
গত মে মাস থেকে লাদাখ সীমান্তে সেনা বাড়িয়ে চলেছে চিন। যার ফলশ্রুতি ১৫ জুন দুই দেশের সেনার মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ। এই সংঘর্ষে শহিদ হতে হয় ২০ জন ভারতীয় জওয়ানকে। তারপর থেকেই চাপা উত্তেজনা বর্তমান দুই প্রতিবেশী দেশ ভারত ও চিনের মধ্যে। দুই দেশ একাধিকবার কূটনৈতিক ও সামরিক বৈঠক করলেও সেই চাপা টেনশন এখনও দূর হয়নি। চিন একাধিকবার বিতর্কিত এলাকা থেকে সেনা সরানোর কথা বললেও কাজে-কলমে এখনও পর্যন্ত তা করে ওঠেনি। এই আবস্থায় আসন্ন শীতে লাদাখে ভারতীয় সেনা জওয়ানদের দেশমাতার পাহাড়ায় যাতে কোনও অসুবিধা না হয় তার জন্য নেওয়া হল বিশেষ ব্যবস্থা। লাদাখের হাড় কাঁপানো শীতে স্মার্ট ছাউনি বানান হল ভারতীয় সেনার জন্য।
নভেম্বরের শেষ থেকে প্রবল তুষারপাত শুরু হয়ে যাবে লাদাখে। কখনও কখনও তা ৪০ ফুট পর্যন্ত উঁচু হয়ে যায়। তাপমাত্র চলে যায় হিমাঙ্কের ৪০ ডিগ্রি নীচে। টানা ৬ মাস ঠান্ডা থাকে লাদাখে। চিনা সেনার পাশাপাশি এই কনকনে ঠান্ডা মোকাবিলা করাও ভারতীয় সেনা জওয়ানদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। শীতের লাদাখে যে এবা চিনের আগ্রাসন রুখতে সেনা সরানো যাবে না তা আগেই সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছে ভারতীয় সেনা। এই বিষয়ে লাদাখে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছেন খোদ সেনা প্রধান নারাভানে। লাদাখের হিমাঙ্কের নীতে এই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে জওয়ানদের জন্য এবার থাকার ব্যবস্থা করে ফেলল ভারতীয় সেনাবাহিনী। যে ছাউনিগুলিতে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের ৪০-৩০ ডিগ্রি নিচে নেমে গেলেও কোনও সমস্যা হবে না জওয়ানদের। সেনার জন্য তৈরি এই আবাসনে বিদ্যুৎ, জল, হিটারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও জওয়ানদের স্বাস্থ্য ও ক্যাম্পে পরিচ্ছনতার ওপর নজর দেওয়া হয়েছে। ফলে শীতকালীন সংঘাতের জন্য যে ভারতীয় সেনা বেশ প্রস্তুত তা বেজিংকে বার্তা দিয়ে রাখল দিল্লি।
লাদাখে চিন ভারত সংঘাতের মাঝে ফরোয়ার্ড পজিশনে মোতায়েন রয়েছে শ'য়ে শ'য়ে ভারতীয় সেনা। সেখান থেকে তারা চিনের ওপর নজর রাখছে। একটু এদিক ওদিক দেখলেই চিনকে ছেড়ে কথা বলতে রাজি নয় ভারতীয় সেনা। লাদাখের হাড়কাঁপানে ঠান্ডায় সেনাদের সুস্থ রাখতে তাই গত জুলাই মাস থেকে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে সেনাবাহিনী। কারণ চিনের সঙ্গে শুরু হওয়া এই উত্তেজনা সহজে মেটার নয় তা মোটামুটি স্পষ্ট। এখনও লাদাখের বিভিন্ন এলাকায় তাপমাত্র মাইনাস ২০ ডিগ্রি থেকে মাইনাস ২৫ ডিগ্রি। এরপর তা আরও কমবে। সেই কারণে আগেই আমেরিকা থেকে বিশেষ ঠান্ডায় পরার পোশাক জওয়ানদের জন্য আমদানি করেছে ভারত। লাদাখের বিভিন্ন জায়গায় মজুত করা হয়েছে কেরসিনের হিটার, তাঁবু, খাবার, ওষুধ সহ অন্যান্য সামগ্রী। লাদাখের উঁচু এলাকায় যেসব সেনা মোতায়েন থাকবেন তাঁদের জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছে বিশেষ হিটেড তাঁবু।
ফলে জিনপিংয়ের ড্রাগন বাহিনী যতই আগ্রাসনের চেষ্টা করুক প্রবল ঠান্ডাতেও লালফৌজকে রুখতে প্রস্তুত এদেশের বীর জওয়ানরা।