হাজার ভক্তকে প্রসাদ বিলি করতো। পাশাপাশি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হনুমানগড়ির প্রায় ১৫০ জন দোকানদার লাড্ডু তৈরি করতে গিয়ে সঙ্কটে পড়েছেন। গ্যাসের ঘাটতির কারণে এই পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ দিকে যাচ্ছে এবং এতে হোটেল-রেস্তোরাঁ ব্যবসা লাটে ওঠার জোগাড়!
রাম রসোইতে নোটিশ
রাম মন্দিরের কাছে অবস্থিত আমাভা মন্দিরের 'শ্রী রাম রসোই'-এর বাইরে প্রশাসন একটি নোটিশ টাঙিয়ে দিয়েছে। মন্দির কর্তপক্ষের তরফে পঙ্কজ কুমার বলেন, 'যুদ্ধের কারণে দেশে গ্যাস সঙ্কট। এর জেরে এই রসোই বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছিল আমরা। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলেই কেবল পরিষেবাটি পুনরায় শুরু হবে।' এই সিদ্ধান্তের ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা হাজার হাজার ভক্তের বিনামূল্যে খাবার বন্ধ হয়ে গিয়েছে। যা কার্যত জরুরি অবস্থা তৈরি করেছে অযোধ্যার রাম মন্দির এলাকায়।
এই সঙ্কট সিদ্ধপীঠ হনুমানগড়িতেও পৌঁছে গিয়েছে। প্রসাদ বিক্রেতা নন্দকুমার গুপ্ত ব্যাখ্যা করেছেন, গ্যাসের অভাবে লাড্ডু উৎপাদন বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কেবল পুরনো মজুত থাকা লাড্ডু বিক্রি হচ্ছে। এখানকার প্রতিটি দোকানদার প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ কেজি লাড্ডু প্রস্তুত করেন। তবে এখন আশঙ্কা করা হচ্ছে, বজরঙবলীকে নৈবেদ্য দেওয়ার ব্যবস্থা প্রভাবিত হবে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে যদি এই অবস্থা চলতে থাকে তাহলে অযোধ্যার বিখ্যাত প্রসাদ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
পর্যটন ও ব্যবসা-বাণিজ্য প্রভাবিত
গ্যাসের ঘাটতির সরাসরি প্রভাব পড়ছে অযোধ্যা হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলিতে। মালিকদের মতে গত ২ দিন ধরে সিলিন্ডার পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে এবং অভ্যন্তরীণ বুকিংও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং সাধু-সন্তরা মনে করছেন, যদি সরবরাহ শীঘ্রই স্বাভাবিক না হয়, তাহলে খরচ বেড়ে যাবে। পর্যটকদের খাবারের জন্য ঘাটতি পূরণ করতে হবে। অর্থাৎ জ্বালানির সঙ্কট মধ্যবিত্তের হেঁশেল থেকে রাম জন্মভূমির প্রসাদেও পড়তে শুরু করেছে।