Advertisement

Chhattisgarh High Court: 'ইন্টারকোর্স ছাড়া বীর্যপাত ধর্ষণ নয়', অভিযুক্তের সাজা কমাল আদালত

ইন্টারকোস ছাড়া বীর্যপাত হলে তা ধর্ষণ বলে বিবেচিত হবে না। ২০ বছর পুরনো একটি মামলার রায় বদল করে এমনই পর্যবেক্ষণ করেছে ছত্তিশগড় হাইকোর্ট। শুধু তাই নয়, মামলাটিতে সাজাপ্রাপ্ত অভিযুক্তের শাস্তিও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।

প্রতীকী ছবি প্রতীকী ছবি
Aajtak Bangla
  • ছত্তিশগড় ,
  • 19 Feb 2026,
  • अपडेटेड 2:09 PM IST
  • ইন্টারকোর্স ছাড়া বীর্যপাত ধর্ষণ নয়
  • ২০ বছর পুরনো একটি মামলার রায় বদল
  • ছত্তিশগড় হাইকোর্ট ধর্ষণের কী ব্যাখ্যা দিয়েছেন?

ধর্ষণের অপরিহার্য শর্ত ইন্টারকোর্স, বীর্যপাত নয়। ২০ বছর পুরনো একটি মামলায় রায় বদল করে এই পর্যবেক্ষণ করেছে ছত্তিশগড় হাইকোর্ট। দু'দশক আগের ওই মামলাটিতে অভিযুক্তের শাস্তিও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। আদালত জানিয়েছে, যদি পুরুষাঙ্গ যোনির উপর রাখা হয় এবং তাতে বীর্যপাত ঘটে কিন্তু ইন্টারকোর্স প্রমাণিত না হয়, তবে তা ভারতীয় দণ্ডবিধির (IPC) তৎকালীন ধারা ৩৭৫ অনুযায়ী ধর্ষণ হিসেবে গণ্য হবে না। বিচারপতি নরেন্দ্রকুমার ব্যাস গত ১৬ ফেব্রুয়ারি এই রায় দেন। এটি ছিল ২০০৫ সালের একটি ট্রায়াল কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল। যেখানে অভিযুক্তকে ধর্ষণের দায়ে ৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। 

অভিযোগ কী ছিল?
২১ মে ২০০৪ সালে নির্যাতিতা বাড়িতে একা ছিলেন। অভিযুক্ত তাঁকে জোর করে নিজের বাড়িতে নিয়ে যায় এবং পোশাক খুলে তাঁর ইচ্ছেন বিরুদ্ধে যৌন সম্পর্কের চেষ্টা করেন। নির্যাতিতার আরও অভিযোগ ছিল, অভিযুক্ত তাঁর হাত-পা বেঁধে, মুখে কাপড় গুঁজে দেয় এবং একটি ঘরে আটকে রাখে। 

সাক্ষ্যে অসঙ্গতি
আবেদনের মূল বিষয় ছিল নির্যাতিতার নিজের সাক্ষ্য। জেরা চলাকালীন তিনি বলেন, 'ওই ব্যক্তি নিজের যৌনাঙ্গ আমার যোনির উপর রেখেছিল কিন্তু ইন্টারকোর্স করেনি।' তবে সাক্ষ্যের পর্যায়ে তিনি ইন্টারকোর্সের কথাই উল্লেখ করেছিলেন। এই অসঙ্গতিকে হাইকোর্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে। আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়, নির্যাতিতার বক্তব্যই সন্দেহের সৃষ্টি করছে। একটা সময়ে তিনি ইন্টারকোর্সের কথা বললেও পরে জানান, অভিযুক্ত প্রায় ১০ মিনিট ধরে তাঁর যোনির উপর যৌনাঙ্গ রেখেছিল কিন্ত তা ভিতরে প্রবেশ করায়নি। 

আরও পড়ুন

চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রমাণ
মেডিক্যাল পরীক্ষায় দেখা যায় নির্যাতিতার হাইমেন অক্ষত ছিল। যদিও এক আঙুলের ডগা প্রবেশ করানো সম্ভব ছিল বলে জানান চিকিৎসকরা। ফলে আংশিক অনুপ্রবেশের সম্ভাবনার কথা বলা হয়। ভালভায় লালচে ভাব ও সাদা তরলের উপস্থিতিও নথিভুক্ত করা হয়। তবে চিকিৎসক ধর্ষণ হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত মত দিতে পারেননি। 

Advertisement

আদালত জানায়, এই প্রমাণ থেকে বোঝা যায়, ধর্ষণের চেষ্টা হয়েছে কিন্তু ধর্ষণ সম্পূর্ণ হয়নি। আদালত স্পষ্ট করেছে, সামান্য অনুপ্রবেশও ৩৭৬ ধারা অনুযায়ী দণ্ডনীয়। তবে প্রামণ থাকতে হবে যে অভিযুক্তের যৌনাঙ্গের কোনও অংশ নারীর যোনির ভিতরে প্রবেশ করেছিল। 

আদালতের পর্যবেক্ষণ
আদালত মনে করে, অভিযুক্ত জোর করে নির্যাতিতাকে ঘরে নিয়ে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিয়েছিল, এটি ছিল প্রস্তুতি। এরপর উভয়ের পোশাক খুলে যৌনাঙ্গ ঘষা ও আংশিক অনুপ্রবেশের চেষ্টা ছিল অপরাধের উদ্দেশে প্রত্যক্ষ পদক্ষেপ। তবে যেহেতু পূর্ণ ইন্টারকোর্স হয়নি তাই এটি সম্পূর্ণ ধর্ষণ নয়, বরং ধর্ষণের চেষ্টা। ফলে আদালত ভারতীয় দণ্ডবিধির ৫১১ সহ ৩৭৫ অনুযায়ী, অভিযুক্তকে ধর্ষণের চেষ্টার দায়ে দোষী সাব্যস্ক করে। 

কমল শাস্তি 
হাইকোর্ট অভিযুক্তের সাজা কমিয়ে ৩ বছর ৬ মাস কারাদণ্ড নির্ধারণ করেছে। তাঁকে ২ মাসের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

 

Read more!
Advertisement
Advertisement