
ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি), ভারতীয় হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি)-এর মতো দলগুলিকে রাষ্ট্রীয় সমাজ সেবক সংঘ (RSS) নিয়ন্ত্রণ করে না। বরং ওই দলগুলিকে স্বাধীনভাবে কাজ করে। খোদ RSS প্রধান মোহন ভাগবত এই তথ্য জানিয়েছেন।
শুক্রবার ভোপালে সংঘের শতবর্ষ পূর্তির একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে এই বিষয়ে মুখ খুলেছিলেন RSS প্রধান। তিনি দাবি করেন, RSS-কে শুধুমাত্র বিজেপি বা বিশ্ব হিন্দু পরিষদের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা উচিত নয়। সংঘ কোনও রাজনৈতিক দলের রিমোট কন্ট্রোল নয়, বরং সমাজ গঠনের জন্য একটি সংগঠন। হিন্দুদের শান্তিপূর্ণভাবে সংগঠিত করার জন্য সংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এর সঙ্গে তিনি যোগ করেন, 'হিন্দুধর্ম কোনও জাতি নয়, বরং এমন একটি মনোভাব যা সমস্ত সম্প্রদায় এবং ধর্মকে সম্মান করে।'
RSS এখনও সব জায়গায় পৌঁছতে পারেনি
RSS-এর সাংগঠনিক সম্প্রসারণ সম্পর্কে বলতে গিয়ে মোহন ভাগবত বলেন, "বর্তমানে প্রায় ৬০ লক্ষ স্বেচ্ছাসেবক RSS-এর সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু দেশে হিন্দু হিসেবে পরিচয় দেওয়া মানুষের সংখ্যা প্রায় ১ বিলিয়ন।" এরপরেই তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, আরএসএস এখনও শহরাঞ্চল এবং অন্য অনেক অঞ্চলে প্রায় ১০,০০০ জনবসতিতে সম্পূর্ণরূপে পৌঁছাতে পারেনি। ভাগবত বলেন, 'এই ধরনের বসতিতে পৌঁছানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ।'
তিনি বলেন, "সাধু-ঋষি থেকে শুরু করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব, অনেক সংগঠন সংঘের সঙ্গে যুক্ত। আমেরিকা এবং আফ্রিকার মতো দেশ থেকে মানুষ সংঘের পদ্ধতি বুঝতে আসে এবং জিজ্ঞাসা করে, কীভাবে সংঘ নিজেদের যুবসমাজকে এইভাবে প্রস্তুত করে।"
RSS প্রধান হিন্দুত্বকে কোনও জাতি-ধর্ম হিসেবে দেখতে নারাজ। বরং তিনি হিন্দুত্বকে মানসিকতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, হিন্দু ও ভারত -এক এবং অদ্বিতীয়। যা অনাদিকাল থেকে বিদ্যমান এবং এখনও প্রাসঙ্গিক।
এরপর RSS -এর সঙ্গে অন্য দলের সম্পর্ক নিয়ে বলতে গিয়ে ভাগবত বলেন, "কেউ যদি বিজেপি, ভিএইচপি, অথবা বিদ্যা ভারতীর দিকে তাকিয়ে সংঘকে বোঝার চেষ্টা করে, তাহলে তারা কখনই এর মূল আদর্শ বুঝতে পারবে না।"