
ছত্তিশগড়ের দান্তেওয়াড়ায় আত্মসমর্পণ ৩৭ জন মাওবাদীর। এদের মধ্যে ১২ জন মহিলা সদস্য। আত্মসমর্পণকারীদের মধ্য়ে ২৭ জনের মাথার দাম ছিল প্রায় ৬৫ লক্ষ টাকা। দান্তেওয়াড়ার ডিআরজি অফিসে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আত্মসমর্পণ করে মাওবাদী সদস্যরা।
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, ওই মাওবাদী সদস্যদের উপর গত কয়েক মাস ধরে নজরদারি চালাচ্ছিল ডিআরজি, বস্তার ফাইটার্স, স্পেশাল ইনটেলিজেন্স ব্রাঞ্চ ও সিআরপিএফ। মাসের পর মাস নজরদারি চালানোর পর সাফল্য ধরা দেয়। আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয় মাওবাদী সদস্যরা।
সরকারের পুনর্বাসন নীতি অনুসারে, আত্মসমর্পণকারীরা প্রাথমিকভাবে এককালীন ৫০ হাজার টাকা সাহায্য পাবে। এছাড়াও তাদের কৃষি ও কারিগরি দক্ষতার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। যাতে রোজগারের পথ খুলে যায়। সমাজের মূল স্রোতে ফিরতে কোনও অসুবিধে না হয়।
আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে রয়েছে কুমলি ওরফে অনিতা মান্ডাভি, গীতা ওরফে লক্ষ্মী, রঞ্জন মান্ডাভি এবং ভীমার মতো সদস্য। যাদের প্রত্যেকের মাথার দাম ছিল ৮ লক্ষ টাকা। এদের প্রতিজনের বিরুদ্ধে নাশকতা ও বড় ধরনের সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল। এদের মধ্য়ে ভীমা ২০২০ সালের সংঘর্ষে জড়িত ছিল। সেবার ২৬ জন জওয়ান শহিদ হয়েছিলেন। তাঁদের অস্ত্রও লুট করা হয়েছিল।
প্রশাসনের তরফে দাবি করা হয়েছে, এমনও অনেক আছে যাদের মাথার দাম ছিল ৫ লক্ষ, ২ লক্ষ ও ১ লক্ষ টাকা। তাদের বেশিরভাগজনই এরিয়া কমিটি বা জনতা সরকারের সঙ্গে যুক্ত ছিল। রাস্তা কাটা, আইইডি বানানোর মতো কাজে এরা দক্ষ। এমনও অনেকে পুলিশের কাছে ধরা দিয়েছে যাদের জন্য সরকার কোনও পুরস্কার মূল্য নির্ধারিত করেনি। তারা সাধারণত স্থানীয়স্তরে সংগঠনকে মজবুত করার কাজ করত।
পুলিশ সূত্রে খবর, গত ২০ মাসে দান্তেওয়াড়া থেকে মোট ৫০৮ জন মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছে। যাদের মধ্যে প্রায় ১৬৫ জনের জন্য পুরস্কারও ঘোষণা করা ছিল সরকারের তরফে। দেশজুড়ে এখনও মোট ১,১৬০ জন মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছে। যার মধ্যে ৯১৬ জন পুরুষ এবং ২৪৪ জন মহিলা।