
চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে নির্বাচনী ট্রাস্টগুলির মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলির কাছে বিপুল অঙ্কের অনুদান পৌঁছেছে। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস (এডিআর)-এর সাম্প্রতিক রিপোর্টে একথা জানানো হয়েছে। এই অর্থবর্ষে নির্বাচনী ট্রাস্টগুলি মোট ৩,৮২৬.৩৪ কোটি টাকা অনুদান সংগ্রহ করেছে। এবং প্রায় সমপরিমাণ অর্থ, ৩,৮২৬.৩৫ কোটি টাকা। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিলি করেছে। এর মধ্যে ৮২ শতাংশেরও বেশি অর্থ গিয়েছে বিজেপির ঝুলিতে।
কার ঝুলিতে কত?
রিপোর্ট অনুযায়ী, বিজেপি পেয়েছে ৩,১৫৭.৬৫ কোটি টাকা, যা মোট তহবিলের ৮২.৫২ শতাংশ। কংগ্রেস পেয়েছে ২৯৮.৭৭ কোটি টাকা (৭.৮১ শতাংশ)। এবং তৃণমূল পেয়েছে ১০২ কোটি টাকা (২.৬৭ শতাংশ)। বাকি ১৯টি রাজনৈতিক দল মিলিয়ে পেয়েছে ২৬৭.৯১ কোটি টাকা।
কোন ট্রাস্ট কত দিল?
২০টি নিবন্ধিত নির্বাচনী ট্রাস্টের মধ্যে ১০টি ট্রাস্ট ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে অনুদান গ্রহণের কথা জানিয়েছে। এর মধ্যে প্রুডেন্ট ইলেক্টোরাল ট্রাস্ট একাই ১৫টি রাজনৈতিক দলকে ২,৬৬৮.৪৬ কোটি টাকা দিয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা প্রগ্রেসিভ ইলেক্টোরাল ট্রাস্ট ১০টি দলকে ৯১৪.৯৭ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছে।
তবে পাঁচটি ট্রাস্ট নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরও তাদের রিপোর্ট নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেনি বলে এডিআর জানিয়েছে।
অনুদানের উৎস
মোট ২২৮টি কর্পোরেট বা ব্যবসায়িক সংস্থা মিলিয়ে দিয়েছে ৩,৬৩৬.৮১ কোটি টাকা। অন্যদিকে ৯৯ জন ব্যক্তি মিলিয়ে অনুদান দিয়েছেন ১৮৭.৬২ কোটি টাকা। শীর্ষ ১০ দাতা একাই দিয়েছেন প্রায় ১,৯০৮.৮৬ কোটি টাকা, যা মোট অনুদানের প্রায় ৪৯.৮৯ শতাংশ।
একাই সবথেকে বেশি টাকা দিয়েছে এলিভেটেড অ্যাভিনিউ রিয়েলটি এলএলপি। ৫০০ কোটি। এরপর রয়েছে টাটা সন্স (৩০৮.১৩ কোটি টাকা), টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (২১৭.৬২ কোটি টাকা)। এবং মেঘা ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড (১৭৫ কোটি টাকা)।
খাত ও রাজ্যভিত্তিক চিত্র
খাতভিত্তিক হিসাবে উৎপাদন খাত থেকে এসেছে সর্বাধিক অনুদান, ১,০৬৩.১২ কোটি টাকা (২৭.৭৮ শতাংশ)। এর পর রয়েছে রিয়েল এস্টেট খাত (৬২৯.১৭ কোটি টাকা) এবং যোগাযোগ/আইটি/টেলিকম খাত (৪৫১.৮৫ কোটি টাকা)।
রাজ্যভিত্তিক অনুদানে শীর্ষে রয়েছে মহারাষ্ট্র (১,২২৫.৪২ কোটি টাকা)। এর পর রয়েছে তেলঙ্গানা, হরিয়ানা, পশ্চিমবঙ্গ ও গুজরাট। তবে ১,০৬৫.২০ কোটি টাকার অনুদানের ক্ষেত্রে দাতাদের ঠিকানা প্রকাশ করা হয়নি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন
এডিআর জানিয়েছে, একাধিক ট্রাস্ট নিয়ম মেনে সময়মতো রিপোর্ট দাখিল করেনি। এমনকি একটি ট্রাস্ট প্রাপ্ত অনুদানের তুলনায় বেশি অর্থ বিলি করেছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
২০১৩ সালের ইলেক্টোরাল ট্রাস্ট স্কিম অনুযায়ী, সংস্থাগুলি স্বেচ্ছায় অনুদান গ্রহণ করে তা স্বচ্ছভাবে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে বিলি করতে পারে। এই ট্রাস্টগুলিকে অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় প্রত্যক্ষ কর বোর্ড (CBDT) এবং নির্দিষ্ট শর্তে তাদের অনুমোদন নবায়ন হয়।
এডিআর বৃহত্তর স্বচ্ছতার দাবি জানিয়ে বলেছে, যারা নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা মানছে না তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। পাশাপাশি কর্পোরেট রাজনৈতিক অনুদানের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ জনসমক্ষে প্রকাশের ওপর জোর দিয়েছে সংস্থাটি।
উল্লেখ্য, ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার মাধ্যমে বেনামী অনুদানের সুযোগ রাখা নির্বাচনী বন্ড প্রকল্প ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্ট অসাংবিধানিক ঘোষণা করে বাতিল করে দেয়। সেই প্রেক্ষাপটে নির্বাচনী তহবিলের স্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।