
দেশের স্বচ্ছতম শহর ইন্দোরে দূষিত হচ্ছে জল। শৌচকর্মের জল গিয়ে মিশনে খাবার জলের পাইপে। আর তাতেই অসংখ্য মানুষ ডায়রিয়া আক্রান্ত হচ্ছেন। ইতিমধ্যেই মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের। তালিকায় রয়েছে এক ৬ মাসের শিশুও। যার দুধে একটু জল মিশিয়েছিলেন মা, আর সেই দূষিক জলই প্রাণ কাড়ল হাজার মানত করার পর কোলে আসা একরত্তির।
ঠিক কী হয়েছে ইন্দোরে?
ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাবের নেপথ্যে রয়েছে দূষিত জল। ইন্দোরের এক ল্যাবরেটরির পরীক্ষার রিপোর্ট নিশ্চিত করেছে এমনটাই। ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে এখনও পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে শহরে। আক্রান্ত ১৪০০-রও বেশি। শয়ে শয়ে মানুষ ভর্তি হাসপাতালে। নাগাড়ে বমি এবং পেটে যন্ত্রণা হচ্ছে তাঁদের। ৩২ জনকে ভর্তি রাখতে হয়েছে ICU-তে।
ভাগীরথপুরা এলাকায় এই প্রাদুর্ভাব প্রথম শুরু হয়। টানা ৮ বছর ধরে স্বচ্ছ শহরের তকমা পাওয়া ইন্দোরের জলে এমন দূষণ রীতিমতো উদ্বেগে ফেলে দিয়েছে প্রশাসনকে। শহরের মুখ্য চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য আধিকারিক (CMOH) ডাঃ মাধবপ্রসাদ হাসানি সাংবাদিকদের জানান, শহরের একটি মেডিক্যাল কলেদে প্রস্তুত করা ল্যাব রিপোর্টে নিশ্চিত হয়েছে, ভাগীরথপুরা এলাকায় পানীয় জলের পাইপলাইনে লিকেজের কারণে জল দূষিত হচ্ছে। যদিও তিনি রিপোর্টের বিস্তারিত প্রকাশ করেননি। পিটিআই সূত্রে খবর এমনটাই।
প্রশাসনের তরফে জানা গিয়েছে, ভাগীরথপুরার একটি পুলিশ স্টেশনের কাছে প্রধান পানীয় জলের পাইপলাইনে লিকেজ ধরা পড়ে। ওই জায়গার উপরই একটি শোচালয় নির্মিত ছিল বলে দাবি। যার ফলে পাইপলাইনে শৌচকর্মের দূষিত জল ঢুকে পড়ে এবং এলাকার জল সরবরাহ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
অতিরিক্ত মুখ্যসচিব সঞ্জয় দুবে জানান, ভাগীরথপুরার পুরো পানীয় জলের পাইপলাইন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যাতে অন্য কোথাও লিকেজ আছে কি না, তা নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, 'পরিদর্শনের পর বৃহস্পতিবার থেকে এলাকায় পরিষ্কার জল সরবরাহ শুরু হয়েছে। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বাসিন্দাদের জল ফুটিয়ে পান করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।'
এই বিপর্যয় থেকে শিক্ষা নিয়ে গোটা রাজ্যের জন্য একটি SOP জারি করা হবে বলেও খবর। মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের নির্দেশে জল সরবরাহ ব্যবস্থার উপর নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। এত মৃত্যুর জন্য মানবাধিকার কমিশন মধ্যপ্রদেশ সরকারকে নোটিশ পাঠিয়েছে।
বর্তমানে কী পরিস্থিতি?
ইন্দোরের বাসিন্দা এক মা ১০ বছর ধরে মানত করার পর সন্তানলাভ করেছিলেন। কিন্তু বুকের দুধ খাওয়াতে না পারায় চিকিৎসকের পরামর্শেই খাওয়াতেন প্যাকেট দুধ। মিশিয়ে দিতেন একটু ট্যাপের জল। আর সেটাই কাল হল। ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় ৬ মাসের ওই একরত্তির। এদিকে, স্বাস্থ্য দফতরের হিসেব অনুযায়ী, গত ৮ দিনে ২৭২ জন রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭১ জন সুস্থ হয়ে ছাড়া পেয়েছেন। বর্তমানে ২০১ জন হাসপাতালে ভর্তি। যার মধ্যে ৩২ জন ICU-তে চিকিৎসাধীন।