
তিন দিনের সফরে মঙ্গলবারই উত্তরবঙ্গে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার মাঝেই আজ মেঘালয়ে জনসভা করবেন মমতা। সঙ্গে থাকছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। প্রসঙ্গত, ফেব্রুয়ারিতেই বিধানসভা নির্বাচন উত্তর-পূর্বের এই রাজ্যটিতে। ২০২৪ এর লোকসভা ভোটের আগে বাংলার বাইরেও এবার সরকার গঠন করতে মরিয়া তৃণমূল কংগ্রেস। আর তাই ভোটের দিন ঘোষণার আগেই মেঘালয় নিয়ে ঝাপিয়ে পড়েছে তৃণমূল। আসন্ন মেঘালয় বিধানসভা নির্বাচনে দল ভাল করবে বলেই আশাবাদী শীর্ষ নেতৃত্ব।
ঘনবসতিপূর্ণ তুরাতেই এদিন জনসভা করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মেঘালয়ের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও বর্তমান বিরোধী দলনেতা মুকুল সাংমা দুজনেই এই তুরা লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত দুই বিধানসভার বিধায়ক। এই তুরা লোকসভা কেন্দ্রের মধ্য়ে রয়েছে ২৪ টি বিধানসভা কেন্দ্র। বলা যায়, মেঘালয়ের রাজনীতি অনেকাংশেই স্থির করে তুরা। পূর্ণ সাংমা পরিবারের খাস তালুক তুরা থেকেই তাই গুটি সাজাতে চাইছেন মমতা ও অভিষেক। এদিনের জনসভায় মমতা ও অভিষেক ছাড়াও উপস্থিত থাকবেন মেঘালয়ের তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি চার্লস পাইনগ্রোপে, বিধানসভার দলনেতা মুকুল সাংমা এবং মেঘালয়ের তৃণমূলের পর্যবেক্ষক মানস ভুঁইয়া।
বর্তমানে মেঘালয়ে প্রধান বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস। মুকুল সাংমার হাত ধরে ইতিমধ্যেই বিরোধী দলের মর্যাদা পেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমার বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার হাওয়াও রয়েছে রাজ্যে। আর সেই আবহেই বাংলার বাইরে এই রাজ্যেও সরকার গড়ার স্বপ্ন দেখছে তৃণমূল। গত ডিসেম্বরেই মেঘালয় সফর করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শিলংয়ে কর্মীসভা করে মেঘালয় যদি তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসে তাহলে সাধারণ মানুষকে তাদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়াও সে রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে বাংলার মতো লক্ষ্মীর ভান্ডার চালু করার কথাও ঘোষণা করেছিলেন তিনি। তৃণমূল এই রাজ্যে আসন পাওয়া নিয়ে অন্য রাজ্যের চেয়ে একটু বেশি আশাবাদী।
সূত্রের খবর অনুযায়ী , নির্বাচন কমিশন চলতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবারের মধ্যেই মেঘালয়, ত্রিপুরা এবং নাগাল্যান্ডে নির্বাচনের দিন ঘোষণা করতে পারে। তৃণমূল এবার ত্রিপুরা এবং মেঘালয় ভোট প্রার্থী দিতে চাইছে। এর আগে মেঘালয়ের বিধানসভার ভোটে তৃণমূল কংগ্রেসকে লড়তে দেখা যায়নি। তবে এবার তৃণমূল কংগ্রেস ইতিমধ্যেই ৫২ টি আসনে তাদের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে। তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ সম্প্রতি বলেছেন, ‘বাংলার পর মেঘালয় হতে চলেছে দ্বিতীয় রাজ্য, যেখানে তৃণমূল সরকার গড়বে।’