
বিহারের নালন্দা জেলায় প্রকাশ্য রাস্তায় এক তরুণীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভ ছড়িয়েছে। অভিযোগ, শুধু হামলাই নয়, গোটা ঘটনার ভিডিও তুলে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। যা নিয়ে আরও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ঘটনাটি ২৬ মার্চ সন্ধে ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে নুরসরাই থানার অন্তর্গত একটি এলাকায় ঘটে। প্রায় ২০ বছর বয়সী ওই তরুণীর অভিযোগ, বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে গ্রামেরই তিন ব্যক্তি তাঁকে আটকায়। এরপর তাঁকে রাস্তায় টেনেহিঁচড়ে নিয়ে গিয়ে শ্লীলতাহানি করা হয় এবং ধর্ষণের চেষ্টা চালানো হয়।
তরুণীর দাবি, তিনি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও অভিযুক্তরা তার পোশাক ছিঁড়ে ফেলে এবং অর্ধনগ্ন অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। তিনি চিৎকার করে সাহায্য চাইলেও আশপাশের কেউ এগিয়ে আসেনি। বরং কিছু পথচারী ঘটনার ভিডিও তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন, যা এই ঘটনার মানবিক দিকটিকে আরও প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
পরে জানা যায়, অভিযুক্তদেরই একজন এই ঘটনার প্রায় ৪০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও তৈরি করে, যা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। সেই ভিডিও সামনে আসার পরই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
২৭ মার্চ ভুক্তভোগী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ২০২৩-এর প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই দুই অভিযুক্ত, অশোক যাদব এবং মাত্রু মাহাতো ওরফে নবনীত কুমারকে গ্রেফতার করে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। তৃতীয় অভিযুক্ত রবিকান্ত কুমারের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনায় একদিকে যেমন নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, তেমনই বিপদের মুহূর্তে সাহায্যের বদলে ভিডিও ধারণে ব্যস্ত থাকা সমাজের একাংশের ভূমিকাও তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের নিজের জেলা নালন্দায় এমন ঘটনা ঘটায় রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।