
২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে পর্যটন খাতকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে একাধিক বড় ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। তাঁর কথায়, 'পর্যটন আর শুধু ভ্রমণের মাধ্যম নয়, এটি আগামী দিনে দেশের অর্থনীতি ও যুবসমাজের কর্মসংস্থানের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে। সেই লক্ষ্যেই বাজেটে পর্যটনকে বিশ্বমানের করে তোলার রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে।'
হসপিটালিটি খাতে জাতীয় স্তরের নতুন প্রতিষ্ঠান
বাজেটে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হসপিটালিটি প্রতিষ্ঠার ঘোষণা করা হয়েছে। বিদ্যমান হোটেল ম্যানেজমেন্ট কাউন্সিলকে উন্নীত করেই এই প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে। এর মাধ্যমে হোটেল ও হসপিটালিটি সেক্টরে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ চালু হবে। শুধু বড় হোটেল নয়, ছোট হোমস্টে ও লজগুলিও এই ব্যবস্থার মাধ্যমে নিজেদের পরিষেবার মান উন্নত করতে পারবে, ফলে ভারতে আসা পর্যটকদের অভিজ্ঞতা হবে আরও উন্নত ও বিশ্বমানের।
IIM থেকে প্রশিক্ষণ পাবেন ১০,০০০ ট্যুরিস্ট গাইড
পর্যটকদের কাছে ভারতের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরার ক্ষেত্রে ট্যুরিস্ট গাইডদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণেই এই ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একটি বিশেষ পাইলট প্রকল্পের আওতায় দেশের ২০টি আইকনিক পর্যটন কেন্দ্রে কর্মরত ১০,০০০ ট্যুরিস্ট গাইডকে ১২ সপ্তাহের উচ্চস্তরের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এই প্রশিক্ষণ হবে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট (IIM)-এর তত্ত্বাবধানে। এর ফলে গাইডদের যোগাযোগ দক্ষতা, আচরণগত জ্ঞান এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা অনেকটাই বাড়বে।
ঐতিহ্যের ডিজিটাল জ্ঞানভাণ্ডার
ডিজিটাল ভারতের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে সরকার গড়ে তুলতে চলেছে ‘জাতীয় গন্তব্য ডিজিটাল জ্ঞান গ্রিড’। এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ভারতের সাংস্কৃতিক, ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। শুধু তথ্যভান্ডার হিসেবেই নয়, এই উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় গবেষক, ইতিহাসবিদ ও কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য হাজার হাজার নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে ভারতের ঐতিহ্যের গল্প বিশ্ব দরবারে পৌঁছনোর ফলে পর্যটকদের আগমনও বাড়বে।
অ্যাডভেঞ্চার ও ইকো-ট্যুরিজমে জোর
প্রকৃতিপ্রেমী ও অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের জন্যও সুখবর রয়েছে বাজেটে। সরকার ইকো-ট্যুরিজম ও প্রকৃতি-ভিত্তিক পর্যটনে বড় বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড ও জম্মু-কাশ্মীরের তুষারাবৃত পাহাড়ি পথ থেকে শুরু করে দক্ষিণ ভারতের আরাকু উপত্যকা ও পুদিগাই মালাই পাহাড়, সব মিলিয়ে দেশে নিরাপদ ও টেকসই ট্রেকিং ও হাইকিং রুট তৈরি করা হবে। এর ফলে একদিকে যেমন প্রকৃতি সংরক্ষণ হবে, তেমনই পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের জীবিকা নির্বাহের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।