
পদ্ম পুরস্কার দেওয়ার ক্ষেত্রেও কি আসন্ন নির্বাচনকেই মাথায় রাখছে বিজেপি সরকার? কংগ্রেসের অন্তত অভিযোগ তেমনটাই। ৫৩ বছর বয়সী কংগ্রেস নেতা প্রবীণ চক্রবর্তীর দাবি পদ্ম পুরস্কারের ক্ষেত্রেও নির্বাচনীকরণ করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, মোদী সরকার এই পুরস্কারকে নির্বাচনের একটি হাতিয়ার করে তুলেছে। শুধু এই বছর নয়, বারেবারেই এমনটা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রবীণ।
এক্স হ্যান্ডেলে তিনি দাবি করেছেন, এই বছরের পদ্ম পুরস্কার প্রাপকদের মধ্যে ৩৭ শতাংশই নির্বাচনী রাজ্য থেকে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু দেশের সামগ্রিক জনসংখ্য়ার বিচারে এই রাজ্যগুলির জনসংখ্যা মাত্র ১৮ শতাংশ।
একটি ছবিতে তথ্য শেয়ার করে কংগ্রেস নেতার দাবি, এই বছর মোট পদ্ম পুরস্কার প্রাপকদের সংখ্যা ১২৫। সামনেই নির্বাচন রয়েছে এমন রাজ্যের মধ্যে রয়েছে অসম, কেরল, পুদুচ্চেরি, তামিলনাড়ু ও পশ্চিমবঙ্গ। এই রাজ্যগুলি থেকে মোট পদ্মপ্রাপকদের সংখ্যা ৩৭ শতাংশ। যেখানে দেশের মোট জনসংখ্যায় এই রাজ্যগুলির অবদান মাত্র ১৮ শতাংশ।
বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রকে খোঁচা দিতে ছাড়েননি আর এক কংগ্রেস নেতা কার্তি চিদাম্বরামও। তিনি বলেন, "যদি 'এক দেশ এক নির্বাচন' হত, তাহলে পদ্ম পুরস্কার প্রাপকদের নাম বেছে নেওয়া সরকারের পক্ষে পক্ষে খুব কঠিন হত। এখন বিষয়টা অনেক সহজ। শুধু নির্বাচনী রাজ্যগুলি থেকে পুরস্কার প্রাপকদের নাম বেছে নিলেই হল।"
প্রসঙ্গত, জল্পনা অনুযায়ী আগামী এপ্রিলেই নির্বাচন রয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। বাংলা থেকে এবারে পদ্ম পুরস্কার পেয়েছেন মোট ১১ জন। তবে এবছর প্রত্যেকেই রয়েছেন পদ্মশ্রী প্রাপকদের তালিকায়। বাংলা থেকে কোনও ব্যক্তিই এবছর 'পদ্মবিভূষণ', 'পদ্মভূষণ' পাননি।
বাংলা থেকে যে ব্যক্তিরা এই পদ্মশ্রী পেলেন তাঁরা হলেন, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, শ্রী অশোক কুমার হালদার, শ্রী গম্ভীর সিং ইয়োনজোন, শ্রী হরি মাধব মুখোপাধ্যায়, শ্রী জ্যোতিষ দেবনাথ, শ্রী কুমার বোস, শ্রী মহেন্দ্র নাথ রায়, শ্রী রবিলাল টুডু, শ্রী সরোজ মণ্ডল, শ্রী তরুণ ভট্টাচার্য, শ্রী তৃপ্তি মুখোপাধ্যায়।